ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার কি আকাশ থেকে টুপ করে পড়বে?

ওয়ানডে ফরম্যাট আমরা সবচেয়ে ভালো খেলি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে খেলে আমরা তিনটি জিতলেও দুটি হেরেছি। একটি জয় মাত্র ৭ রানে। সব মিলিয়ে প্রায় ফিফটি-ফিফটি। সেই হার দুটি প্রাগৈতিহাসিক কালে নয়, গত ৪ বছরেই। এবং সেই হার দুটি আমাদের নিজেদের মাটিতেই।

‘তাই বলে আফগানিস্তানের কাছে হার’ কিংবা ‘জাত গেল, জাত গেল’ … অনেকের এসব হাহাকার দেখে মনে পড়ল। ক্রিকেট আফগানরা মনে হয় খেলতে জানে! হাওয়া থেকে জিতে নাই। টি-টোয়েন্টিতে ওরা আমাদের চেয়ে এগিয়ে, এই সহজ সত্যটি মানতে অনেকের আপত্তি দেখে বললাম… ওরা উন্নতি করছে, এটা মানতেও অনেকের আপত্তি দেখে একটু মনে করিয়ে দিলাম… ওদের ব্যাটিং আমাদের চেয়ে পাওয়ারফুল। ওদের স্পিন আক্রমণ টি-টোয়েন্টিতে এই মুহূর্তে বিশ্বসেরা যদি নাও হয়, সেরাদের একটি… তো ওরা জিতবে না?

ম্যাচ হেরে লজ্জার কিছু নেই। লজ্জা থাকলে থাকা উচিত আমাদের সিস্টেম নিয়ে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে।

এই দলের নাই অভিভাবক। কোর্টনি ওয়ালশ বেচারাকে হেড কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয় বটে, তবে আসলে কতটা দায়িত্ব তিনি চর্চা করতে পারেনন, কে জানে! বিসিবি প্রেসিডেন্ট আবার বলে বসেন, ওয়ালশ তো ব্যাটিং শেখাতে পারবে না। আজব সব থিউরি। দলে কোন ডিসশান কে কে, কত জন নেয়, সেটাও রহস্য।

মাসের পর মাস হেড কোচ খুঁজে পাওয়া যায় না। ফিল সিমন্সের এত আগ্রহ ছিল, এসেছিলেন এখানে। সেই ঘরের লক্ষী বিসিবি পায়ে ঠেলেছে কেবল সিমন্স প্লেয়ার্স কোচ বলে। ক্রিকেটারদের কোচ বলে। বোর্ডের মনে হয়েছে ক্রিকেটারদের কাছাকাকাছি থাকা মানে বোর্ডের বিরুদ্ধে যাবে। তো ক্রিকেট খেলাটা ক্রিকেটাররা খেলবেন নাকি বোর্ড কর্তারা?

টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটারের অভাব তো নতুন নয়। আমাদের ভালো করতে হলে টিম এফোর্ট দিয়ে ভালো করতে হয়। এশিয়া কাপ বা নিদাহাস ট্রফিতে সেভাবেই পেরেছি। এই দল নিয়ে ভবিষ্যতে পারলেও সেভাবে পারতে হবে। দলীয় প্রচেষ্টার সুর-তাল-লয় মিললে আমরা জিতব। তাল-লয় একটুও কেটে গেলে আমরা জিতব না। সিম্পল।

কালকের ব্যাপারটা ভিন্ন, আরেকটু সেন্সিবল ব্যাটিং করলে, দেড়শ রান হলে হয়ত আমরা জিততাম। আগের ম্যচে স্লগের বোলিং ভালো হলে হয়ত জিততাম। তাহলেই কি আমরা টি-টোয়েন্টিতে ভালো দল হয়ে যেতাম? ইন জেনারেল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো খেলতে হলে, ধারাবাহিকভাবে জিততে হলে, দাপট দেখাতে হলে, বেশ কিছু ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার লাগবেই।

বিপিএলে পাঁচটা বিদেশি খেলাবেন। বিপিএলে ৩০-৩৫ কোটি টাকা লাভ হয়েছে বলে বগল বাজাবেন। কিন্তু সেই টাকা ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়নে খরচ করবেন না। ( দুষ্টু লোকেরা বলে, কর্তাদের অনেকের জীবন-মান উন্নয়ন ঠিকই হচ্ছে)। ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, স্বচ্ছতার বারোটা বাজাবেন, বিপিএলের বাইরে আর কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবেন না, ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটার কি আকাশ থেকে টুপ করে পড়বে?

আবারও বলছি, টি-টোয়েন্টিতে আমরা অবশ্যই আবারও ভালো খেলব। তবে সেটা সেই দলীয় চেষ্টা দিয়েই হবে। প্রতিপক্ষর মুঠো থেকে ছিনিয়ে আনা, গ্রাস কেড়ে নেওয়া বা একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার পেতে হলে আরও বেশি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি খেলার বিকল্প নেই।

– ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।