৮০ বছর বয়সে কমনওয়েলথ গেমসে!

৭৯ বছর নয় মাস – বলা যায় প্রায় ৮০ বছর বয়স। এই বয়সটাতে একজন মানুষ ঠিক কি করেন সময় কাটান? অধিকাংশ মানুষই তো এই সময় অবধি বাঁচেনেই না। আর যারা বাঁচেন তাঁরাও নিজেদের জীবনের শেষ গোণা শুরু করে দেন। যদিও, এই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন কানাডার শ্যুটার রবার্ট পিটক্যারিন।

অস্ট্রেলিয়ার গোলকোস্টে চলমান কমনওয়েলথ গেমসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগী হিসেবে তাঁর অভিষেক হয়ে গেছে। কুইন্স প্রাইজপেয়ার্স শ্যুটিংয়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে বেলমন্ড শ্যুটিং রেঞ্জে পার্টনার নিকোলে রোজিগনলকে নিয়ে হাজির হন ৭৯ বছর নয় মাস বয়সী রবার্ট। রীতিমত অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার

ফলে তিনি বয়সের দিক থেকে টপকে যান এর আগে সবচেয়ে বয়সী প্রতিযোগী হিসেবে গেমসে অংশগ্রহণকারী ডোরেন ফ্লান্ডার্সকে। ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত গেমসে লন বল ইভেন্টে অংশ নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছিলেন ৭৯ বছরে পা রাখা ডোরেন। তবে বিমান বাহিনীর সাবেক ক্যাডেট পিটক্যারিন গোল্ডকোস্টে অংশ নিয়ে বয়সের দিক থেকে তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

নতুন রেকর্ড গড়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় পিটক্যারিন বলেন, ‘বয়সের নতুন এই রেকর্ড গড়তে পেরে আমি আমার স্বাস্থ্য ও ক্রীড়ামোদী মানসিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যেটি আমাকে গোল্ডকোস্টের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।’

পিটক্যারিন একজন বাণিজ্যিক বৈমানিক ছিলেন। তার একটা পুরনো ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭৪ সালে বিমান চালনার সময় তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন। এ সময় তার ৭৩৭ বিমানে ১২০ জন যাত্রী ছিলো।

১৯৬০ সালে তিনি শ্যুটিং শুরু করেছিলেন। এ সময় তার লক্ষ্যভেদ দুর্দান্ত থাকলেও কখনো কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহণের প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অংশ নেননি। ১৯৯৮ সালে অবসরগ্রহণের পর তিনি এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ২০০২ সালে অল্পের জন্য তিনি ম্যানচেস্টার গেমসে সুযোগ লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর ডান হাতি এই শ্যুটার আরো বেশী দৃঢ়চেতা হয়ে ওঠেন এবং ২০১৮ গেমসকে সামনে রেখে প্রশিক্ষণে মনোনিবেশ করেন।

সর্বশেষ গেমসের জাতীয় ট্রয়ালে ডানহাতি এই শ্যুটার দারুণভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে দুই স্থানের একটিতে জায়গা করে নেন। এটি উদযাপনের অংশ হিসেবে তিনি নিজের ২২ বছরের পুরনো শ্যুটিং জ্যাকেট পাল্টে লাল- সাদার নতুন জ্যাকেট গাড়ে চড়ান।

পিটক্যারিন বলেন, ‘অতীতে আন্তর্জাতিক শ্যুটিংয়ে আমার অনেকগুলো সফলতা রয়েছে। তবে গোল্ডকোস্টের এই কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহণের এই সুযোগটি আমার কাছে অবিস্মরণীয়। এ জন্য আমাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

পেয়ার্স ইভেন্টে ৫৭৯-৪৯ স্কোর করে অষ্টম স্থান লাভ করেছে পিটক্যারিন জুটি। এতে ৫৮৪-৬১ স্কোর করে স্বর্ণপদক জয় করেছে ইংল্যান্ডের পারাগ প্যাটেল ও ডেভিড লুকম্যান জুটি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।