ভুবনমোহিনী নাটকের অতিনাটকীয় নায়ক!

বিশ্বাস হচ্ছে না! কোনো ভাবেই না!

৬৭ বলে ৩ রান। ১৫২ বলে ৫০ রান। ১৯৯ বলে ১০০ রান। ২১৯ বলে ১৩৫ রান। বেন স্টোকস শিখিয়ে গেলেন কিভাবে টেস্ট ব্যাটিং করতে হয়, কিভাবে খাদের কিনারায় দাঁড়ানো একটা দলকে অতিমানবীয় কায়দায় টেস্ট জেতাতে হয়!

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং লজ্জায় যাদের মাথা হেট হতে বাধ্য হয়েছিল, অল আউট হয়েছিল ৬৭ রানে, সেই ইংলিশদেরই এখন মাথা উঁচু। হেডিংলি টেস্ট তারা জিতে গেছে এক উইকেটে। কত নাটক যে চলেছে তা জয়ের ওই ব্যবধানই বলে দিচ্ছে।

আর এই নাটকের নায়ক একজন অতিনাটকীয় স্টোকস, যিনি ক’দিন আগেই ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। তবুও, এই হেডিংলি টেস্টের শেষ ইনিংসেই গ্যালারি থেকে দর্শকরা এক হয়ে জুতো পর্যন্ত দেখিয়েছেন। সে অপমানটা গায়ে মেখেছেন কি না জানা যায়নি, তবে বিজয়ের রঙটা ঠিকই তাঁর ব্যাটে স্পষ্ট।

টেস্টে এমন ম্যাচ জেতানো ইনিংস বিরল বললেও কম বলা হয়। সেখানে হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারার নাম আসবে, পাকিস্তানের ইনজামাম উল হকের মুলতান কাণ্ডের স্মৃতি আসবে, কিংবা আসবে সাম্প্রতিক সময়ের কুশল পেরেরার প্রসঙ্গ। কিন্তু, স্বয়ং অ্যাশেজের মঞ্চ বলেই কি না, স্টোকসের ইনিংসটা এখন থেকে তালিকার ওপরের দিকেই থাকবে।

টেস্টে কিভাবে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে খেলতে হয় সেটা স্টোকসের চেয়ে কেই বা ভাল জানেন। ধীরগতিতে শুরু করলেন। শেষটা হল দানবীয়। টেল এন্ডার জ্যাক লিচকে সাথে নিয়ে লড়াই করলেন। নিজের ইনিংসের শেষ ৭৭ রান করতে গুণলেন মাত্র ৪৪ বল। ভাবা যায়!

কে জানতো এমন অভাবনীয় কিছু ঘটবে হেডিংলির মাঠে! জানলে কি আর দর্শকরা দুয়ো দেয়! এখন অন্তত নিজেদের কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে তাঁরা বলতেই পারেন – স্যালুট স্টোকস! ভাগ্যিস তুমি নিউজিল্যান্ডের হয়ে না খেলে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলছো!

এমন একজন ক্রিকেটারকে তো এখন মাথায় তুলে রাখতেই হয়। বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর গুঞ্জন ছিল, এবার নাইটহুড দিয়ে দেওয়া হবে স্টোকসকে। ইংরেজ রানীর কাছ থেকে পাবেন অনন্য সম্মাননা। নামের আগে যোগ হবে ‘স্যার’।

খন সম্ভবত আর গুঞ্জন নয়, ঘটা করেই তাঁকে এক গাদা খেতাব-টেতাব দিয়ে দেওয়া যায়। ইংল্যান্ড আদিখ্যেতা দেখিয়ে ভাস্কর্য বানিয়ে ফেললেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিংবা তাঁর চেয়েও বেশি কিছু। এমন একটা চরিত্র ব্রিটিশ ক্রিকেটে দূরের কথা, ক্রিকেট বিশ্বেই বিরল!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।