পাকিস্তানের বিপক্ষে মাশরাফিরাই ফেবারিট

জুসারে রাখা কমলা লেবু যেনো। ছাল বাকল সবই খসে খসে পড়ার মত গরম। মাশরাফি বিন মুর্তজার হাঁটা দেখলে সব সময় ডান পায়ে বা কোমড়ের পেছনে হাত রেখে একটু একটু খোঁড়ানোর দৃশ্যটা মানসপটে আসে। কাল এমন খুঁড়িয়ে চলার তালিকায় কে ছিলেন না?

মাশরাফি পুরো ম্যাচটা খেলতে পেরেছেন এটা একরকম অলৌকিক ব্যাপার। এই চটপটে মেহেদী হাসান মিরাজকে দেখলাম পা ঠিকমত পড়ছিল না শেষের দিকে। মুস্তাফিজুর রহমান তো একরকম শেষ কয়েকটা ওভার করলো ছন্দহীন দৌড়ে।

আবুধাবির গরম নি:শেষ করে নিয়েছে দলের এতোটাই। পাকিস্তানের বিপক্ষে অলিখিত সেমিফাইনালের আগে এই গরম তাড়িয়ে মারছে পুরো দলকেই।

এই বিমান থেকে নেমেই ইমরুল খেলতে নেমে গেলেন সেখানেও তার প্রভাব। বেচারা ছয় নম্বরে ব্যাট করার পর, ফিল্ডিংটাও ঠিক মত করতে পারেননি।

পরিবর্তিত ক্রিকেটার হিসেবে অনেকেই সময় সময় মাঠে ঢুকেছেন। সতীর্থকে দু’ দণ্ড জিরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিতে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জয়টা কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে? কারণ জানতে , ২০১৬ সালে ব্যাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচটাতে ফিরে যেতে হবে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের একের পর এক টুইট, গোটা ভারতের বাংলাদেশের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া প্রমাণ করে দেয় তুলনামূলক ছোট দলের কাছে পরাজয় সহ্য হয়না বড়দের।

তিন টি টোয়েন্টি, এক ওয়ানডে মিলিয়ে আফগানিস্তান বাংলাদেশের জন্য শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই সম প্রতিপক্ষও না, একটু এগিয়েই ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো ক্রিকেট ঐতিহ্য ও রেকর্ড সবকিছু মিলিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ তাদের চেয়ে ভাল দল। বড় দল।

এলেমেলো দলটার দরকার ছিল বড় দুই্ ম্যাচের আগে একটু গুছিয়ে নেয়ার সুযোগ পাওয়া। সেটা পেয়েছে তাঁরা। সময়মত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের রানে ফেরা। সাকিবের দৌড় ঝাঁপে স্পষ্ট, এ টুর্নামেন্টে তিনি বাকী অংশে ক্ষুধার্থ বাঘের মতই থাকবেন।

পাঁজরের ব্যথা নিয়ে মুশফিক উইকেট কিপিং করলেন এই গরমেও, তাতে মুগ্ধতার সীমা ছাড়িয়ে যায়া। লিটন এমন সময় তার প্রয়োজনীয় ৪১ রান করেছেন, যখন তার দরকার ছিল মানসিক স্বস্তি।

গরমটা পাকদের বিপক্ষেও প্রতিপক্ষ। তিন বছর আগে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশের মাটিতে হোয়াইট ওয়াশ হয়ে যাওয়া দলটির অনেকেই নেই এবার। যারা আছেন তারা এখন একটা দল হয়ে খেলছেন। যেটা খারাপ খবর।

পাকিস্তান সব সময় ব্যক্তি কেন্দ্রীক ক্রিকেট খেলে। তাদের এক জোট হওয়া ভাল ব্যাপার নয়। কিন্তু মাশরাফিদের জন্য ইতিবাচক ব্যাপার হলো, এই জোটেও ফাটল ধরিয়েছে গরম। আমির ও হাসান আলীদের পেসের ধার কমিয়ে দিয়েছে।

স্পিনারদের কাঁধে কিছুটা সওয়ার হয়েই এ পর্যন্ত এসেছে পাকিস্তান। শোয়েব মালিক ফর্মে থাকলেও তাকে কিভাবে বল করতে হবে সেটা সাকিবদের জানা।

দুই দলের জন্য গরম কমন প্রতিপক্ষ। কিন্তু স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে আবুধাবিতে গরমে গলে পড়তে পড়তে অবশিষ্ট মোমের অংশ হয়ে পুরো দলটা যেভাবে শেষ পর্যন্ত জিতলো, তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে আমার কাছে মাশরাফিরাই ফেবারিট।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।