লিংকন, আর্টসেল ও আমাদের মেটাল শৈশব

লাইফ ইজ অ্যা সং, লাভ ইজ মিউজিক, মিউজিক ইজ আর্ট অব থিংকিং উইদ সাউন্ড। মিউজিক ইজ আর্টসেল।

‘আর্টসেল’ ব্যান্ডের সাথে আমার পরিচয় আমার বড় ভাইয়ার হোস্টেলে এসে। তখন ২০০৩ সাল চলছে। বড় ভাই আমাকে এসে বলে, ‘দাঁড়া… তোকে একটা নতুন বাংলা ব্যান্ডের গান শোনাই।’ তাঁর পিসিতে অন্য সময় অ্যালবামের অন্য সময় গানটা শুনলাম প্রথম আর আর্টসেলের সাথে প্রথম পরিচয়। প্রতিটা গানেই হলাম মুগ্ধ আর প্রতি দিনে আরো ভালোবাসা ।

প্রথম আর্টসেলের লাইভ কনসার্টে যাই ২০০৩ সালের শেষে অথবা ২০০৪ এর শুরুতে বড় ভাইয়ার সাথে রমনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট-এ। অন্যর রকম ভাল লাগার এক অভিজ্ঞতা।  বড় ভাইয়া স্টেজের দিকে তাকিয়ে বলে দেখ যে ছেলেটা গান গাচ্ছে তার নাম জর্জ লিংকন ডি কস্তা আর্টসেলের ভোকাল আর গিটারিস্ট হচ্ছে এরশাদ ভাই।

আর্টসেলের যাত্রা শুরু হয় নব্বই দশকের শেষ ভাগে, ১৯৯৯ সালের আগস্টে। প্রোগ্রেসিভ রক ঘরানার ব্যান্ড। ওই সময় তাঁদের হাত ধরেই বদলে যায় বাংলাদেশের ব্যান্ড ভূবন। ভোকাল লিংকন ডি কস্তা, একাধারে রিফ গিটারিস্টও তিনি। বলা উচিৎ তিনিই দলে কাণ্ডারী। তাঁর ব্যাপারে কিছু কথা না বললেই নয়।

ভুলজন্মের কোন এক ধূসর সময়। ঘুণে খাওয়া রোদ অতিক্রম করে হেঁটে যাই আমরা। সারিবদ্ধ কৃত্রিম মানুষ হেঁটে চলি কোন এক অপ্সরীর সন্ধানে। ছেঁড়া আকাশের নীচে পাথর বাগান থমকে থাকে। রাহুর গ্রাসে আমাদের এই গন্তব্যহীন পথচলা বিরতি পায় খানিকক্ষণ।

‘বাংলাদেশ-স্মৃতি ও আমরা’ খোদাই করা শহীদ স্মরণীর মোড়ের স্মৃতিস্মারকটা ভেঙ্গে পড়ে। অন্ধকারে শোনা যায় শুধু ছায়ার নিনাদ। অদেখা স্বর্গের পথে নির্দেশ আসে, কান্ডারী হুঁশিয়ার। চিলে কোঠার সেপাইরা প্রস্তুত হয়। শুরু হয় অস্তিত্বের দিকে পদধ্বনির সন্মোহন। আজ এই বিদায়ে কোন দুঃখ বিলাস নয়, বসে থাকা শুধু হুঙ্কারের অপেক্ষায়।

মুখোশ পরা আমরা অবশ অনুভূতির দেয়াল অতিক্রম করে বসে থাকি অলস সময়ের পারে। শুধু লীন হয়ে যাওয়ার আগে শেষবার ছুঁয়ে দেখতে চাই বিদায়ী তোমাকে। জানি উৎসবের উৎসাহে আর জন্ম নেবেনা কোন স্বপ্নের কোরাস। অন্যসময়ের ইতিহাস শুধু রূপক হয়ে বেঁচে থাকবে অনিকেত প্রান্তরে।

শুভ জন্মদিন লিংকন ভাই। থ্যাংকস ফর আ ওয়ান্ডারফুল মিউজিক্যাল লাইফ। উইশ করতে একটু বেশিই দেরী করে ফেললাম কী?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।