‘দলে চাই’ ঝড় ও ‘চলে না’ ট্যাগ: সকল রোগের মহৌষধ!

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় যা দেখলাম, এই দেশের ক্রিকেট অনুসারীদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়, দল থেকে বাদ পড়া। একটা দলে সবাই ভালো করবে না, করে না। যাদের জায়গা একটু নড়বড়ে, দলে থাকার সময় তাদেরই সমর্থন বেশি দরকার। কিন্তু তারা দলে ঢুকে পারফর্ম করতে না পারলে গালি সবচেয়ে বেশি খায়!

দলে থাকলে গালি, বাইরে গেলে তালি! দলে থাকলে, ‘আরে শালায় **ডাও পারে না, হালায় চলে না।” দলের বাইরে থাকলে, সেই তাকে ছাড়াই চলে না!

আমাদের ভেতরটা নিষ্ঠুর নির্মমতায় ভরা, সেটির প্রমাণ নিত্য দিনের জীবনে। চারপাশে। সমাজে। অথচ আলগা সিমপ্যাথি আমাদের মতো জগতের আর কোনো জাতি দেখাতে পারে না!

যে ক্রিকেটারটি নড়বড়ে, বুঝতে হবে, দলের জয়-পরাজয় নির্ধারণে তার ভূমিকা থাকার কথা কম। কিন্তু খারাপ করলে তাকেই শূলে চড়ানো হয়। বলির পাঠা খোঁজা আমাদের প্রিয় কাজ। পাঠা বলি দিতে পারলে তবেই সুখের বায়ু ত্যাগ করা যায়।

দলে থাকলে, ‘ওই শালার কারণেই হারছি’, দলে না থাকলে সেই ‘শালাই’ হয়ে যায় আদর্শ ভেষজ দাওয়াই, সকল রোগের মহৌষধ!

গত কয়েক বছরে যত ক্রিকেটারকে ওই মহৌষধ ভেবে ‘দলে চাই’ ঝড় তোলা হয়েছে, তাতে আজকে বাংলাদেশের বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করার কথা। আর যতজনকে ‘চলে না’ ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট ভ্যানিশ হয়ে যাওয়ার কথা।

টেকনিক্যালি ও সাইকোলজিক্যালি, ক্রিকেট সম্ভবত সবচেয়ে জটিল খেলা। আমরা সেটাই সবচেয়ে বেশি বুঝি। ক্রিকেট ভীষণরকম প্রসেসের একটি খেলা, আমরা সেই প্রসেসেই সবচেয়ে বেশি ঘুটা দেই!

 – ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।