নায়িকা নয়, গল্পটা আমাদের খলনায়িকাদের

নারী ছাড়া চলচ্চিত্র অপূর্ণ। তবে, সিনেমায় নারী মানে সব সময়ই কিন্তু নায়িকা নয়। অনেক সময় খল চরিত্রেও নারীরা সিনেমার মূল আকর্ষণে পরিণত হয়ে থাকেন। আর ছবিতে খলনায়িকার চলটা ঢাকার সিনেমাতেও আছে। এখানে পুরুষ খল চরিত্রের পাশাপাশি নারী খল চরিত্র ও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। খল চরিত্রে অভিনয় করে সেইসব অভিনেত্রী নিজেদের সমাদৃত করেছেন। সেখান থেকেই সেরা পাঁচটি কাজ নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • রওশন জামিল (জীবন থেকে নেয়া)

পরিবারে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। স্বামী, দুই ভাই থেকে চাকর-চাকরানীরা পর্যন্ত তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকে। সিনেমার প্রেক্ষাপট ছিল স্বাধীনতা পূর্ব আন্দোলন নিয়ে। প্রখ্যাত নির্মাতা এই চরিত্রটি দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের একনায়কতন্ত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এখন পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্রে এই চরিত্রটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় নারী খল চরিত্র। সংসারে কর্তৃত্বকারী এই চরিত্রে অভিনয় করে কিংবদন্তি হয়ে আছেন আমাদের সবার প্রিয় রওশন জামিল।

  • সুষমা আলম (ছোট বউ)

মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারের শ্বাশুড়ী তিনি, তিনিই সব কিছু দিকননির্দেশনা দেয়। শান্ত বড় বৌমাকে দিয়ে সব কাজ করালেও মেজ বৌমাকে সমীহ করে চলেন। এমন সময় বাড়িতে আসে প্রতিবাদী ছোট বউ। এরপরই শুরু হয় শ্বাশুড়ি-বৌমার দ্বন্ধ। খল শ্বাশুড়ীর চরিত্রে সুষমা আলম নিজের সহজাত অভিনয় দিয়ে দর্শক মন জয় করেছিলেন। মূল ছবিতে মানে কলকাতার ‘ছোট বউ’ ছবিতে অভিনয় করা মীনাক্ষী গোস্বামীর সাথে রীতিমতো পাল্লা দিয়েছিরেন রীনা খান।

  • তমালিকা কর্মকার (এই ঘর এই সংসার)

মালেক আফসারীর এই পারিবারিক ছবিতে দেখানো হয়েছিল নারীদের বিভিন্ন রুপ। তেমনি একজন উচ্চাভিলাষী লোভী নারী ‘সাইকা’ চরিত্রে অভিনয় করে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তমালিকা কর্মকার। সৎ স্বামীকে অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জনের জন্য প্ররোচনা, উচ্চাভিলাষী রুপ সবটাই ফুটে উঠেছিল। সিনেমায় তাঁর চরিত্রটি যেন বাস্তব অনেক নারীর চরিত্র প্রতিনিধিত্ব করেছিল, মঞ্চ থেকে আসা এই গুণী অভিনেত্রী নিজের সেরাটা দিয়েছিলেন, জাতীয় পুরস্কারে অবশ্য ভাগ্য সহায় হয় নি। তমালিকার অভিনয়ে ‘তেঁতুল পাতা তেঁতুল পাতা’ গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।

  • রীনা খান (শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ)

বোনের লটারির টাকা আত্বসাৎ করে অনেক টাকার মালিক হয়ে অহংকারী হয়ে উঠেন বাড়ির কত্রী। তাঁর কথাতেই সংসারের সব নিয়মকানুন চলে, স্বামীও তাঁকে সমীহ করে চলে। সব মোড় ঘুরে যায় বড় মেয়ের স্বামীর আগমনের পর থেকে,শুরু হয় শ্বাশুড়ি-জামাই দ্বন্ধ। জমে উঠে সিনেমার কাহিনী। দেবাশীষ বিশ্বাসের এই ছবিতে অহংকারী শ্বাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রীনা খান। নব্বই পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খল অভিনেত্রী নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় করেছিলেন এই ছবিতে।

  • শামীমা নাজনীন (ঘেঁটুপুত্র কমলা)

জমিদার বাড়িতে এসেছে ঘেঁটু দল। এই দলের ঘেঁটু কমলাকে একেবারেই অপছন্দ করেন জমিদার গিন্নী। তাই তাকে হত্যা করার জন্য ঠিক করেন বাড়ির প্রধান নারী ভৃত্যকে। তারপর সেই নারী ভৃত্য সুযোগ খুঁজেন কমলাকে খুন করার জনন্য। হুমায়ূন আহমেদের এই ছবিতে নারী ভৃত্যর চরিত্রে অতুলনীয় অভিনয় করেছিলেন শামীমা নাজনীন, ছবিটি বেশ কয়েকটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার পেলেও হতাশাজনক ভাবে তিনি পান নি। অবশ্য মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছিলেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।