ভারত-বাংলাদেশ লড়াই: শুধুই ‘হাইপ’ নয়!

‘আসলে অনেককেই অবাক করে দিয়েই বাংলাদেশ ফাইনালে। পাকিস্তান-ভারতের ফাইনালের জায়গায় তারা রোহিতদের সঙ্গী!’

স্টার স্পোর্টসের বিশেষ প্রোগ্রামটায় উপস্থাপিকার কথা শুনে চোয়াল ঝুলে গেছে! এই নারী বলে কি! ফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়েই তো মাশরাফিরা দেশ ছেড়েছিল! এরা তো দেখি কোন খবরই রাখে না!

আশঙ্কা সত্য হলো। মুশফিকের ছবি যাচ্ছে। তার ৯৯ রান কত মূল্যবান সেটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন দুই প্রেজেন্টার। সমস্যা হলো মুশফিক যখন মুস্তাফিজুর রহিম হয়ে যান! ভাবলাম কানে কম শুনলাম! হয়তো ভুলই শুনেছি।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে অনেক কথাই চলছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ হলেই কেমন যেনো চাপা একটা উত্তেজনা। কেউ কেউ তো যুদ্ধ বানিয়ে দেন ম্যাচের আগের দিন। এই উত্তাপটা কতটা কাজে লাগে তা বলা মুশকিল! কিন্তু দুই দেশের সাধারণ ক্রিকেট প্রেমীদের যেসব কথা দেখছি, তাতে মোটামুটি নিশ্চিত একটা সরলীকরন হয়ে গেছে সবার অলক্ষ্যেই।

কলকাতার বাঙালিগুলো বাংলায় কথা বলে একটু কম সম সমালোচনা করে। কিন্তু অন্য প্রদেশগুলোর সে সমস্যা নেই। বাংলাদেশ তাদের কাছে পুঁচকে দেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলোতে তীর্যক ভাষায় বাংলাদেশকে আক্রমণ করা বলে দেয়, এটা সাধারণ একটা ম্যাচ আর নয়। একটু বেশি কিছুই।

মনে আছে ২০১৫ সালে ভারত যেবার সাকিবদের কাছে ১-২তে ওয়ানডে সিরিজ হারলো সেবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে বারবার প্রশ্ন ছুটে যাচ্ছিল ভারত ও বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্টের কাছে। প্রশ্নটা একরকম ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এরকম যে, পাকিস্তান এখন আর আগের জায়গায় নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভাল না ভারতের সঙ্গে। তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নতুন কোন মাত্রা যোগ করেছে কি না!

মেলবোর্নে রোহিত শর্মার ওই নো বল বিতর্ক নিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে কম তো হয়নি। হয়তো তিন বছর আগের ওয়ানডে সিরিজ আর বিশ্বকাপ বিতর্ক দিয়ে নতুন হাইপ তৈরী করার চেষ্টা ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে ভারতের কাছে ম্যাচটা ১ রানে হারের পর অনেক কিছুই বদলেছে। যার দায় দু দেশের ক্রিকেট ভক্তদেরই।

বীরেন্দ্র শেবাগ আমার পছন্দের একজন ব্যাটসম্যান।

তাঁর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি বিরোধী টুইটগুলো মনে জ্বালা ধরিয়ে দেয়ার মত। সেই শেবাগ দেখলাম পাকিস্তানকে হারানোর পর বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসিয়ে নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পারফরর্ম্যান্সই বড় কথা। চাপের মুখে মাথা উঁচু করে খেলাটাই বড় ব্যাপার। সুনীল গাভাস্কার সাকিবের না খেলা নিয়ে কাল অনেক সমালোচনা করেছিলেন না জেনেই। না জেনে বলাটা এক ব্যাপার। কিন্তু আতঙ্কের ব্যাপার হলো তারা বাংলাদেশের ব্যাপারে কোন খোঁজ খবরই রাখছেন না! তার মানে ধর্তব্যেই রাখতে চাননি। চাইছেন না। যার মানে গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে ক্রিকেটটা ধরে রেখেছে, র‌্যাংকিংয়ে ধীরে হলেও উন্নতি করেছে সেটা অজিত আগারকারদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। বা দেখেও দেখছেন না।

এটাই হলো আতঙ্কের। আফগানিস্তানে উন্নতিতে ভারত বা বিশ্ব ক্রিকেটের দরবার যেভাবে আহ্লাদিত, তার ধারেকাছ দিয়েও নেই বাংলাদেশ। সবাই সমান কপাল নিয়ে জন্মাবে না। কিন্তু যার যা প্রাপ্য সেটা না দিলে কিভাবে?

শুক্রবার বিকেলে আরো একটা বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল। গত দুই বছরে তিনবার। এই একটা তথ্যই যথেষ্ট। এশিয়াতে গত চার বছরে ভারত এক নম্বর দল হতে পারে। তার পরের সেরা দলটা কিন্তু বাংলাদেশই!

পাদটীকা:

এই এশিয়া কাপে দশজনের বেশি সাংবাদিককে এসিসি অ্যাক্রেডিটেশন দেয়নি। অনেক বলে কয়ে আরো কয়েকজনেরটা বাড়াতে পেরেছে বিসিবি’র মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট। তাও শর্ত শুধু বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কাভার করা যাবে। অর্থাৎ বুধবার পাকিস্তানকে বাংলাদেশ যদি না হারাতো তবে, মাঠের বাইরে থেকেই সংবাদ করতে হতো এ দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের বড় একটা অংশের।

মাশরাফীরা সেই গ্লানির হাত থেকে রক্ষা করেছেন। অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সবচেয়ে ভাল জায়গা ২২ গজ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।