নাটবল্টুর কারখানা থেকে হোয়াইট হাউজের যাত্রা

বারবারা বুশকে আসলে নতুন করে চেনানোর কিছু নেই। তিনি আমেরিকার এক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, আরেক প্রেসিডেন্টের মা। তাঁর স্বামী জর্জ ডব্লিউ বুশ হলেন আমেরিকার ৪১ তম প্রেসিডেন্ট। আর ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র আমেরিকার ৪৩ তম প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক অনেক কারণেই এই বাবা ও ছেলে সমপরিমান আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত।

একই সাথে বারবারা বুশও কম আলোচিত চরিত্র নন। ফলে তাঁর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে নতুন করে চর্চা করার কিছু নেই। বরং এবার তাঁর জীবনের অজানা অধ্যায়গুলোর কথা বলি।

  • প্রথম প্রেম, শেষ ভালবাসা

মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁর দেখা হয় জর্জ বুশ সিনিয়রের সাথে। তখন অ্যান্ডেভরের ফিলিপস অ্যাকাডেমিতে বুশ ছিলেন বারবারার সিনিয়র। ১৯৪৫ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তখন মাত্রই বুশ সিনিয়র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ফিরেছেন।

হোয়াইট হাউজের সাথে যোগাযোগ

তাঁর আসল নাম বারবারা পিয়ারর্স। আমেরিকার ১৪ তম প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন পিয়ার্সের দু:সম্পর্তের আত্মীয় তিনি। ভ্যানিটি ফেয়ারসহ অনেকগুলো মার্কিন গণমাধ্যম এই তথ্য দিয়েছে।

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ সালে তিনি নিউ ইয়র্কের সাধারণ নারীদের মত পোর্ট চেস্টারের নাট বল্টুর কারখানায় কাজ করেন। ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত  নিজের আত্মজীবনী ‘বারবারা বুশ’-এ তিনি এই কথা জানান।

  • কলামিস্ট

১৯৬৯ সালে স্বামী যখন কংগ্রেসে কাজ করছিলেন, তখন হস্টনের খবরের কাগজে কলাম লিখতেন বারবারা। লেখার বিষয় ছিল ওয়াশিংটনে তাঁর জীবন। কলামগুলোর নাম ছিল – ওয়াশিংটন সিন (Washington Scene)।

  • বাচ্চাদের বই লেখক

তিনি বাচ্চাদের ওপর দু’টি ভুতের গল্পের বই লিখেছেন – সি ফ্রেড’স স্টেরি ও মিলি’স বুক। দু’টো ফিকশনই একটি পারিবারিক পোষা কুকুরের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা।

  • পারিবারিক দুর্ঘটনা

বুশ সিনিয়র দম্পতির মেয়ে রবিন বুশ। ১৯৫৩ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে লিউকোমিয়াতে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। কন্যার মৃত্যুর শোক কাটাতে অনেক সময় লাগে বারবারার।

  • চীনা নজরদারীর মুখে

৭০-এর দশকে বুশ সিনিয়র দম্পতি থাকতেন চীনের বেইজিংয়ে। বুশ ছিলেন আমেরিকার লিয়াজোঁ অফিসের প্রধান। একবার ‘থ্যাংস গিভিং’-এর অনুষ্ঠানে বুশের বাড়িতে এসেছিলেন তৎকালীন আমেরিকান স্টেট সেক্রেটারি, বিখ্যাত-কুখ্যাত হেনরি কিসিঞ্জার। উদ্দেশ্য ছিল এক সাথে লাঞ্চ করা। খাবারের সময় বারবারা বুঝতে পারছিলেন, চীনা গোয়েন্দারা তাঁদের ওপর নজরদারী করছে।

  • ট্রাম্প বিরোধী

আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বারবারার পছন্দ ছিল না। তিনি ছেলে জেব বুশকে একবার বলেছিলেন, ‘ও মেয়েদের ব্যাপারে খুব বাজে কথা বলে, সামরিক বাহিনী নিয়েও বলে। আমি বুঝিনা কেন এত কিছুর পরও মানুষ ওকে পছন্দ করছে। আমি শুধু নারী বলে বলছি না। ওর মেয়েদের নিয়ে যা বলেছে শুধু সেজন্য বলছি না। ওকে অপছন্দ করার অনেক কারণ আছে।’

শেষে এসে একটা মজার তথ্য দেই। বারবারা হলেন আমেরিকার ইতিহাসের দ্বিতীয় নারী যার স্বামী ও পুত্র দু’জনই আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমজন হলেন অ্যাবিগেইল অ্যাডামস। তিনি হলেন জন অ্যাডামসের স্ত্রী ও কুইন্সি অ্যাডামসের মা।

– ইউএসএ টুডে ও দ্য পিপল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।