সালমান শাহ ছিলেন বলে…

বাংলা চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহ। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই তিনি স্থান করে নিয়েছেন দর্শকদের হৃদয়ে। মৃত্যুর এত বছর পরেও তিনি যেন বর্তমান। তাঁর অসংখ্য ভক্তদের কাছে তিনি চিরন্তন। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারের মোটে ২৭ সিনেমা দিয়েই তিনি তাঁর ভক্তদের কাছে চিরন্তন। সিংহভাগই ব্যবসায়িক মানদণ্ডে সফল। কিছু ছবি তো জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। সালমান শাহ’র সিনেমার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল প্রত্যেকটা সিনেমাতেই অন্তত একটি হলেও কালজয়ী গান আছে। কিংবা এভাবেও বলা যায়, সালমান শাহ ছিলেন বলেই গানগুলো হয়েছে কালজয়ী।

  • ভালো আছি ভালো থেকো

বাংলা চলচ্চিত্রের গানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা শৈল্পিক সৃষ্টি। কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার কবিতাকে সুরের বাঁধনে ফেলে এক মোহ সৃষ্টি করেছিলেন সুরস্রষ্টা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। আর কন্ঠে মাদকতায় মুগ্ধ করেছিলেন এন্ড্রু কিশোর,ক্যারিয়ারে উনি অসংখ্য গান গেয়েছেন। তার মধ্যে এটি অবশ্যই অন্যতম সেরা, এই গানে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছিলেন কনকচাঁপা। ১৯৯৬ সালের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘তোমাকে চাই’ তে এই গান ব্যবহৃত হয়েছিল। আফসোসের বিষয় তৎকালীন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ড এই অনিন্দ্য সুন্দর গানটিকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, এটা ভাবলে হতবাকই হতে হয়।

  • তুমি আমার এমনই একজন

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার গান এটি। মানসিক ভারসাম্যহীন খসরুকে ভালোবেসে গান গাচ্ছেন বান্ধবী ভাবনা, আর পেছনে দেখছেন প্রেমিকা দোলা। সিনেমার সাথে গান যেন একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। ব্যক্তিগত ভাবে যদি গায়িকা কনকচাঁপার সেরা গান নির্বাচন করতে বলা হয়,তবে আমি এটিকেই বেছে নেব। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির এই গানটিও জাতীয় পুরস্কারে বঞ্চিত হয়েছিল।

  • ও আমার বন্ধু গো

সাধারণত সরাসরি রিমেক গান সেইভাবে আবেদন ছড়ায় না, কিন্তু এই গানটি ব্যতিক্রম। ‘অ্যায় মেরি হামসাফার’ গানটিকে বাংলায় রুপান্তর করেছিলেন গীতিকার মনিরুজ্জামান মনির ও সুরকার আলম খান। ১৯৯৩ সালের আলোচিত ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ এ গানটি গেয়েছিলেন রুনা লায়লা ও আগুন। গানটি এখনো সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

  • পৃথিবীতে সুখ বলে

সালমান শাহ’র গানে নিয়মিত গান গেয়ে পরিপূরক হয়ে উঠেছিলেন আগুন, এই জুটির গান মানেই শ্রোতাপ্রিয়তা, সেইরকম ই এই গানটি। ১৯৯৬ সালের ‘জীবন সংসার’ ছবির এই গানে আগুনের সঙ্গে এই গানে কন্ঠ দিয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। জাকির হোসেন রাজুর লিখায় এই গানের সুর দিয়েছিলেন আবু তাহের। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি শৈল্পিক ভাবে সমাদৃত এই গানটিও জাতীয় পুরস্কারে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

  • তুমি আমার মনের মানুষ

মনিরুজ্জামান মনিরের কথায় আলাউদ্দিন আলীর সুরে এবং সাবিনা ইয়াসমিন ও রফিকুল আলমের কন্ঠে এই গানটিও বেশ দর্শকনন্দিত। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ সিনেমায় এই গানটি ছিল উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

  • তুমি মোর জীবনের ভাবনা

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে এই গানটিতে কন্ঠ দিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর ও সালমা জাহান। ব্যাপক জনপ্রিয় এই গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমায়। সালমা জাহান বেশিদিন প্লেব্যাক করেননি, তবে এই একটি গানের জন্য তিনি আলোচিত হয়ে থাকবেন। তবে এই ছবিতেই গানটি কনকচাঁপাও গেয়েছিলেন।

  • একাত্তরের মা জননী

মুক্তিযুদ্ধের অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো অস্থিতিশীল। এই আলোকেই এই গানের কলকথা লিখেছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, সুর ও দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বিক্ষোভ’ সিনেমার এই গানটি বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত অন্যতম জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান এটি,আলোচিত এই গানে কন্ঠ দিয়েছিলেন রুনা লায়লা ও আগুন।

  • এখন তো সময় ভালোবাসার

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির এই গান সরাসরি রিমেক হয়েও বেশ সমাদৃত। ‘গজন ক্যা হ্যায় দিন’ গানের আদলে বাংলায় গান লিখেছিলেন মনিরুজ্জামান মনির, সুর দিয়েছিলেন আলম খান। রুনা লায়লা ও আগুনের কন্ঠের মাদকতা ও সালমান- মৌসুমীর রসায়ন এই গান পেয়েছে পূর্ণতা।

  • আমি যে তোমার কে

বাংলা চলচ্চিত্রে অন্যতম সমাদৃত রোমান্টিক গান। মিল্টন খন্দকারের কথায় এই গানে সুর দিয়েছেন আলম খান। আগুন ও সাবিনা ইয়াসমিনের সমধুর কন্ঠে এই গানটি পেয়েছিল পূর্ণতা,সঙ্গে সালমান- শাবনূরের রসায়ন। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বিচার হবে’ সিনেমায় এই গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল।

  • শুধু একবার, শুধু একবার

মাসুদ করিমের কথায় আলাউদ্দিন আলীর সুরে বেশ জনপ্রিয় ও সমাদৃত এই গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল ১৯৯৫ সালের আলোচিত ছবি ‘দেনমোহর’-এ। সাবিনা ইয়াসমিন ও খালিদ হাসান মিলুর মুগ্ধ করা কন্ঠে এই গানের আবেদন আরো বাড়িয়ে দেয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।