দুবাই, তুমি কার? বাংলাদেশের!

একটা জিনিস খেয়াল করে মজাই পেলাম।

পাকিস্তান যখন বাংলাদেশকে ‘হোস্ট’ করতে চায়, তারা তাদের মৃত্যুপুরীতে মানে লাহোর-করাচিতেই আহবান জানায়। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ের মত দলগুলোও না পারতে আসতে চায়না।  বাকিদের কথা বাদই দিলাম।

তাদের জন্য বিকল্প ভেন্যুর ব্যবস্থা করতে হয়। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবীকে পাকিস্তান হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানে বাংলাদেশের মত একটি দলকে তাদের বিকল্প ভেন্যু দিতে চায়না।

বাংলাদেশকেই তারা ছলে বলে কৌশলে পাকিস্তান নিতে চায়, যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কখনোই বোকার মত সেই আবেদনে সারা দেয়নি।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি সমর্থকদের ভিড়

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটা অজুহাত প্রস্তুতই থাকে। এই সব ইস্যুতে তাঁরা দাবী করে যে, বাংলাদেশ দলকেকে দুবাইয়ের মত জায়গায় হোস্ট করলে দর্শক পাবো না, স্পন্সর পাবো না ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু এই এশিয়া কাপ যেন আঙুল দিয়ে বাস্তবতা দেখিয়ে দিল পাকিস্তান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচে গ্যালারি ছিল টইটম্বুর, হোক দুপুরের তপ্ত গরমে, কিংবা সন্ধ্যায় তামিম ইকবালের মহাকাব্যিক সেই ঘটনার সময়ে। বরং হিসাব করলে দেখা যাবে সময়ের সাথে সাথে টেলিভিশনের টিআরপি বেড়েছে।

স্থানীয়দের চেয়ে উপমহাদেশীয়রাই বেশি আরব আমিরাতে। বাংলাদেশিও আছে বিস্তর। এর মধ্যে শ্রমিকরা যেমন আছেন, মধ্যবিত্ত শ্রেণীও আছেন, তাঁরা বাংলাদেশের খেলা দেখতে আমাদের মতই আগ্রহী। তাই এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন একখণ্ড মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশই হোমগ্রাউন্ডের স্বাদ পাচ্ছিল। দর্শকদের উল্লাস, করতালি তামিমদের উৎসাহ দিয়েছিল। ভিনদেশে এমন একতরফা সমর্থন সত্যিই অবিশ্বাস্য।

পাকিস্তান-হংকং ম্যাচের ফাঁকা গ্যালারি

অন্যদিকে ‘হোম’ ভেন্যুতে নামা পাকিস্তান যা রেসপন্স পেল, সেটা যথেষ্ট হাস্যকরই বটে। পুরো মাঠই ছিল খালি। একই মাঠে বাংলাদেশ বনাম উগান্ডার খেলা হলেও যে এর থেকে বেশি দর্শক হত, সেটা হলফ করেই বলা যায়।

পৃথিবীর যে প্রান্তেই খেলা হোক, বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্রিকেট অনুরাগের সিঁকি ভাগের কাছাকাছি যে পাকিস্তানিরা আসতে পারবে না, তা এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেট প্রশাসনের বুঝে যাওয়া উচিত।

তাই এরপরও পিসিবি যদি পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যদি নিজেদের দেশে বাংলাদেশকে আহবান জানায়, তাহলে তাদের বিপণন বোধ নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। অন্তত এশিয়া কাপ তাঁদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরব আমিরাতে হোম সিরিজ আয়োজন করা পাকিস্তানের জন্য লাভজনক।

শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচের গ্যালারিরও বড় অংশ ছিল ফাঁকা

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।