বেবি শার্ক: ইন্টারনেট কাঁপানো বাচ্চাদের গান

আপনি কি কোনো ক্ষুদে শিশুর অভিভাবক? বা কোনো সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী? নাকি স্রেফ সমাজের সাধারণ একজন সদস্য? আসলে, আপনি যাই হয়ে থাকুন না কেন নিশ্চয়ই এরই মধ্যে আপনি ‘বেবি শার্ক’ গানটা ‍শুনে ফেলেছেন। গানটার অস্বাভাবিক জনপ্রিয়তার পেছনের গল্পটা এখন বলতো যাচ্ছি।

গানটা নির্মান করেছেন কোরিয়ান এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি পিংকফঙ। মুক্তি পায় ২০১৬ সালে। দু’জন মিলে গানটা লিখেছেন। তারা হলেন – শওনি ল্যাম্ব ও রবিন ডেভিস।

গানটার সূত্রপাত অবশ্য হয় এর আগেই। সেই ২০০৭ সাল থেকেই এটা অনলাইন-অফলাইনে ঘুরছিল। তবে, ২০১৬ সালে এসে এটাকে নতুন করে ইউটিউবে নিয়ে আছে পিংকফঙ নামের চ্যানেলটি।

আকর্ষণীয় আর সহজ লিরিক্সের জন্য গানটা সহজেই শ্রোতাদের মনে গেঁথে গেছে। গানটা দেখা হয়েছে ৩৩০ কোটি বারেরও বেশি। ব্রিটেনের মিউজিক চার্টে গানটা জায়গা করে নিয়েছে। #বেবিশার্কচ্যালেঞ্জ-এর নেপথ্যেও আছে এই গানটি।

এই চ্যালেঞ্জে একজনকে বেবি শার্ক গানের অনুকরণে নাচতে হবে, এবং সেই নাচের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোস্ট করতে হবে। এই নতুন ট্রেন্ডও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

গানের ভাষা খুব সহজ। বেবি শার্ক ও তাঁর বাবা-মা, দাদা-দাদির মাছ শিকারের ছোট্ট একটা গল্পই এই গানের উপজীব্য। ভিডিওতেও খুব আহামরী ‘কারিশমা’ নেই। তারপরও এটা গোটা ‍দুনিয়া জুড়ে শিশুদের এক নম্বর পছন্দে পরিণত হয়েছে।

গানটা কতটা জনপ্রিয় হয়েছে তার একটা সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়াটা জরুরী। ইউটিউবে গানটার ভিউয়ার ২১৫ কোটির বেশি। বাচ্চাদের গানের মধ্যে এর ধারের কাছে আছে কেবল ‘ফ্রোজেন’-এর ‘লেট ইট গো’ যার ভিউয়ার ১৬৫ কোটি।

ইউটিউবের ইতিহাসে এখন অবধি সবচেয়ে বেশি ভিউয়ার পাওয়া কোরিয়ান গান হল সাই-এর ‘গ্যাঙনাম স্টাইল’। এর ভিউয়ার ৩২০ কোটি। কে জানে, হয়তো ‘বেবি শার্ক’ খুব দ্রুতই ভেঙে দিবে গ্যাঙনাম স্টাইলের ইউটিউব রেকর্ড। চলতি বছরের শুরুতে কোরিয়ান পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর ‘ফেক লাভ’ গানটি গ্যাঙনাম স্টাইলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল। তবে, ৩০৭ কোটি ভিউয়ের পর এটা আর এগোয়নি।

তবে, এই গানের কিছু সমস্যাও আছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে গানটা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, বাচ্চারা নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। বারবার গানটা দেখা থেকে বাচ্চাদের বিরত রাখতে অভিভাবকদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দ্য কালচার ট্রিপ ও বিবিসি অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।