আপনি কি মজা করছেন?

‘ক্রিকেট ইজ অ্যা জেন্টলম্যান’স গেইম’ বলে একটি কথা আছে। কিন্তু কোথাও লেখা দেখিনি বা শুনিনি যে ‘ক্রিকেট ইজ এ ফানি গেইম’। তবে অনেকেই মনে করে ক্রিকেট একটি মজার খেলা। আসলে মনে করাটাই স্বাভাবিক, কেননা ডব্লিউ জি গ্রেসের মতে এই আধুনিক ক্রিকেটটা আসলেই কয়েক’শ কোটি মানুষের বিনোদনের খোরাক যোগাচ্ছে।

যাই হোক এখন ‘কাজের’ কথায় আসা যাক।

কাজের কথা বলতে এই ‘মজার’ কথাই আজ বলতে এসেছি। তাহলে কান দিয়ে শুনুন। দুঃখিত, কান দিয়ে শুনতে হবেনা, চোখ দিয়ে দেখুন এবং মন দিয়ে পড়ুন। এখনকার ক্রিকেটে দর্শকরা হলো খেলার প্রধান উপাদান। দর্শকশূন্য ক্রিকেট মাঠ যেন লবনহীন তরকারির মত। আর মাঠে দর্শক মানেই যে ক্রিকেট প্রাণবন্ত সেটাও কিন্তু মুখ্য বিষয় নয়, দর্শকদের কে কত আনন্দ দিতে পেরেছে সেটাই হলো আসল। ঠিক এমন অনেক মজার মজার ঘটনার নজির আছে ক্রিকেটে যেটা কিনা শুধু দর্শকদের স্রেফ আনন্দ দেওয়ার জন্যই ঘটিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা।

দ্যা ওভাল ১৯৮১, প্যাভিলিয়ন প্রান্তের সাইটস্কিনের জন্য ডেনিস লিলির বড় রকমের এক ধরনের সমস্যা হচ্ছিল। প্রথিতযশা আম্পায়ার ডিকি বার্ড তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করছিলাম মাঠের সকল দর্শকদের থামাতে। সবাইকে বসতে বলছিলাম বারবার। কিন্তু কেউই কথা শুনছিল না। বাধ্য হয়ে অনেককে বের করে দেওয়া হয়েছিলো। হঠাৎ, আমার কাঁধে কে যেন ধাক্কা খেল। পিছনে ফিরে দেখলাম লোকটি ডেনিস লিলি’ই ছিলো। সে আমার মাথার টুপি খুলে তার মাথায় পরে নিয়ে দৌড়ে গিয়ে সাইটস্কিন ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল।’

লিলির মাথায় বার্ডের টুপি

কাহিনীটা হঠাৎ আজ মনে পড়ে গেল নাসিরের আম্পায়ার হবার কাণ্ড দেখে। ডিকি বার্ডের মত আজকের আম্পায়ার নাইজেল লংও হয়তোবা তার আত্মজীবনীতে নাসিরের এই ঘটনা লিখে ফেলবেন ভবিষ্যতে, ‘অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল ভেবে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে প্যাট্রিক কমিন্সকে আমি শুরুতে আউট দিইনি। মুশি রিভিউ নিল। রিভিউতে দেখা গেল বলটি অফস্ট্যাম্পে হিট করেছে। থার্ড আম্পায়ার আলিম দারের কাছ থেকে সিগনাল পেয়ে যখনই আমি আঙ্গুল তুলব তার ঠিক আগ মুহুর্তে আমার ডানে থাকা নাসির হোসেন আঙুল তুলে জানিয়ে দিল কমিন্স তুমি আউট।’

১৯৭৬-৭৭ সাল, ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ভারত সফরে এসেছে। ক্রিকেট খেলাতেও যে বিনোদন দেখানো যায় সেটা সেদিন দেখিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক টনি গ্রেগ। যখন তিনি দেখলেন মাঠের দর্শকেরা ইংলিশদের অনুকুলে নাই, তখন তিনি খেলা করলেন দর্শকদের সঙ্গে, খুলে ফেললেন মাথার ক্যাপটি, হাটু নিচু করে জোরে চিৎকার করলেন আতশবাজির মত শব্দে। জানিয়ে রাখা ভাল, ওই ম্যাচে ইংলিশরা ২০০ রানে জিতেছিল এবং সিরিজও জিতেছিলো ৩-০ ব্যাবধানে।

পুরোটাই খেয়ে ফেলবো
এই দ্যাখো, আমিও একেবারে ফুলবাবু। বুক বরাবর জামা গুজিয়েছি।
শাস্তিও হতে পারে সেরা বিনোদন। ইংলিশদের টানা হারের জন্য এভাবেই শাস্তি দেওয়া হল কয়েকজনকে।
আমার প্যান্ট কি ছিড়ে গেল নাকি? কেমন যেন ভিতরে বাতাসের আঁচ পাচ্ছি!
২০০৫-০৬ মৌসুমে অ্যাশেজ জয়ের পর পাকিস্তান সফরে গিয়ে হারতে হল ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারতে হল ইংলিশদের। হারের পরে ফিল্ডার ও ব্যাটম্যানদের চোখে পড়ল কেভিন পিটারসেনের ‘সুমো’ পোজ।
অভিবাদন, বন্ধু!
আসুন, ব্যায়াম করি।
সময়টা ১৯৯৩ সাল, টেন্ট ব্রিজ। বিগ মার্ভ কুকুরের সঙ্গে মনে হয় কাবাডি কাবাডি খেলছিলেন বলে মনে হলেও ব্যাপারটা আসলে সেরকম নয়, মার্ক হিউজ টেস্ট ম্যাচের প্রথম বলটি করার আগ মুহূর্তেই মাঠের ভিতরে কুকুর ঢুকে যায়।
ও চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন । এভ্রিবডি নো টু এন্ড্রু ফ্লিনটফ ইজ এ চ্যাম্পিয়ন। ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়ন নাচের তালে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ।
বিরাট কোহলি কি নাচছেন? নাকি নেচে নেচে গাইছেন? ব্যায়াম করছেন? করছেন টা কী এসব!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।