বাজার: জীবনটাই যেখানে এক বিজনেস ডিল

ছবিটিকে গরিবের ‘ওয়াল স্ট্রিট’ বলা যায় কিনা, ভাবছিলাম। কন্টেন্ট বিচারে ছবিটি উৎরে গেছে। পছন্দের জনরা ছাড়াও ভালো লাগার অন্যতম কারণ ছিল বিশেষ একজনের পুরনো রূপে ফিরে আসা অনেকদিন পর, যে রূপে সে সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করে। বলছি ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ক্রাইম, ড্রামা থ্রিলার ঘরাণার ‘বাজার’ সিনেমার কথা।

শকুন কোঠারী একজন গুজরাটি বিজনেস টাইকুন। যার কুটচালে মাত হয়ে যায় স্টক মার্কেটে বড় বড় কোম্পানী। বেকায়দায় পড়ে যায় বিশাল অংকের সব বিজনেস ডিল। টাকা খাটাতে এবং তার থেকে দ্রুত মুনাফা লাভের হিসেব তাঁর থেকে দুর্দান্তভাবে কেউ করতে পারে না। তাই মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী মহলে মুকুটহীন সম্রাট এই কোঠারী।

এলাহাবাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্টক ট্রেডার রিজওয়ান আহমেদ, যে এই শকুন কোঠারীকে গুরু মানে, একদিন মুম্বাই চলে আসে তার স্বপ্নকে ছুঁতে। কৌশল ও একাগ্র চেষ্টায় শহরের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং ফার্মে নিজের জায়গা করে নেয় এবং অপ্রত্যাশিতভাবে তার সহকর্মী প্রিয়ার সাহায্যে দারুণ এক ডিল ক্র্যাক করে। তাদের সম্পর্ক প্রণয়ে গড়ায়।

পরবর্তীতে এক ইভেন্টে সে শকুন কোঠারীর উপস্থিতিতে এক ব্যবসায়ীকে তার আসন্ন ডিলের ব্যাপারে ভবিষ্যৎবানী প্রদান পূর্বক পরামর্শ দেয় যা পরে সত্য বলে প্রমাণিত হয়। এরপর থেকে শকুনের ব্রোকার হিসেবে কাজ শুরু করে রিজওয়ান। প্রাথমিকভাবে ধাক্কা খেলেও প্রিয়ার সাহায্যে সে ক্ষতি সামলে নেয় এবং শকুনের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

সবকিছু যতোটা ঠিকঠাক মনে হচ্ছিল, আসলে ঘটনা তেমন ছিল না। ভেতরে ভেতরে চলছিল আরেক খেলা। কি সেই খেলা? মুদ্রার উল্টোপিঠ জানতে হলে দেখে ফেলতে পারেন ফাস্ট পেসিং এই মুভিটি।

নেগেটিভ রোলে সাইফ কেমন, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। তার অভিনয়ই ছবিটির প্রাণ বলা যায়। দুর্দান্ত ডেলিভারি, টাইমিং এবং শরীরী ভাষা। নবাব সাহেব এই বয়সেও যা খেল দেখালেন, তা বড়ই মুগ্ধকর। যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং চরিত্র ছিল। ‘রেইস’ ফ্র্যাঞ্চাইজ তাদের ভুল বুঝবে, আশা থাকলো।

‘রিজওয়ান আহমেদ’ চরিত্রে নবাগত রোহান মেহরাও মানানসই পারফর্ম করেছেন। তার ভাষ্যমতে, তারকা পিতার দ্যুতিতে পথ চলতে চাননি বিধায় যথাযথ প্রক্রিয়াতেই এই চরিত্র বাগিয়েছেন নিজ যোগ্যতায়। বক্স অফিস না কাঁপালেও শুরুটা খুব খারাপ হয়নি। সামনের পথচলা শুভ হোক।

ভারতের ‘নেটফ্লিক্স’ কুইন রাধিকা আপ্তে এখানেও আছেন রোহান মেহরা’র বিপরীতে। সাবলীল অভিনয়ে তিনিও প্রশংসনীয় বরাবরের মতোই। আরেক পরীক্ষিত অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিং আছেন সাইফ আলী খানের বিপরীতে।

সিনেমাটোগ্র্যাফি বেশ ভালো। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর কাহিনীর গতিময়তার সাথে আলাদা আবেদন যোগ করার দাবীদার। বিলাল সাইদ ও তানিশক বাগচী’র কম্পোজিশনে ‘কেম চো’ এবং ‘লা লা লা’ গান দু’টো বেশ উপভোগ্য। প্রথম কাজ হিসেবে পরিচালক গৌরভ চাওলার এই প্রচেষ্টা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

৩৫ কোটি রুপির এই ছবিটি বক্স অফিস বিচারে সফল নয়। লাইফটাইম ২৫ কোটির আশেপাশে। একটা কারণ হতে পারে, এর কন্টেন্ট অনেকের মাথার উপর দিয়ে গেছে। আমজনতার ছবি একে বলা যাবে না।

এছাড়া ‘বাধাই হো’র ওয়ার্ড অফ মাউথ এবং দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে ঠাগসের সাথে ক্ল্যাশও একটা কারণ হতে পারে। ফিন্যান্স পড়ুয়াদের জন্য পরামর্শ থাকবে একবার হলেও দেখার। স্টক মার্কেট নিয়ে এমন ছবি ইন্ডাস্ট্রিতে আগে হয়েছে কিনা, কারও জানা থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ থাকলো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।