বদলাপুর: অন্ধকার, অপ্রত্যাশিত ও চমৎকার

জীবনে কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা নিত্যদিনের স্বাভাবিকতাকে বদলে দেয় পুরোপুরি। বিশেষ করে যদি সেই ঘটনায় খুব কাছের কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে।

  • চলচ্চিত্র: বদলাপুর
  • মুক্তির সাল: ২০১৫
  • জনরা: অ্যাকশান, থ্রিলার, ড্রামা

স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে কর্পোরেট কর্মকর্তা রাঘভের জীবন সুখেই কাটছিল। তবে একদিন সব এলোমেলো হয়ে গেলো যখন ব্যাংক ডাকাতি করে পালানোর সময় ডাকাতের দল রাঘবের স্ত্রী ও ছেলেকে তাদের গাড়ি সহ জিম্মি করে পালাতে চেষ্টা করে। পালানোর সময় রাঘবের সন্তানকে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সব হারিয়ে রাঘবের সামনে প্রতিশোধ ছাড়া দ্বিতীয় কোন ভাবনা ছিল না।

এদিকে ডাকাত দলের এক সদস্য লায়েক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাঘব তার বিষয়ে জানার জন্য গোয়েন্দা নিয়োগ দেয়। একপর্যায়ে লায়েকের প্রেমিকা যৌনকর্মী ঝিমলি’র ব্যাপারে জানতে পারে রাঘব এবং তার কাছে লায়েকের ক্রাইম পার্টনার আরেক ডাকাত হারমানের ব্যাপারে জানতে চায়। কিন্তু ঝিমলি তাকে মিথ্যে বলে। পরবর্তীতে একদিন এনজিও কর্মী শোভা আসে রাঘবের কাছে লায়েকের ক্যান্সারের সংবাদ নিয়ে এবং তার কাছে লায়েকের প্যারোলে মুক্তির প্রার্থনা জানায়। রাঘব প্রথমে রাজী না হলেও লায়েকের মা যখন তাকে হারমানের খোঁজ দেয়, তখন সে রাজী হয়।

এরপর ঘটনা বেশ দ্রুত ঘটতে থাকে। লায়েক প্যারোলে বেরিয়ে আসে। হারমান ও তার স্ত্রী কাঞ্চনের সাথে রাঘবের সাক্ষাৎ ঘটে। তবে পুরো ঘটনা যতোটা নিশ্চিত পরিসমাপ্তির দিকে যাওয়ার কথা ছিল, ঘটনা সেদিকে না গিয়ে মোড় নেয় সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বাঁকে।

ছবির প্রাণ বরুন ধাওয়ান। চকোলেট বয়ের ইমেজ ভেঙে প্রতিশোধপরায়ণ স্বামী ও বাবার চরিত্রে নিজেকে বার বার ভেঙ্গে উপস্থাপন করা, সহজ কাজ ছিল না। কিছু জায়গায় এক্সপ্রেশনে টু দ্য পয়েন্ট না থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি সফল।

সাথে ছিলেন অলটাইম ন্যাচারাল অভিনেতা নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী। ছবিটিতে ছোট ছোট চরিত্রগুলোও গুরুত্ব পেয়েছে, এটাই কাহিনীর সার্থকতা। আরও ছিলেন, হুমা কোরেশী, দিব্য দত্ত, বিনয় পাঠক, রাদিকা আপ্তে, অশ্বিনী কালশেখর সহ প্রমুখ।

ছবিটিতে প্রাপ্তবয়স্ক দৃশ্য আছে কাহিনীর প্রয়োজনে। স্ত্রী-পুত্র হারানোর শোকে প্রায় মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো আচরণ তবে একইসাথে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যাওয়া – বরুন যে ধরণের কাজ করে থাকে, সে হিসেবে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।

পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন একটা চিজ বলতে জবে। আন্ধাধুনের মতো ছবি যিনি করতে পারেন, বুঝতে হবে আসলেই হি ইজ সামথিং। কাহিনী ও চিত্রনাট্যে ছিলেন মাসিমো কার্লোটো, অরিজিৎ বিশ্বাস, শ্রীরাম রাঘবন ও পূজা।

ছবিটির জন্য ফিল্মফেয়ারে বরুণ ধাওয়ান সেরা অভিনেতা, শ্রীরাম রাঘবন সেরা পরিচালক, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা ও হুমা কোরেশী পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান। এছাড়াও জি সিনে অ্যাওয়ার্ডসেও নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেন।

২৯ কোটি বাজেটের ছবিটির লাইফটাইম আয় প্রায় ৮০ কোটি। ছবিটি বক্স অফিসে সফল।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।