নির্লিপ্ততা কি সুখের কান্না হয়ে ঝরবে!

আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে অনেকবারই বিশ্বসেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। বহুবার হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। অথচ ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপে তার নেই কোন একক ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স।

বিশ্বসেরা হবার সম্ভাবনা ছিল তামিম ইকবালেরও। অথচ তার অনেক পরে ক্যারিয়ার শুরু করা বিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামসন, স্টিভেন স্মিথরা এগিয়ে আছেন অনেকখানি।

বিশ্বকাপে এখনো কোন সেঞ্চুরি নেই তামিমের। গেলবার এই মাইলফলকের একদম দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি এক বিন্দুতে মেলেনি।

প্রতিভার কমতি নেই লিটন, সৌম্য, সাব্বিরদেরও। বড় মঞ্চে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য আর কত সময় নেবেন তারা?

অথৈ সাগর দক্ষ হাতে পাড়ি দিয়ে তীরে এসে তরী ডোবানোর গল্প বার বার লিখেছেন দুই ভায়রা ভাই মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এবার কি গল্পের শেষগুলো অন্যরকম হবে?

বহুবছর আগেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারতো ভদ্রলোকের। উপরওয়ালার অশেষ রহমতে গত কয়েক বছর ধরে খেলছেন বড় কোন ইনজুরি ছাড়াই। আক্ষেপ, ধরা দেয়নি কোনো বৈশ্বিক আসরের শিরোপা।

বৈশ্বিক আসর কেন? কোন ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শিরোপাই যে এখনো ধরা দেয়নি ক্রিকেটপাগল এই দেশটার কাছে। কয়েকটা এশিয়া কাপ, নিদাহাস ট্রফি এগুলো হয়ে থেকেছে – ‘এতো কাছে, তবু কত দূরের গল্প’ হয়ে।

কারো চোখের জল শুকিয়ে গেছে। কেউ উত্তেজনায় কাঁপতে ভুলে গেছে। অদ্ভুত নির্লিপ্ততায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে কোটি কোটি আবেগপ্রবণ বাংলাদেশি। যেন, কোন কিছুতেই আর কিছু যায় আসে না!

২০১২ সালে যে হাউ-মাউ করে কেঁদেছিল, ২০১৮ তে সেই সামান্য কিছু দীর্ঘ নিঃশ্বাসেই উড়িয়ে দিয়েছে এক সাগর চাপা কান্না!

এই নির্লিপ্ততা কি সুখের কান্না হয়ে ঝরবে এ বছরই? কি জানি? কেন জানি আমাদেরই শেষ পর্যন্ত হয়েও হয় না। এবার কি হবে?

আরো পড়ুন

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।