সেই ১১ দফা দাবি

বাংলাদেশ ক্রিকেটে যখন প্রথম ধর্মঘট হয়, সেই সময়টা ছিল একদমই অন্যরকম। সেটা নব্বই দশকের কথা। ১৯৯৯-৯৮ সালে লিগ খেলার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে ব্যাট-বল, প্যাড, ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির হয়েছিলেন আকরাম খান, ফারুক আহমেদরা। এরপর ২০১৩ সালেও একবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের দাবিতে কিছু ক্রিকেটার (বিসিবি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) অবস্থান ধর্মঘট করেছিলেন। তবে সেখানে জাতীয় দলের শীর্ষ ক্রিকেটাররা ছিলেন না।

তাই বলা যায়, প্রায় ২০ বছর পর বড়সড় আন্দোলন, ধর্মঘটে দেখা গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। বিভিন্ন সময়ে ছোটখাট আন্দোলন হলেও শীর্ষ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে এটি দ্বিতীয়বার বড় পদক্ষেপ।  সেই ধর্মঘটে তারা ১১ টি দাবী উত্থাপন করেন।

  • প্রথম দাবি

কোয়াবের (ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কোনো কার্যক্রম ক্রিকেটারদের পক্ষে না থাকায় বর্তমান কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

(দাবি উত্থাপন করেন নাঈম ইসলাম)

  • দ্বিতীয় দাবি

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দলগুলোর সঙ্গে ক্রিকেটাররা নিজেরা চুক্তি করবে। দল নির্বাচন এবং পারিশ্রমিকের ব্যাপারে নিজেরা চুক্তি করবে। প্রিমিয়ার লিগ আগের পদ্ধতিতে চালানো হোক।

(দাবি উত্থাপন করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ)

  • তৃতীয় দাবি

আমরা জানি এ বছরের বিপিএল একটু অন্য নিয়মে হচ্ছে, সেটা অবশ্যই আমরা সম্মান করি। কিন্তু আমাদের প্রধান দাবি আগের নিয়মে যেভাবে বিপিএল হতো আগামী বছর থেকে আগের মতো বিপিএল চাই আমরা। স্থানীয় ক্রিকেটাররা যেন বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য মূল্য পায়।

(দাবি উত্থাপন করেন মুশফিকুর রহিম)

  • চতুর্থ দাবি

ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাখ টাকা করতে হবে। ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। অনুশীলনের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। জিম, ইনডোর, মাঠ সব কিছুর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১২ মাসের জন্য কোচ, ফিজিও, ট্রেনার নিয়োগ দিতে হবে। পরবর্তী মৌসুমের আগে আমরা চাই এই সুযোগ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা হোক।

  • পঞ্চম দাবি

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো মানের বল দিতে হবে। দৈনিক ভাতা ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না। তাই বাড়াতে হবে। জাতীয় লিগে এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যেতে বিমান ভাড়া দিতে হবে। ২৫০০ টাকা যাতায়াত ভাতা যথেষ্ট নয়। জিম, সুইমিং পুলের সুবিধাসহ হোটেল দিতে হবে।

(চতুর্থ ও পঞ্চম দাবী উত্থাপন করেন সাকিব আল হাসান)

  • ষষ্ঠ দাবি

কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ৩০ জন করতে হবে। তিন বছর বেতন বাড়ানো হয় না, বেতন বাড়াতে হবে।

(দাবি উত্থাপন করেন এনামুল হক জুনিয়র)

  • সপ্তম দাবি

দেশী সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে। কোচ, ফিজিও, ট্রেনার, আম্পায়ার, গ্রাউন্ডসম্যান সবার বেতন বাড়াতে হবে।
এনামুল হক বিজয়, অষ্টম দাবি: ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বাড়াতে হবে। জাতীয় লিগের সঙ্গে একটি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট এবং বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে।

(দাবি উত্থাপন করেন তামিম ইকবাল)

  • নবম দাবি

ঘরোয়া ক্রিকেটের নির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি করতে হবে।

(দাবি উত্থাপন করেন কাজী নুরুল হাসান সোহান)

  • দশম দাবি

বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ক্রিকেটারদের পাওনা পারিশ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিতে হবে।

(দাবি উত্থাপন করেন জুনায়েদ সিদ্দিকী)

একাদশ দাবি

ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগ দুটির বেশি খেলার সুযোগ দিতে হবে। বর্তমান নিয়মে দুটির বেশি খেলতে দেয়া হয় না।

(দাবি উত্থাপন করেন ফরহাদ রেজা)

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।