বাঘি থ্রি, সাথে ব্রেইনলেস অ্যাকশন ফ্রি!

যত দিন গড়াচ্ছে, ততই যেন হিন্দি ছবি একটা ‘ব্রেইনলেস’-দের জায়গায় পরিণত হচ্ছে। এতদিন কমেডি ছবির নামে ভাঁড়ামি করে দর্শক হাসানোর অর্থহীন চেষ্টা চোখে পড়তো। আর এখন সেই ‘ব্রেইনলেস’রা জায়গা করে নিয়েছে অ্যাকশন ছবিতে। অ্যাকশন ছবিগুলোতে এমন কিছু একটা হাজির করা হয়, যার মধ্যে লজিক খুঁজতে খুঁজতে দর্শকরা নি:শ্বাস ফেলারও সময় পাবে না, যদিও শেষে অকুল পাথারে হাবুডুবু খাবে।

‘বাঘি থ্রি’ ছবিটি ঠিক একই ফর্মুলাতেই বানানো হয়েছে। এই ছবির অ্যাকশন ও গল্প, দর্শকের মস্তিষ্কের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাবে। মনের ভুুলে তারা হয়তো হেসেও ফেলতে পারেন। এর সাথে অসংখ্য ফাক-ফোঁকড়ে ভর্তি গল্প তো আছেই।

ছবিটা মূলত ২০১২ সালের তামিল ছবি ‘ভেট্টাই’ থেকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত। মূল ছবিতে ছিলেন আর মাধবন, আরিয়া ও আশুতোষ রানারা। আর হিন্দি সংস্করণে আছেন টাইগার শ্রফ, হিৃতেশ দেশমুখ ও শ্রদ্ধা কাপুররা। নির্মাতা আহমেদ খান ছবিটাকে একটা ‘তামাশা’য় পরিণত করতে চেষ্টার বিন্দুমাত্র কমতি রাখেননি।

এর জন্য প্রথম তিনি যে কাজটা করেছেন, তা হল – ছবিতে মৌলিক তেমন কিছুই রাখেননি। ছবির মূল গান ‘দাস বাহানে ২.০’ মূলত ২০০৫ সালের ‘দাস’ ছবির টাইটেল সঙের রিক্রিয়েশন। এখানেই শেষ নয়, ‘ভাঙ্কাস’ গানটাও ১৯৮৪ সালের ‘তোহফা’ সিনেমার ‘এক আঁখ মারু তো’ গানের রিক্রিয়েশন।

গানের কথা না হয় বাদ দিলাম। ছবির কয়েন ফাইটের দৃশ্যটা নেওয়া হয়েছে ২০১৪ সালের তামিল ছবি ‘কাঠঠি’ থেকে। যদিও, বিজয়ের ধারের কাছেও পৌঁছাতে পারেননি টাইগার। টাইগারকে দিয়ে নির্মাতা অনেক কিছু করানোরই চেষ্টা করেছেন। টাইগারও বরাবরের মতই ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’।

তিনি মাটি থেকে লাফ দিয়ে উঠে হেলিকপ্টারে উঠেছেন, মারামারির একটা পর্যায়ে তিনি ভেঙে ফেলেছেন হেলিকপ্টার। না, তিনি কোনো সুপার হিরো ছবি করছিলেন না। রক্ত-মাংসের মানুষের এত ঐশ্বরিক ক্ষমতার কথা নির্মাতা তাঁর উর্বর মস্তিষ্ক দিয়ে কল্পনা করতে পেরেছেন, কিন্তু পর্দায় দর্শক-সমালোচকরা গ্রহণ করেনি। সব মিলিয়ে ছবিটা ছিল একটা ফুলে ফেঁপে ওঠা জগাখিচুড়ি!

টাইগার শ্রফ ছবিতে যে হারে শরীরের পেশি দেখিয়েছেন, আর আকাশে উড়েছেন, তাতে নিশ্চিত যে তিনি খুব শিগগিরই হয়তো ডিসি বা মার্ভেল-দের কাছ থেকে সুপারহিরো ছবির জন্য প্রস্তাব প্রস্তাব প্রত্যাশা করছেন। যদিও, সেসব না ভেবে যদি স্ক্রিপ্ট নির্বাচনের দিকে আরেকটু বেশি নজর দেন তাতে তাঁর, দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রি – সবারই মঙ্গল।

নির্মাতা আহমেদ খানও ছবিটি দিয়ে টাইগার শ্রফের মত সুপার হিরো হতে চেয়েছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্যুটিং শুরু করে, অক্টোবরেই তিনি শেষ করে ফেলেছেন। ২০১৮’র শেষে ঘোষণা দিয়ে ২০২০-এর শুরুতেই থিয়েটারে চলে এসেছে ছবি। ছবিটা ‘অতিমানবীয়’ হয়ে ওঠার পেছনে এই কারণটাও ফেলে দেওয়ার মত নয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।