ব্যাডবয় থেকে ব্লকবাস্টার খান

দু’টো প্রশ্ন করি।

১.

বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত নায়ক কে?

২.

বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত নায়ক কে?

দু’টো প্রশ্নের উত্তরেই ওপরের দিকে থাকবে একজনের নাম। তিনি হলেন সালমান খান। বলিউডের ভাইজান। আজো স্রেফ তিনি আছেন বলেই বস্তাপঁচা গল্পের সিনেমাও শতকোটির ক্লাবে নাম লেখায়। ফলে তিনি যে কতটা আলোচিত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আর তিনি যে একই সাথে বিতর্কিত সেটা জানতে তাঁর ভক্ত হওয়া লাগে না। বলিউডের খোঁজখবর জানা থাকলেই হয়। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন সালমান খান নিত্য নতুন নায়িকাদের সাথে সম্পর্কে জড়াতেন। কখনো সঙ্গীতা বিজলানি, কখনো ঐশ্বরিয়া রায়, কখনো আমিশা প্যাটেল, বা হালের ক্যাটরিনা কাইফ – সবাই সালমানের প্রেমের মায়াজালে আটকা পড়েছেন।

সালমান খান কাকে বিয়ে করেন? – ক’দিন আগেও এই প্রশ্ন নিয়ে দিস্তার পর দিস্তা কাগজ লিখে ফেলতে পারতো ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। এখন যদিও, সেসব নিয়ে আর লেখা হয় না। কারণ, সালমান বরাবরই যে এসব আয়োজনে জল ঢেলে দিয়েছেন। কখনোই কোনো নারীর সাথে তিনি থিতু হতে পারেননি।

শুধু নায়িকাদের সাথে সম্পর্কে জড়ানো হলে মানা যেত, সালমানের আরো অনেক ‘কুকীর্তি’ আছে। ২০০২ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা সময় সালমান খানকে অনেক থানা-পুলিশ করতে হয়েছে। ২০১৫ সালে সেই মামলা থেকে তিনি মুক্তি পান।

এখানেই শেষ নয়, জোধপুরের আদালত সম্প্রতি ২০ বছরের পুরনো মামলায় ২০ বছরের পুরনো কালো হরিণ শিকারের দায়ে সালমান খানের জন্য পাঁচ বছরের জেল ও দশ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করে। যদিও, পরবর্তীতে তিনি জামিন পেয়ে যান। সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯৮ সালের দুই অক্টোবর তিনি জোধপুরের কানকানি গ্রামে বিরল প্রজাতির দু’টি কালো হরিণ শিকার করেছিলেন। সেসময় তাঁর সাথে সহ-শিল্পী সাইফ আলী খান,  সোনালী বেন্দ্রে ও টাবু ছিলেন। যদিও, এই তিনজন নির্দোষ বলে প্রমাণিত হন। আজো ইন্টারনেট ঘাটলে অন্ধকার জগতের বে-তাজ বাদশাহ দাউদ ইব্রাহিমের সাথে তাঁর ছবি পাওয়া যায়।

সালমান খান যেমন বিতর্কের সাথে বসবাস করেন, তেমনি একই সাথে খুবই মানবিক। ‘বিয়িং হিউম্যান’ নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত তিনি। প্রায়ই সালমান খানের শরীরে বিয়িং হিউম্যানের টিশার্ট দেখা যায়। সালমান এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য কি না করেন।

একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিস্কার হবে। ২০১১ সালের সিনেমা ‘চিল্লার পার্টি’র প্রযোজকদের একজন হলেন সালমান। এই সিনেমা থেকে প্রাপ্ত সকল আয় বিয়িং হিউম্যানে ব্যয় করেন সালমান। সিনেমাটি সেবার শিশুদের ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা ছবির পুরস্কার জয় করে।

ইন্ডাস্ট্রিতেও সালমান খান কতজনের ক্যারিয়ার গড়ে দিয়েছেন তাঁর কোনো ইয়ত্তা নেই। এক সময়ের জনপ্রিয় গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক হিমেশ রেশামিয়ার ক্যারিয়ারে বড় অবদান সালমান খানের। বলা হত, এই সালমানই নাকি হিমেশের গডফাদার। আজকের দিনের অন্যতম সেরা নায়িকাদের একজন ক্যাটরিনা কাইফকে বলিউডে বড় ব্রেক-থ্রুটা এই সালমান খানই দিয়েছিলেন। নব্বই দশকের হিট নায়ক গোবিন্দ যখন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন তখনই সালমান তাঁর সাথে ‘পার্টনার’ সিনেমা করেন। এর মধ্য দিয়ে গোবিন্দর ডুবন্ত নৌকা আরো কিছুকালের জন্য ভেসে থাকে।

সালমান খান

সালমান খান নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত ভাবে ২০১৮ সালটা ভুলে যেতে চাইবেন। বিভিন্ন রূপে সালমান খান এই বছর পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন সিনেমার সাথে যুক্ত ছিলেন। রেস থ্রি কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন, ছিলেন প্রযোজকদের একজন। ‘লাভযাত্রী’ নামের একটি সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। ‘জিরো’, ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা ফিরসে’ ও ‘ওয়েলকাম টু নিউ ইয়র্ক’ – এই তিনটি সিনেমায় করেছেন ক্যামিও। পাঁচটা ছবির সবগুলোই মোটামুটি ব্যর্থ।

যদিও রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর দ্বাদশ সিজনের জন্য এশিয়ান একাডেমির বেস্ট হোস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। তবে, শুধু বলিউডের হিসেবে বলা যায়, সালমান খানের জন্য সময়টা ভাল যাচ্ছে না। তবে, নামটা যেহেতু সালমান খান, তাহলে আস্থা রাখাই যায়। দু:সময় কাটিয়ে সুদিনে কিভাবে ফিরতে হয়, সেটা তাঁর খুব ভালভাবেই জানা আছে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।