অভিমানী অপু বিশ্বাস ও উস্কে দেওয়া গণমাধ্যম

এদেশের গণমাধ্যম হতাশ মানুষকে স্বান্তনা দেয়না, উস্কে দেয়। উস্কে দিয়ে তার মুখ দিয়ে কথা বের করে তা নিয়ে শিরোনাম করে।আমি শুধু অপু বিশ্বাস ইসুতেই গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দু’কথা লিখছি।

বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা ম্যাডামের জন্মদিনে তার বিরুদ্ধে অপু বিশ্বাস ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দিলেন। তিনি তার নামও ধরেননি। তথাপি গণমাধ্যম অপু বিশ্বাসকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কথা বের করলেন। অপুর অভিযোগ শাকিব খান যখন তার সাথে সংসার অব্যাহত রাখবে না বলে মনস্থির করলেন তখন তিনি শাবানা ম্যাডামের বাসায় সন্তানসহ এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তাকে নাকি দুই ঘন্টা বসিয়ে রেখে ম্যাডাম বাসায় নাই বলে বিদায় দেয়া হয়।

ঘটনার এতদিন পর তিনি এ অভিযোগ জানাচ্ছেন। শাবানা ম্যাডাম তার অভিযোগ জেনে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন।

অপু কি বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন? তিনি অপুর যাওয়ার কথা জানতেন না বলেই দাবি করেছেন। অপু এ প্রশ্নের জবাব না দেয়ায় ধরে নেয়া যায় তিনি না বলেই গেছেন।

কোন সিনিয়র অভিনেতা বা অভিনেত্রীর বাসায় যাওয়ার সময় তাকে আগে থেকে বলে যাওয়া সাধারণ ভদ্রতা। শাবানা ম্যাডাম দেশে আসার পর আলমগীর সাহেব ও রুনা লায়লা ম্যাডাম তার বাসায় দীর্ঘক্ষণ ছিলেন বলে গণমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। তারা তো এমন অভিযোগ আনেননি! জায়েদ খান কিংবা মিশা সওদাগর তাঁর বাসায় যাওয়ার ছবিও দেখেছি। কেউ এমন অভিযোগ আনতে পারেননি। শুধু অপুর বেলায় কেনো!

 

একটা ব্যাপার বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন যখন অপু ও শাকিব ২০০৮ সালে বিয়ে করলেন ও পরের নয় বছর গোপণে সংসার করলেন, নিজেদের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে বিয়ের মত পবিত্র সম্পর্ককে অস্বীকার করলেন, একাধিক বার গর্ভপাত করালেন কিংবা গোপনে ভারতে গিয়ে সন্তান জন্মদান করলেন তখন কাউকে বলার প্রয়োজন মনে করলেন না এখন কেন শাবানা ম্যাডামদের এত প্রয়োজন?

নিজেরা গণমাধ্যমে বিয়ের কথা চেপে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করলেন, কাউকে বিয়েতে পোলাও মাংস বাদ দিলাম একটা মিষ্টি খাওয়ালেন না সেই আপনারা কেন প্রত্যাশা করেন আপনাদের সমস্যায় শাবানা ম্যাডামরা উঠেপড়ে লাগবেন!

আচমকা হাওয়া হয়ে গিয়ে প্রযোজকদের পথে বসালেন, আপনাদের উপর নির্ভর করা পরিচালকরা কাজ হারালেন, হল বন্ধ হতে লাগলো একটার পর একটা আর এখন দায় দিচ্ছেন শাবানা ম্যাডামের!

আপনিতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন। তিনি তো কিছু বলেননি। আপনিতো তাকে দায়ী করছেন না! কারণ আপনি জানেন কারো সংসার অন্য কেউ চাইলে করাতে পারে না! তাহলে শাবানা ম্যাডামের কথা কেন বললেন কারণ শাবানা ম্যাডাম শাবনূর, মৌসুমী, শাকিব খানের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তিনি আপনাকে চেনেন না বলেছেন।

আপনি শাবানা ম্যাডামকে না চেনা বাস্তবতাবিবর্জিত কিন্তু শাবানা ম্যাডাম আপনাকে না চেনা অবাস্তব নয়। যেহেতু আপনাকে তিনি চেনেননি সেহেতু তিন অক্ষরের সবচেয়ে ক্ষতিকারক শব্দ ‘ইগো’ আপনাকে উত্তেজিত করল। সে রাগ আপনি ঝাড়লেন।

আমি বুঝতে পারি আপনার কষ্টের জায়গা কোথায়? শাকিব খান আপনার সাথে যা করেছেন তা ভয়াবহ অন্যায়। তিনি তার স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে ও সন্তানকে নিজের বলে স্ববিরোধী ও অন্যায্য কাজ করেছেন।

আপনিও দিনের পর দিন আপনাদের বিয়ের তথ্য গোপণ রেখেছিলেন শুধু ক্যারিয়ারের জন্য। সর্বশেষ রংবাজ ছবিতে আপনাকে না নিয়ে বুবলিকে নেয়ায় আপনি চলে এলেন সন্তানসহ টিভিপর্দায়!

অপু বিশ্বাস আপনি জানেন আপনি শুধু ক্যারিয়ারকেই দিনের পর দিন প্রাধান্য দিয়ে গেছেন। একই কাজ করে গেছেন আপনার সাবেক স্বামীও! মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের যে আবেগ আপনারা দেখান তার কতটা সোনা আর কতটা ছাই তা আপনারাই ভালো জানেন। শুধু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে এ প্রশ্ন করুন রংবাজ সিনেমায় আপনাকে নিলে কি আপনি সন্তান নিয়ে টেলিভিশনে আসতেন?

উত্তর যদি না হয় তাহলে আপনিও শাকিব খান থেকে খুব আলাদা নন। আপনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলছি শাকিব খানের উপর আপনার যৌক্তিক রাগ আপনি তাঁর উপরই ঝাড়ুন। আপনাদের মাঝখানে শাবানা ম্যাডামকে আনবেন না।

শাবানা ম্যাডাম নিজেই একটা ইন্ডাস্ট্রি। যে ইন্ডাস্ট্রি গড়তে তাকে বিয়ে গোপণ করতে হয়নি, সন্তান গোপণ করতে হয়নি, সন্তান নিয়ে গণমাধ্যমে যেতে হয়নি আর অন্য কোন কিংবদন্তির প্রতি ইঙ্গিত করে অপমানজনক কিছু লিখতেও হয়নি।

গণমাধ্যমের ভাইদের বলবো, অপু বিশ্বাস হতাশাগ্রস্ত একজন মানুষ। তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। তাঁর অভিমান আর হতাশা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু, তিনি যা বলেন সব আমলে নেবেন না। তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পত্রিকার কাটতি বাড়াবেন না। সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করুন। মানুষকে খুঁচিয়ে মতিউর রহমান, আবেদ খান, গোলাম সরওয়ার কিংবা কামাল লোহানী হওয়া যায়না!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।