লিটনের ফ্ল্যাট নয়, লিটনের ব্যাট

ফর্মে থাকা একজন লিটন দাস কি করতে পারেন, সেটা বোঝা গেল দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আগের ১৭ ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নিয়েও কোন হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। সেখানে এবার ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে বসলেন।

দুবাইয়ে টস হারা বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস শুরু করেন লিটন। তার সঙ্গী ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। উদ্বোধণী জুটিতে ১২৫ বলে ১২০ রান যোগ করেন তারা। এর মধ্যে ৩৩ বলেই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ডান-হাতি ব্যাটসম্যান লিটন। হাফ-সেঞ্চুরির পর পরই জীবন পান তিনি।

ভারতের বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন লিটন। সেই ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন মিড উইকেটে থাকা ভারতের যুজবেন্দ্রা চাহাল।

ফলে জীবন পেয়ে ৮৬ তম বলে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। ১১ টি চার ও দু’টি ছক্কায় নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। লাইফ পাওয়ার পর যে খেলাটা খেললেন সেটাই আসল।

শেষ অবধি ১১৭ বলে ১২১ রান করে কুলদ্বীপ যাদবের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ইনিংসে ছিল ১২ টি চার ও দু’টি ছক্কা।

বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ২২২ রানে। অতিরিক্ত খাত থেকে এসেছে সাত রান। মানে বাকি ব্যাটসম্যানরা মিলে করেন মাত্র ৯৪ রান। এর মধ্যে মেক শিফট ওপেনার হিসেবে নামা মেহেদি হাসান মিরাজ ৩২ ও সৌম্য সরকার ৩৩ রান করেন। মানে বাকি সাত ব্যাটসম্যানের রান যোগ করলে হয় মোটে ২৯ রান।

বাংলাদেশের ইনিংসের ৫৪.৫০ শতাংশ রানই আসে লিটনের ব্যাট থেকে। দলীয় ইনিংসের অনুপাতে এর চেয়ে বেশি রান এর আগে আরো দুই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান করেছেন। প্রথমটা এবারের এশিয়া কাপেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দলীয় ২৬১ রানের মধ্যে ১৪৪ রানই করেন মুশফিক। মানে দলীয় রানের ৫৫.১৭ শতাংশই আসে মুশফিকের ব্যাট থেকে।

দ্বিতীয় নজীরটা ২০১০ সালের। সেবার ঢাকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম করেন ১১৫ রান। বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ছিল ২২৮ রান। মানে ৫৪.৮২ শতাংশ রান তামিম একাই করেন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ভাল সূচনার পরও ৪১ রানে মাথায় উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছিলেন। এবার সেই অপবাদটাও দূর হল। খেলার ফলাফল যাই হোক না কেন, লিটনের এই সেঞ্চুরিটা রেকর্ডবুক থেকে কখনো মুছে যাবে না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।