আঁখো দেখি ও আকাশে ওড়ার অনুভূতি

২০১৩ সালের ‘আঁখো দেখি’ ছবিটি দেখেছেন? না দেখে থাকলে এক কাজ করুন, বৃহস্পতিবারের মাঝে সবচেয়ে ভাল প্রিন্ট খুঁজে শুক্রবার বন্ধের দিনে দেখতে বসে যান। আপনার আসন্ন সুসময়ের জন্য অনেক শুভকামনা!

দিল্লিতে নিম্নমধ্যবিত্ত একান্নবর্তী পরিবারে দুই ভাইয়ের সংসার। পঞ্চাশোর্ধ্ব বড় ভাই, এই মুভির প্রধান চরিত্র- বাউজি একদিন ঘোষণা করেন তিনি যা দেখেননি বা অনুভব করেননি তা তিনি আর বিশ্বাস করবেন না। জীবনকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে শুরু করে সব কিছুর সৌন্দর্য্য খুঁজতে থাকেন। তার কিছু ভক্ত জোটে। অনেকে পাগলও ঠাওড়ায়। তিনি দেখেননি এমন বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত কথা বলতে হয় বলে চাকরি ছেড়ে দেন। তার এসব কর্মকাণ্ডে আশেপাশে কী প্রভাব পড়ে এ নিয়েই ছবিটির প্রেক্ষাপট।

বাউজি প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখেন তিনি পাখির মতো উড়ছেন। বাতাস কেঁটে শো-শো করে এগিয়ে যাচ্ছেন। চোখে-মুখে বাতাস তীব্র ধাক্কা দিচ্ছে আর তিনি হালকা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নির্ভার জীবন যাপন করলেও স্বপ্নের এই অনুভূতি তিনি বাস্তবে অনুভব করতে চান। আর সবতো তিনি অনুভব করে ফেলেছেন। দেখে ফেলেছেন। কিন্তু পাখির মতো ওড়া? এতো বাকী!

খুব সুন্দর গল্প। সুন্দর গল্প ছাপিয়ে কারিগরি দিক দেখলেও এই ছবিটি দেখা একটি আনন্দময় অভিজ্ঞতা। একটি উৎসবমুখর পরিবেশে বাসার ছাদে অনেকগুলো চরিত্র একসাথে কথা বলছে, আর ক্যামেরা ইতস্ততভাবে এদিক সেদিক যাচ্ছে- মনে হবে আপনি স্বয়ং সেই দৃশ্যে উপস্থিত আছেন। পরিচালক নিজে ছবিটির লেখক হওয়ায় অনেক সূক্ষ্ম বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন যা দর্শককে ডুব দিতে বাধ্য করবে।

বাউজির চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় মিশ্র। ‘মাসান’ ছবিতে এই ভদ্রলোকের অভিনয় যারা দেখেছেন তারা জানেন উনি একজন জাত-অভিনেতা। নওয়াজউদ্দীন, ইরফান খান, সঞ্জয় মিশ্র একই সারির অভিনেতা। বাউজির ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই ছবিটির লেখক ও পরিচালক রজত কাপুর। এবার রজত কাপুরকে নিয়ে কিছু বলি।

রজত কাপুরের অভিনয় প্রথম দেখি ‘দিল চাহতা হ্যায়’-তে। এরপর তার উল্লেখযোগ্য কাজ দেখা যায় ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘ভেজা ফ্রাই’, আর হালের ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’-এ। একাধারে মঞ্চ-চলচ্চিত্র অভিনেতা, লেখক, পরিচালক এই বেচারার সমস্যা হচ্ছে গতানুগতিক বাণিজ্যিকধারার চলচ্চিত্র একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। আর কাজের মাঝে অভিনয়টাকে অপেক্ষাকৃত সহজ মনে করেন।

কারণ, স্ক্রিপ্ট, সেট সব তৈরি থাকে, অভিনেতারা কেবল আবহ বুঝে সংলাপ আওড়ে যান, যেখানে একজন ফিল্মমেকারকে যেকোন প্রোজেক্টে অনেক পরিশ্রম এবং সময় ব্যয় করতে হয়। বাণিজ্যিকধারার তারকাবহুল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন না বলে প্রযোজক খুঁজে পান না।

কাকতালীয়ভাবে ‘আঁখো দেখি’-র প্রযোজক খুঁজে পেয়েছিলেন টুইটারে কমেন্টে, যখন তিনি প্রযোজকদের উপর বিরক্ত হয়ে টুইট করেছিলেন। প্রোমোশনের অভাবে ‘আঁখো দেখি’ বক্সঅফিসে সফল হয়নি। কিন্তু দর্শক হিসেবে ছবিটি দেখে আপনার কী মনে হয়েছে আমাকে কমেন্টে অনুভুতিটি জানান। কারন আপনি যা দেখেছেন, অনুভব করেছেন, আপনার কাছে সেটাই সত্য, আমারটা না!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।