কেন আরো বেশি কাঁদিয়ে উড়াল দিলেন আকাশে!

এসএসসির রেজাল্টের পরে প্রথম আলোর সংবর্ধনায় গিয়েছি। মঞ্চে শেষে আসলেন আইয়ুব বাচ্চু। ফ্যান্টাসি কিংডমের কন্সার্ট প্লেসে সবাই দাঁড়িয়ে আইয়ুব বাচ্চুর নামে স্লোগান দেয়া শুরু করলো। কয়েকদিন পরে নির্বাচন হবার কথা। উপস্থাপক সুমনা শারমীন বলছেন, ‘বাচ্চু ভাই নির্বাচনে দাঁড়ালে তরুণদের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন!’

আমরা সবাই উল্লাসধ্বনিতে সেই কথার সাথে সমর্থন জানালাম। তাঁর কনসার্টের একটা বৈশিষ্ট্য ছিল যে কনসার্টটা শেষ করতেন গিটারে ‘আমার সোনার বাংলা’ তুলে। সেদিনও তুললেন! হৈ-হুল্লোড় করতে থাকা আমরা সপাটে দাঁড়িয়ে গেলাম। গিটারের সেই জাতীয় সংগীতের সুর গা ভেদ করে প্রতিটি শিরায় স্পর্শ করছিলো! কী অদ্ভুত মাদকতা!

ক্যাসেট কেনার জন্য বাসা থেকে কখনো টাকা চাইবার দুঃসাহস করিনি। অনেক কষ্টে কিভাবে যেন প্রথম যে ক্যাসেটটা কিনেছিলাম সেটা আইয়ুব বাচ্চুর ‘এক আকাশ তারা’র অ্যালবামটা ছিল! তখন ক্যাসেটের গায়ে প্রত্যেক গানের লিরিক্স লেখা থাকতো। মুখস্থ ছিল অ্যালবামের প্রত্যেকটা গান। ইত্যাদিতে তিনি একেকটা গান গাইতেন, আর পরের কয়েক সপ্তাহ পুরো বাংলাদেশ সেই গান গাইতো! ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘সেই তুমি’, ‘রূপালি গিটার’ – তাঁর গানের তো শেষ নেই।

অনেক শিল্পীর অনেক অ্যালবামের সাধারণত এক-দুইটা গান করে হিট হয়। আইয়ুব বাচ্চু একজন মানুষ ছিলেন যার অ্যালবামের প্রত্যেকটা গান হিট হতো। আমাদের প্রত্যেকটা গান মুখস্থ থাকতো। কোন কনসার্টে তিনি শুধু গানটা শুরু করে দিতেন, আমরা বাকিটা পুরোটাই গাইতাম! এমন কোন গানের আড্ডা নেই, যেখানে তাঁর গান গাওয়া হতো না।

আমাদের মতো বেসুরোদের চিৎকার করা গানের সঙ্গী, আমাদের ক্যাসেট থেকে সিডি হয়ে ইউটিউবে ট্রান্সফর্মেশন জীবনের সঙ্গী, আমাদের মতো নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের জন্য আইয়ুব বাচ্চু আর এলআরবির কোন তুলনা নেই!

হে গিটারের জাদুকর, আমরা তো আপনাকে কাঁদাইনি। তবু অকস্মাৎ আপনি কেন আরো বেশি কাঁদিয়ে উড়াল দিলেন আকাশে?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।