দ্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট

অ্যান্ডি রবার্টস, মাইকেল হোল্ডিং, কলিন ক্রফট ও জোয়েল গার্নার – ৭০ কিংবা ৮০’র দশকে ক্যারিবিয়ান এই পেস চুতষ্টয়ের ত্রাস সৃষ্টি করার অধ্যায়গুলো রীতিমত ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় চলে গেছে। এই পেস চতুষ্টয় ক্যারিবিয়ানদের বিস্তর সাফল্য এনে দিয়েছে। ওটাই ছিল ক্যারিবিয়ানদের ব্র্যান্ড।

সেকালের মত একালেও পেস নির্ভর কন্ডিশনে অনেক দলই তিন-চারটা পেসার ব্যবহার করে। অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ থাকলেই প্রতিপক্ষরা পেস আক্রমণ মোকাবেলার ছক কষতে থাকেন। সেটা কন্ডিশন যাই হোক না কেন।

আপনার শক্তি যেখানে বেশি সেখানে জোর দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাউন্সি উইকেটেও কিন্তু বাংলাদেশ তিন স্পিনার খেলিয়েই সাফল্য পেয়েছে। তখন থেকেই স্পিনার কিংবা বাঁ-হাতি স্পিনার নির্ভর বোলিং আক্রমণই হল বাংলাদেশি ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট।

এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে সম্ভবত এই ব্র্যান্ডটা নিজেদের আরো এক ধাপ ওপরেই নিয়ে গেল। আসলে আপনার কাছে যে অস্ত্রটাই থাকুক না কেন, সেটা হতে হবে মানসম্পন্ন। সেট যতক্ষণ না হচ্ছেন, ততক্ষণ উইকেট বা কন্ডিশনের সহায়তাও মিলবে না।

এই যেমন মিরপুর টেস্টের কথাই ধরুণ। বাংলাদেশ দিব্যি ৫০৮ রান তুলে ফেললো কয়েকজন ব্যাটসম্যানের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার পরও। দেবেন্দ্র বিশু, রোস্টন চেজ, জোমেল ওয়ারিকন কিংবা অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েটরা টানা বল করে গেছেন, তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। এটাও বলা উচিৎ যে, বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা ক্যারিবিয়ানদের চেয়ে দক্ষ হাতে স্পিনারদের সামলেছেন।

সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান – ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও এই চার স্পিনার নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। ভারতীয় দল ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম টেস্টে চার স্পিনারকে মাঠে নামিয়েছিল— বিষাণ সিং বেদী, ভগবত চন্দ্রশেখর, এরাপল্লী প্রসন্ন ও শ্রীনিবাস ভেঙ্কটরাঘবন।

এই চার জন মিলে ২৩১ ম্যাচে ৮৫৩ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু চার স্পিনার একসাথে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন একটি মাত্র ম্যাচে। তারপর সবসময়ই কোনো না কোনো স্পিনার দলের বাইরে থাকতেন। সেদিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলো। প্রথম দল হিসেবে তাঁরা দুই টেস্টে ‘স্পিন চতুষ্টয়’ খেলালো। আর স্পিন চতুষ্টয় খেলানোর এই কৌশলে টিম ম্যানেজমেন্ট যে সফল, সেটা তো না বলে দিলেও চলে।

তবে, কোনো পেসার না খেলানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার যৌক্তিকতা নেই। চার স্পিনার রেখেও চাইলে পেসার খেলানোই যেত। তবে, টেস্টে পেসাররা হচ্ছেন বাংলাদেশের একাদশে ‘অলংকার’। অন্তত দেশের মাটিতে তো বটেই। থাকলে ভাল, না থাকলেও সরাসরি কোনো ক্ষতি নেই। আর স্পিনার হচ্ছে মৌলিক চাহিদা। এই স্পিনাররাই হল সত্যিকারের ‘দ্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট’-এর ধারক। এরাই দেশের মাটিতে বিশাল পার্থক্য গড়ে দেবে। বৈরী কন্ডিশনে হয়ে উঠবে কার্যকর।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।