হাইট নয় ফাইটে বিশ্বাস আমার

আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বসবাস করি যেখানে একজনের নিজস্বতা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়। প্রত্যেকেই এখানে অন্য আরেকজনের মত হতে চান, এমন কিছু একটা করতে চান যা আসলে তাঁরা নন। সব সময় তাঁরা যা নিজেদের মধ্যে নেই, তাই নিয়ে হা-হুতাশ করেন। অথচ, চাইলেই নিজেদের মধ্যে যা আছে সেটা কাজে লাগিয়ে তাঁরা সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।

যেমন এগিয়ে গেছেন রাজপাল যাদব। অভিনেতা মানেই তাঁকে লম্বা-চওড়া হতে হবে – এই ধারণাকে ভেঙেছেন তিনি। খাটো গড়ণের হওয়ার পরও তাঁর কমেডিয়ান স্বত্ত্বাকে আটকে রাখা যায়নি। বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তিনে শক্তিশালী একটা জায়গা দখল করে আছেন। দীর্ঘ দুই দশকে তিনি ১০০টিরও বেশি সিনেমায় কাজ করেছেন। কখনো তিনি আমাদের রাগিয়েছেন, কখনো হাসিয়েছেন, আর হ্যা, কখনো-কখনো কাদিয়েছেনও।

এই রাজপাল যাদব মুখোমুখি হয়েছেন কেনফলিওস.কমের। ক্যারিয়ারের নানা রকম সমালোচনার জবাব দেওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। একের পর এক বাঁধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প শুনিয়েছেন।

সার-সংক্ষেপ

প্রথমে আম ভাবতাম যারা ব্যক্তিত্বশীল, সুদর্শন ও শারীরিক ভাবে সুঠাম হয়ে থাকেন তাঁরা খু্বই ভাগ্যবান। প্রথমে ভাবতে কষ্ট হত যে গড়পড়তা মানুষের থেকে আমার উচ্চতা বেশ কম। তবে, যখন আমি এই সত্যিটা মেনে নিতে পেরেছি তখন থেকে আমি নিজের সামথ্যের প্রতি জোর দিয়েছি, এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করেছি। আমি বুঝতে পেরেছি ভাগ্য কারো শারীরিক আকারের ওপর নয় বরং মানসিক সৌন্দর্য্যের ওপর নিভূর করে। তাই আমি হাইট থেকে মনোযোগ সরিয়ে ফাইটের দিকে মনোযোগ দেই।

শুরুর ভাবনা

আমি শিখেছি যে, জীবনের ব্যাপারে কেউ পুরোপুরি বিশেষজ্ঞ হতে পারে না। কারণ, এখানে প্রতিটা দিনই তো নতুন। তাই, জীবনে আমি কখনো হাল ছাড়িনি। আমি পেছনে ফিরে তাকাতে পছন্দ করি না। তবে, ফেলে আসা জীবনটার স্মৃতিচারণা করি আমি, জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলোকে সব সময় সাথে রাখি। সেসবই তো আজকের আমাকে বানিয়েছে। তাই অতীতের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

আমি সব সময় মনে রাখি, জীবনের প্রতিটা দিন আমাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিয়েছে। সুযোগ দিয়েছে লড়াই করার, জয় করারা। আপনি যা অর্জন করেছেন তাকে মেনে নিন, তাকে গ্রহণ করুণ। যা আপনার নয়, তাকে বর্জন করুন, আর থেকে শিক্ষা নিন।

অনুপ্রেরণার নাম চার্লি চ্যাপলিন

জীবন আমাকে জটিল সব ধাঁধার মুখোমুখি করেছে। যতবারই আমি এমন সব জটিলতায় হতবুদ্ধি হয়েছি, ততবারই আমি স্মরণ করেছি চার্লি চ্যাপলিনকে। আমরা সবাই জানি, শো চলাকালেই মা বোবা হয়ে যাওয়ার পরও কতটা জোর করে তাঁকে দর্শক বোঝাই মিলনায়তনের মঞ্চে পাঠানো হয়েছিল।

যদিও, ওই সময় চ্যাপলিন একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। তারপরও তিনি এতটাই অতিমানবীয় ভাবে পারফরম করেছিলেন যে, দর্শকদের চেহারাগুলো খুঁশিতে ঝলমল করে উঠছিল। ওই দিন তার সামনে দু’টো রাস্তা খোলা ছিল – করো না হয় মরো। তিনি করার রাস্তায় হেঁটেছিলেন, আর চিরদিনের জন্য একটা অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত রেখে যান। সেই থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছি – যোদ্ধারা জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা থেকেই জন্ম নেন।

খ্যাতির মহাসড়কে

প্রবাদ আছে, এক খাপে কখনো জোড়া তলোয়ারের জায়গা হয় না। যেখান ইতিবাচকতা আছে সেখানে হতাশার জায়গা নেই। তাই, যে ব্যক্তি নিজেকে আশাবাদী বলে মনে করেন, তিনি কখনোই মর্মপীড়িত হতে পারেন না। একটাকে আরেকটার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতেই হবে। এভাবেই একজনের ইচ্ছা-অনিচ্ছা একজনের জীবনের কাব্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আমি ভাগ্যবান যে আমি জীবনের আলোকিত সময়টা বাস্তবে পেয়েছি। তবে, একই সাথে আমি জীবনে সত্যিকারের কঠিন সময় বার বার দেখেছি। জীবনের কষ্টগুলো আমে জর্জরিত করেছে, কিন্তু ভেঙে চুরমার করতে পারেনি। আমি মনে করি জীবনের অন্ধকার সময়গুলো অস্থায়ী। আমি সব সময় মনে রাখি, কালো রাতকে ছাপিয়ে সব সময় উজ্জ্বল সকালের আগমণ ঘটে। আর এটা সহজভাবে খুবই সত্যি যে কোনো বিপুল ক্ষমতাশালী শক্তিও প্রকৃতির এই আইনকে পাল্টাতে পারবে না।

তাই, নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী হউন। আপনার চারপাশের মানুষকে ভালবাসুন। জীবনে যাদের কাছাকাছি হবেন তাদের প্রতি দয়ালু ও নিষ্ঠাবান হউন। নিজের জীবনের লক্ষ্যের প্রতি যত্নশীল হউন। সামনে এগিয়ে চলুন, আপনার স্বপ্নেরা আপনাকে অবশ্যই সুন্দরভাবে বাড়ি পৌছে দেব।

ছোট থাকলেই বড় হওয়া যায়। শৈশবে কখনোই আমি ছোট ছিলামনা। এখন বয়স হলেও বড় হতে পারিনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।