জোর করে লোক হাসানো বনাম দর্শক চাহিদার চিকিৎসা

তোমার রুচি যেমন তোমার জন্য খাবার পরিবেশনও হবে তেমন’ – খুবই প্রচলিত একটা কথা। টেলিভিশন নাটক জগতে আমাদের বেশ সুনাম ছিলো একটা সময়, কেন ছিলো জানেন? কারণ আমাদের তখনকার রুচি ছিলো মানসম্মত। কিন্তু এখন! হ্যা এখন আমরা আমাদের নাট্য জগতের সবচেয়ে বাজে সময় কাটাচ্ছি। এর দায় কাদের জানেন? উত্তর একটাই এর দায় আমাদের এবং শুধুমাত্র আমাদের! আমাদের অদ্ভুত রুচির কারণে আজকের পরিচালক গুলো বস্তাপচা নাটক বানিয়ে গলা উঁচিয়ে বলে ‘ভালো জিনিস মানুষ দেখে না!’

ঈদের ঠিক একদিন পরেই ‘ব্যাচেলর ঈদ’ বিষয়ক অসংখ্য পোস্ট দেখলাম ফেসবুকে।এর আগে এই একই নামের নাটকের একটা পর্ব দেখেছিলাম। ১৫ মিনিট দেখার পর আর এগোতে পারিনি। যাই হোক এবার ঈদে নাটকের সিকুয়েল দেখতে বসলাম। কেমন লাগলো আমার সেটাই বলছি।

ভেবেছিলাম ভাল কিছু হবে। কারণ, এর ভিউ ছিল আকাশচুম্বি। তার সাথে নিউজ ফিডের ঝড় তো আছেই। কিন্তু, শেষ অবধি হতাশাই সঙ্গী হল। আমাদের রুচিহীন দর্শকের সংখ্যা এত বেশি!

  • নির্মান

বরাবরের মতো এই নাটকের গল্প সেই আগের মতোই, অনেকটা এক দেশে এক রাজা ছিলো রাজার দুটো মেয়ে ছিলো তাদের বিয়ে হলো এবং গল্পও শেষ হলো! আর হ্যা এই নাটকের সবচেয়ে বাজে দিক হলো এর স্ক্রিপ্টিং। এছাড়া জঘন্য ডায়লগ মেকিং তো রয়েছেই। তবে নাটকের কালার গ্রেডিং বেশ মানসম্মত এবং ক্যামেরা ওয়ার্কও বেশ ভালো বলা চলে।

আর হ্যা, চরিত্রের প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে বলা যায় কিছু কিছু চরিত্র একদম অপ্রয়োজনীয়, যেমন শামীম হাসান সরকারের চরিত্র জাষ্ট রাখার জন্যই রাখা! অনেকটা মন রক্ষা করা এই যা! অন্য দিকে রিয়া নামের নতুন চরিত্রও একদম অনর্থক লাগলো সাথে তাঁর রোবটিক অভিনয় বিরক্তির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তো সব মিলিয়ে খুব একটা ভালো কিছু ছিলো না।

  • অভিনয় সংক্ষেপ

মিশু সাব্বির: আগে শুনতাম পুরান চাল ভাতে বাড়ে আর এখন দেখছি পুরান চালের ভাত পূরণ করছে না সঠিক অনুপাত। মূলত মিশু সাব্বিরের কাজ অনেক আগে থেকে ভালো লাগে, কিন্তু ইদানিং তিনি নিম্নমানের কাজগুলোই করে চলেছেন! আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে লোক হাসানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।

তৌসিফ: তাঁর বাজারও নিম্নমুখী। সেই একই ধাচের অভিনয়, বাড়তি কিছু নেই।

শামীম হাসান সরকার: তাঁকে এই নাটকে দুধ-ভাত, খোকা এলো ঘুম পাড়ালো টাইপ চরিত্রেই দেখানো হয়েছে। কিছু জায়গা বাদে পুরোটাই আরোপিত বলে মনে হয়েছে।

পলাশ: তিনি বেশ বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছেন। নির্মানের কাজটা ভালই চলছিল। সবাই যদি দল বেঁধে অভিনয় করতে চলে আসেন তাহলে তো ক্যামেরার পেছনে মরুভূমি হয়ে যাবে!

চাষী: ভালো অভিনেতা, অনেক নাটকে দারুণ অভিনয় করেছিলেন। এখানেও ভালো করেছেন। যেভাবে কমেডি চরিত্রে নিজেকে সাজিয়েছেন সেটা প্রশংসার যোগ্য।

  • গল্প

একসাথে মেসে থাকেন কয়েকজন। সবার কিছু নির্দিষ্ট কারণে এবার কেউ গ্রামের বাড়ি কিংবা নিজের বাসায় যাবে না। তাই তাদের একসাথে ঈদ করতে হবে। তো ঈদের আগ পর্যন্ত তাদের কিছু ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই নাটক। জোর করে লোক হাসানোর চেষ্টাটা পুরো গল্প জুড়েই ছিল। খুব অদ্ভুত এক গল্পে নাটক বানিয়েছেন কাজল আরেফিন।

অনুরোধ রইলো, ভালো কিছু বানান। নাটক দেখার পর আম্মা বললো, ‘এখনকার ছেলে পেলে এগুলো দেখেই খারাপ হয়, আর আমাদের সময় আমরা পুরো পরিবার নিয়ে একসাথে নাটক দেখতাম।’

কথা আমাদের রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এসব নাটক বানানোর ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন নির্মাতারা। এর জন্য, সবার আগে দর্শকদের চাহিদার চিকিৎসা দরকার।

 

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।