আর্টসেল নাকি ‘লিংকন অ্যান্ড কিডজ’?

ফেসবুকে গানবাংলার পেজে ‘জয় বাংলা কনসার্ট ২০১৮’ লাইভ দেখছিলাম। অসংখ্য ফ্যান ‘আর্টসেল’ এর অপেক্ষায় থেকে শেষ পর্যন্ত এটাকে ‘লিংকন এন্ড কিডজ’ বলেই ট্রল করেছে।

ব্যান্ড অনেকটা একটা প্রতিষ্ঠানের মতো। মেম্বার যাবে আসবে এটাই নিয়ম। বিশ্বে ৫০-৬০ বছরের পুরাতন ব্যান্ড আছেনা? তো প্রথম কথা হচ্ছে তারা যদি পুরানো লাইন আপে ফিরে আসতে পারে (যেটা অসম্ভব মনে হচ্ছে) তাহলে খুব ভালো। আর যদি না পারে তাহলে আপাতত স্টেজ শো বন্ধ করুক, সেজান ভাই, সাজু ভাইকে ফেরানো সম্ভব হলে দেশে এবং ব্যান্ডে ফেরাক। সেটাও না হলে এখন থামুক, ভালো মানের পারফর্মার আনুক যারা অন্তত আর্টসেল নামের সাথে যায়।

তাদের নিয়ে আগে ভালো করে অনুশীলন করুক তারপর আবার স্টেজে ফিরুক। আর্টসেলের অ্যালব্যাম মাত্র দুটি কিন্তু গানগুলা এতোটাই জনপ্রিয় এবং অন্তরে গেঁথে আছে যে সামান্য ভুল/বিচ্যুতি হলেও সেটা আমরা ধরে ফেলি এবং ভালো লাগেনা। তাই পর্যাপ্ত অনুশীলন ছাড়া তাদের আর স্টেজে আসা উচিৎ না। এভাবে মুমূর্ষু অবস্থায় টিকে থাকার জন্য আর্টসেলের জন্ম হয়নি। আর্টসেলিজম কথাটা এমনি এমনি আসেনি। ব্যান্ড থেকে ব্র্যান্ড ফ্যানরাই বানিয়েছে। আর একটা ব্যান্ডের ভেতর সমস্যা হতেই পারে, কিন্তু এতো নোংরামি কেন?

কেন একজনের স্ত্রী ইনভলভ হবে? আর এতো লম্বা সময় ধরে সমস্যা কিভাবে চলে? এর ভেতরও কিন্তু এরশাদ ভাই বাজিয়েছিলেন কিছুদিন, সেজান এসেছিলেন। কিছুদিন পর আবার তারা চলে যান, আর এইসব ‘কিডজ’ নিয়ে লিংকন স্টেজে উঠেন। এভাবে এই ‘কিডজ’ যারা তারাও সেট হতে পারেনা, ডাউট কাজ করে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিক, কিছুদিন গ্যাপ দিক। আবার ফিরুক সম্পুর্ন প্রস্তুত হয়ে।

আর অন্যসব যেমন তেমন, লিংকন ভাইয়ের ভোকালের এমন করুন অবস্থা কেন? এই নিয়ে কয়েকবার শুনলাম ‘অনিকেত প্রান্তর’ গাওয়ার সময় লিরিক্স, সুর সব ভুল করতেছেন। তাহলে কিভাবে হবে?

তবে আর্টসেলের অরিজিনাল লাইন আপ প্রচন্ড মিস করি। তাদের ভেতর সমস্যা যেটাই হোক, সাফার করছে ফ্যানরা, অর্গানাইজাররা। আর্টসেল বেশ কিছু স্টেজ শো কনফার্ম করেও পরে বাতিল করেছে কোন লাইন আপ নিয়ে যাবে সেই সমাধান না করতে পেরে! আর্টসেল কি এখন জর্জ লিংকন ডি’কস্টা একাই? অন্যরা কেউই কি আর ফিরবেন না?

গতকাল গান গুলা শুনে প্রচন্ড হতাশ হয়েছি। এটা আর্টসেল না! মাইলসের জুয়েল পর্যন্ত ফেসবুকে লিখেছেন ‘আগে সব এক করো, তারপর স্টেজে উঠো, অবিশ্বাস্য!’। কেউ কেউ বলছেন এটাই আর্টসেলের ফাইনাল লাইন আপ! তাই যদি হয় তাহলে সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। অনেকে বলবেন লিংকন ভাই একাই আর্টসেল টিকিয়ে রেখেছেন বা চেষ্টা চালাচ্ছেন, হয়তো ঠিক আবার হয়তো ঠিক না!

এটাকে কি টিকে থাকা বলে? তেলাপোকার মত টিকে থাকার কি মানে? আর সত্যি বলতে লিংকন ভাই ক্ষ্যাপ মেরে বেড়াচ্ছেন আর্টসেল ব্যানারে। যখন একটা ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চারজনের ভেতর তিনজনই ব্যান্ডে থাকেনা এবং ভোকাল নিজে তার সেরা সময় পার করে ধুকতে থাকে তখন সেই ব্যান্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখাই উচিৎ। এখন যেটা আছে সেটা হচ্ছে স্বান্ত্বণা, যে আর্টসেল নামের কিছু একটা আছে যেটা স্টেজে উঠে যাচ্ছেতাই গান গেয়ে পারফর্ম করে নেমে যায়।

আর্টসেলের কঠিন ফ্যান ‘অনিকেত প্রান্তর’ রিলিজ হবার পর থেকে। আমার কাছে মন খারাপের ওষুধ মানেই আর্টসেল। ‘অবশ অনুভূতির দেয়াল’, ‘পথচলা’, ‘ধূসর সময়’, ‘তোমাকে’, ‘এই বিদায়’, ‘দুঃখ বিলাস’, ‘অনিকেত প্রান্তর’, ‘অন্য সময়’, ‘উৎসবের উৎসাহে’ ইত্যাদি গান এখনো রাতে ঘুমানোর আগে না শুনলে ভালো লাগেনা!

সব কিছু দেখে আমার মনে হচ্ছে ‘একটি নাটকই দেখি মহাকালের মঞ্চে’ আর সেটা হচ্ছে আর্টেসেলের ভেতর চলমান নোংরা নাটক!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।