‘ব্যাথা থাকলেও জোর করে খেলাবো এই প্রশ্নই ওঠে না’

আমাকে সাকিব বলেছে, আঙুলের জন্য আমার এই সমস্যা। আমি বলেছি, তুমি ডাক্তারের সাথে দেখা কর। এমন যদি হয়, এখন না করলেও চলবে। তুমি এটা তারপর করো। তারপর সে মক্কা এবং মদীনায় দেখা। আমি বলেছি, তোমার সিদ্ধান্ত। ও বলল, ফিজিও বলে দিয়েছে অসুবিধা নাই। খেললে খারাপ হতে পারে কি না। আমি বলেছি, না। এটাই শেষ কথা হয়েছে। আমি হজ করে আসছি, চার দিন পর আমি মেইল দেখলাম, সাকিব টিমের সাথে জয়েন করবে না। ওখান থেকে সে এশিয়া কাপ খেলার জন্য আসছে। তখন আমরা জানলাম সে খেলছে।

যখন নাকি পাকিস্তানের সাথে খেলার আগের দিন আমি চলে আসি মাঠ থেকে, হোটেলে দেখি সাকিব আর কয়েকজন বসা। ওখানে হাতটা দেখেছি, দেখি ফুলে গেছে। কথায় কথায় বলছে, ও খেলতে পারবে না। কয়েকজন পাশ থেকে বলল, এটা সেমিফাইনাল, খেলতে হবে। আমি তখন বলেছি, তুমি এখন এখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাও। ওর সাথে ওখানটায় আমার শেষ কথা হলো। আমি জানতাম ও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। ও ভয় পাচ্ছে, পুঁজ বের হবে। তোমার এই অবস্থা থেকে থাকে, এটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

এরপর ওর সাথে কথা বলল, ও বলল ভালো আছে। ওকে হাসপাতালে দেখতে গেলাম। ঔষধের কী চেঞ্জ হবে, এসব নিয়েও কথা বললাম। আমি তো এই লাইনে অনেক বছর থেকে আছি। তখন আমাকে বলল আমি আগে লন্ডন হয়ে আমেরিকায় যাব। পরদিন তাকে রিলিজ করবে। রাতে গিয়ে আমাকে বলল আমি বাসায় চলে আসছি।

হাসপাতালে কথা হয়েছিল ও যাবে আগে লন্ডন। এরপর ঠিক করবে ও ওখানে করবে না আমেরিকায় করবে। এরপর আমি ইস্তাম্বুলে গিয়ে শুনলাম ও অস্ট্রেলিয়া গেছে। কাল ওর সাথে কথা হয়েছে। বলল, আজকে রিপোর্ট পাবে। ও খেলতে গিয়ে ব্যথা পেত তাহলে বুঝতাম। তাহলে এরকম হলো কী করে? হঠাৎ করে হাতে এমন পুঁজ হলো কী করে। এটা আমাদের কাছে বিরাট প্রশ্ন। ওকে আমাকে যেটা বললাম তিন মাস রেস্ট। অপারেশনের কথা জানতে চাইলাম, আমাকে সবাই বলছে অপারেশন করে লাভ নাই।

আমাকেও ও বলল, অপারেশন করে লাভ নেই, লাগবে না। এখনো ওই জায়গায় আছে। এখনো ইনফেকশন কন্ট্রোলে আছে।এটা সাকিবের কথা, ডাক্তারের সাথে কথা বলি নাই। এর মধ্যে আমি দেবাশীষকে (বিসিবির ডাক্তার) ফোন করি। আমরা সবাই এটা নিয়ে বেশ অবাক। এক দিনের মধ্যে এত পুঁজ, এত সিরিয়াস হলে কী করে। ওদের সাথে কথা বলে বুঝলাম, ইনফেকশন ওদের পক্ষে বোঝা কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ইনজেকশন দিয়েছে, এখন ওই ইনজেকশনের জন্য হলো কি না জানি না। আগে থেকে একটু থাকলে স্টেরয়ডের জন্য বাড়তে পারে। কিন্তু সেটাও বলা যাচ্ছে না। ও কমপ্লেইন করে নাই। আসল পরিস্থিতিটা আমরা জানি না, জানার চেষ্টা করছি।

আমি তো আপনাকে বলেছি। আপনারা প্রথমত বলতে পারেন, এশিয়া কাপের পরে সার্জারি কেন এমন বললাম। আমি ওদিন বললাম, এটা প্রথম শুনেছি। ওর সার্জারি লাগবে সেটাই তো জানি না। সমস্যা তো থাকবে। আমাকে ডাক্তাররা বলছে, ৭০ শতাংশ থাকলেই হবে। এটা নিয়ে খেলতে পারবে। আর সার্জারি করলে আগের অবস্থা হবে এমন গ্যাড়াটি নেই। এটার কথা কেউ বলেই নাই। যদি বলত, আপনারা আমাকে বলেন, এর আগে আমেরিকায় এক দেড় মাস ছিল, বসে ছিল। তখনই তো করতে পারত।

আমাকে সে মক্কা-মদীনাতে বলেছে, ফিজিও বলেছে এটা খেললে এটা বাড়ার কোনো সুযোগ নাই। কোনো অসুবিধা নাই। সে খেলতে পারে। তারপরও বলেছি একজন ডাক্তার দেখাও। আমার ধারণা ছিল অস্ট্রেলিয়া , ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে করতে পারে। কিন্তু আমাদের ধারণা ছিল, সার্জারি কোনো ডাক্তার করতেই বলেছে এমন নয়। এই জিনিস ছিল সাকিব, ফিজিও ও ডাক্তারের ওপর। সাকিব এশিয়া কাপের আগেই করতে চায়, সার্জারির আগে। আমি বলেছি, এশিয়া কাপে খেলা গেলে সে এর পরে করুক। আমার কথা হচ্ছে, পারলে খেলুক।

একটা কথা, সবাইকে বাদ দিয়ে রেখে দিতে পারি। কিন্তু খেলতে গেলে ব্যথা পেতে পারে। ডাক্তারের কাছ থেকে কিছু জানার আগ পর্যন্ত কিছু বলা যায় না। লাস্ট তাকে বলেছি, ডাক্তার দেখাও।

আমি শুধু সাকিবের কথা শুনেছি। ফিজিওর সাথে কথা হয়নি। একটা জিনিস আমাকে বলা হয়ছে, হাতের ইনফেকশন এভাবে বোঝার উপায় নাই। যখন নাকি ইনজেকশন দেয় তখন ইনফেকশন কি না বলার উপায় নেই। আমাদের যে কোনো খেলার ব্যাপারে যদি চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো ব্যাপার থাকে, তাহলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। সাকিব আমাদের সবচেয়ে ‘কি প্লেয়ার’। তিনটি প্লেয়ারের বিকল্প নাই, তামিম, সাকিব এবং অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির বিকল্প নাই। সবাই তো তামিম, সাকিব ও মাশরাফির অভাব পূরণ করতে পারবে না। ওর জন্য কোনো ক্ষতি হোক সেটা কেউ চায় না। ও আমাদের সেরা সম্পদ।

এখন ইনফেকশন ঔষধ দিলে ভালো হয়ে যায়, অপারেশন আর লাগবে না সেটা আমার ধারণা। ও নিজের সন্তুষ্টির জন্য অপারেশন করাতে চাইলে সমস্যা নাই। বাইরে ডাক্তার যদি বলে, ও ভালো আছে, ও খেলতে পারবে। নিদাহাস ট্রফির পর ব্যাংকক অস্ট্রেলিয়ায় গেল, ওর পছন্দ মতো। এরপর আইপিএলের জন্য যখন পাসপোর্ট জমা দিল, তখনই বলতে পারল খেলতে পারবে।

যদি সব ঠিক থাকে, অপারেশন লাগবে না। ব্যাথা থাকলেও জোর করে খেলাবো এই প্রশ্নই ওঠে না। সাকিব ভালো হয় যাবে, খুব ভালোভাবে উন্নতি করছে। আমরা আরও চেষ্টা করছি, এক্স্যাক্টলি কী কারণে এমন হলো। আমার ধারণা, দুই তিন মাস তো লাগবেই। আমার জানা মতে, কোনো ইনফেকশন এতোদিন লাগার কথা না। ডাক্তারের রিপোর্ট দেওয়ার পর বাকিটা বলতে পারবো।

__________

সংবাদ মাধ্যমে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।