মোহাম্মদ আজমল হক: ভারতের না বাংলাদেশের?

মোহাম্মদ আজমল হক ৩০ বছর কাজ করেছেন ভারতীয় আর্মিতে। অবসর নিয়েছেন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) হিসেবে। অথচ তাঁকে নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছে আসাম পুলিশ। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাঁর নামের সাথে যোগ করা হয়েছে ‘সন্দেহজনক ভোটার’-এর তকমা।

পুলিশের দেওয়া নির্দেশাবলীতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর তিনি ভারতে প্রবেশ করেছেন। যদিও, নিজেদের এই সন্দেহের পেছনে কোনো যৌক্তিক দলিল দেখাতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহনীর সদস্যরা।

ভারতীয় আর্মির সনদপত্রও দেখিয়েছেন আজমল। তবে, সেটাতে মন ভরেনি পুলিশের। আসাম পুলিশের ফরেনার বুরো থেকে সাবেক এই জেসিওকে সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, ভারতের নাগরিক হওয়ার প্রমাণ দেওয়ার কোনো বিকল্প রাস্তা খোলা নেই তাঁর সামনে।

আসামে নিজের বাড়িতে আক্ষেপ করে আজমল বলেন, ‘এটা খুব অপমানজনক। আমি দেশের সুরক্ষার পেছনে নিজের জীবনের ৩০ টা বছর ব্যয় করলাম। সেই দেশের কাছেই এবার আমাকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। যাই হোক, আমি না হয় কাগজপত্র দিলাম। যদি প্রমাণ হয়ে যায় তো ভাল। কিন্তু, যদি না হয়, যদি আমার কাগজপত্র তাঁদের কাছে যথার্থ মনে না হয়, তাহলে সেটা বড় অপমান। এর চেয়ে বড় অপমান আর কোনো কিছুতেই হওয়া সম্ভব নয়।’

গেল ৩০ জুলাই আসামের নাগরিকদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় সরকার। সেই তালিকায় জায়গা হয়নি আজমলের। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে আসছে ডিসেম্বরে। প্রাথমিক এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন আসামে বসবাসকারী ৪০ লাখ মানুষ। আর বলাই বাহুল্য যে, এদের অধিকাংশই মুসলিম।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার সময়ই বলেছিলেন, তিনি আসামের অবৈধ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ‘হুমকি’ দিয়ে রেখেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে ভারত ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে।

এর আগে আজমলের স্ত্রীও একই রকম সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। তবে, আবেদন করে সেই সমস্যার সমাধান হয়। তবে, এবার আজমল আগের চেয়ে বেশি ‘সিরিয়াস’। জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে একজন আইনজীবি নিয়োগ দিয়েছেন। আইনজীবি জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরে তাঁর মক্কেল এই নিয়ে হয়রানীর শিকার হয়েছেন। ফলে, দ্রুতই এই সংকট নিরসনে তাঁর পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো কমতি হবে না।

– আল জাজিরা অবলম্বনে, টাইমস নাও ও আউটলুক ইন্ডিয়া অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।