বিসিবি নির্বাচকদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ও তাঁর খণ্ডন

বাংলাদেশে যেমন প্রতাপশালী অধিনায়ক আর বোর্ড সভাপতি আছেন, তাতে আসলে জাতীয় দল গঠনে নির্বাচকদের বড় কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ সামান্যই। সেখানে তাই নির্বাচকদের স্বজনপ্রীতি, কোনো বিশেষ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ‘খায়ে’ দেওয়া, দলের মধ্যে ‘অমুক’ কোরামের অংশ হওয়া – এই জাতীয় ইস্যূগুলো খুব নিম্নমানের চায়ের দোকানের আলাপ। বরং, তাসকিনকে রেখে কেন বিদেশ ঘোরাতে রাহিকে ইংল্যান্ড নেওয়া হল সেই নিয়ে ‘ক্রিকেটীয়’ সমালোচনা চলতে পারে!

নান্নু ভাই , সুমন ভাইদের ‘কারিশমা’ দেখানোর সুযোগ ‘এ’ দল, আন্ডার নাইন্টিন ইত্যাদিতে। সেখানে তাঁরা বড় কিছু যেমন করতেও পারেন নাই, বড় কোনো ব্লান্ডারও করেন নাই।

যদিও, আফগানিস্তান দলের ‘এ’ দলের যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের পর নান্নু ভাইয়ের বাদ পড়া অলমোস্ট নিশ্চিতই ছিল। অন্তত বোর্ডের একটা অংশ পাইলট ভাইকে নির্বাচক কমিটিতে আনতে চাচ্ছিল। কিন্তু, সমস্যা অন্য জায়গায়। ২০০৩ বিশ্বকাপে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই পাইলট ও বাংলাদেশ দলের ভেতরের অবস্থা কমোডর মুজিবুর রহমান কমিশন গঠন করা হয়। তাতে, সেই বিশ্বকাপের অধিনায়ক পাইলটের ব্যাপারে অনেক বিতর্কিত অধ্যায়ের উল্লেখ ছিল। ওই সময় ডেইলি স্টার পুরো রিপোর্টটা হুবহু ছাপিয়েছিল। সেটা খুঁজে পড়ে নিতে পারেন।

যাই হোক, এই কমিশনের একটা সুপারিশ ছিল যেন পাইলটকে ভবিষ্যতে আর কখনোই জাতীয় দলের বা বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে রাখা না হয়। যদিও, গেল নিউজিল্যান্ড সফরেও তিনি টিম ম্যানেজার ছিলেন।

নিউজিল্যান্ড সফরের আগে এই ইস্যূতে আমাদের মিডিয়া রিয়্যাক্ট করার সুযোগ পায় নাই। এবার নির্বাচকদের এই ইস্যূটা বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচিত হওয়ার কারণে মিডিয়ার ক্যাচ করতে সুবিধা হয়েছে। তার প্রভাবটাই গতকালের বোর্ড মিটিংয়ে পাওয়া গেছে। নির্বাচক হিসেবে টিকে গেছেন নান্নু-সুমন।

সমর্থকরা যথারীতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন এই ব্যাপারেও। বিরুদ্ধাচারীরা কয়েকটা অভিযোগ আবারো পেশ করেছেন। আমি তাদের মধ্য থেকে বড় একটা অভিযোগ খণ্ডন করি।

বরাবরই একটা কথা বলা হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স নাকি তারা মূল্যায়ন করেন না। কথাটা খুব মিথ্যা নয়। কেন মূল্যায়ন করেন না? তাঁদের ভাবনাটা আসলে কি?

এই আলোচনায় ‘পাবলিক চয়েজ’ শাহরিয়ার নাফিস, নাঈম ইসলাম আর তুষার ইমরানের কথা আসবে। কারণ এই তিনজনই লম্বা সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করেও জাতীয় দলের বাইরে থেকেছেন।

নাঈমের বয়স ৩২+, নাফিসের বয়স ৩৪+, আর তুষারের বয়স প্রায় ৩৬। উপমহাদেশের ক্রিকেটীয় কালচারে ত্রিশোর্ধ্ব কারো ওপর বাজি ধরার রেওয়াজ নেই বললেই চলে। যদিও এই তিনজনকে এরপরও দলে না নেওয়ার আরো অনেক কারণ আছে।

প্রথমত, তিনজনের কেউই এখন আর ইন্টারন্যাশনাল ওয়ানডের স্ট্যান্ডার্ডে ব্যাট করেন না। যেসকল সমর্থক তাদের ওয়ানডেতেও ফেরানোর দাবী করেন, সেই দাবীর নেপথ্যে থাকে ক্রিকইনফোর গাদা গাদা স্কোরকার্ড। সেখানে রানগুলো কিভাবে এল, ফিটনেস কেমন, বোলিং অপনেন্ট কে, উইকেট কেমন, ফুটওয়ার্ক ঠিক আছে কি না, রানিং বিটিউন দ্য উইকেটের খবর কি, কিংবা (সবচেয়ে বড় ব্যাপার) ইনিংসগুলো আদৌ দলের কতটা কাজে এসেছে – সেসব বোঝা যায় না। সেটা বোঝা গেলে এখন যেমন তামিম-মাশরাফির ডেডিকেশন নিয়ে সন্দেহ উঠছে, তাদের ব্যাপারেও উঠে যেত। এই সময়ে তাই ওয়ানডের ক্ষেত্রে এদের ওপর আর বিনিয়োগ করা যায় না।

তবে, আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, টেস্ট ক্রিকেটে দেশের মাটিতে এক দু’টো টেস্টে এই তিনজনের সবাইকেই সুযোগ দেওয়ার দরকার ছিল। মিডল অর্ডার বড় একটা সময় নড়বড়ে ছিল ক’দিন আগেও। জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই পরীক্ষা চালানোই যেত। আর এটা একরকমের হেলদি কম্পিটিশনের স্কোপ ক্রিয়েট করে দলের মধ্যে। ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরমারদের জন্য এটা রিওয়ার্ড, আর দলের মধ্যে থাকা থিতু হয়ে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য এটা আরো ভাল করার বার্তা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।