প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর এক মায়াবী মুখ

টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিনি। যার প্রাণবন্ত হাসি যেন মন ভরিয়ে দেয় দর্শকের, সাধারণ সৌন্দর্যতায়ও মুগ্ধ ছড়ান তিনি। শুধুমাত্র নাট্যজগতে নয়, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সমান পারদর্শী। নাটক, টেলিফিল্ম, উপস্থাপনা, এমন কি নাচ- সব ক্ষেত্রেই তার দ্যুতি ছড়ানো প্রতিভা।

জন্ম ১৯৭৯ সালের এক মে। মাত্র আড়াই বছর বয়সে জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটক ‘সকাল-সন্ধ্যা’র পারুল চরিত্রটিতে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। অবশ্য টিভি মিডিয়ায় অপির প্রথম কাজ ছিল ‘কলকাকলী’ নামের একটি অনুষ্ঠানে। ১৯৯৯ সালে লাক্স ফটোজনিক সুন্দরী হবার পর লাক্সের মডেল হওয়ার সুবাদে বড় ধরনের সুযোগ আসে অপির মডেলিং ক্যারিয়ারেও। এদিকে মঞ্চদর্শকদের মাঝেও অপি সমানভাবে প্রশংসিত হতে থাকে রক্ত করবীর ‘নন্দিনী’র জন্য।

টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করা শুরু করেন ১৯৯৯ সালে ‘তেপান্তরের রুপকথা’ টেলিফিল্ম দিয়ে। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন নাট্যঙ্গনের একজন শীর্ষ অভিনেত্রী। তাঁর এই সফল যাত্রায় সাফল্যমন্ডিত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে নাট্যজগতের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘৫১ বর্তী’ নাটকটি।

এই নাটকে ‘শিউলি’ চরিত্রে অভিনয় করেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেন। এছাড়া দুই জোনাকি, শুকনো ফুল রঙিন ফুল, আঁচল, দয়িতা, বৃষ্টি পরে, অন্ধকারের আলোয় তুমি, নুসরাত সঙ্গে একটি গল্প, বালক বালিকা, নির্জন স্বাক্ষর, ভালোবাসার গল্প রচনা, আলো আমার আলো, অপরিচিত, দিল দরিয়া, স্বপ্ন+হৃদয়, ছায়াফেরী, ছায়াযোগ জলছাপ, থতমত এই শহরে, পুরাঘটিত বর্তমান, এই শহর মাধবীলতার না, মাধবীলতা গ্রহ আর না, তাহারা সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে নিজেকে করেছেন প্রশংসিত, আর পেরিয়েছেন জনপ্রিয়তার ধাপ।

উপস্থাপনা করেছেন ‘আমার আমি’ ও অপি’স গ্লোয়িং চেয়ারের মত দুটি জনপ্রিয় সেলিব্রেটি শো-এ। সর্বশেষ অমিতাভ রেজার নির্মানে ওয়েব সিরিজ ‘ঢাকা মেট্রো’-তে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন অপি।

২০০৪ সালে করেছেন ক্যারিয়ারের একটি মাত্র চলচ্চিত্র ‘ব্যাচেলর’ভ আর তাতেই পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার ও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার। নাট্যজগতের বর্ণিল ক্যারিয়ারে ৫১ বর্তী (২০০৩) ও শুকনো ফুল রঙিন ফুল(২০০৫) এর জন্য পেয়েছেন দর্শকজরিপে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, এছাড়াও সমালোচকে পেয়েছেন নুসরাত সঙ্গে একটি গল্প (২০০৭) ও মাধবীলতা গ্রহ আর না (২০১৬) এর জন্য পুরস্কার।

নন্দিত এই অভিনেত্রীর পড়াশোনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জাপান থেকে নিয়ে এসেছেন উচ্চতর ডিগ্রি। বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে। অভিনয়ে বর্তমানে অনিয়মিত হলেও বিভিন্ন উৎসবের নাটকে দেখা যায়। ব্যক্তিজীবনে নানা চড়াই-উৎরাই পেরোবার পর সম্প্রতি ঘর বেঁধেছেন পরিচালক এনামুর করিম নির্ঝরের সাথে। নতুন এই দম্পতির জন্য রইল শুভকামনা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।