অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস: ওল্ড ইজ স্টিল গোল্ড!

১৮ বলে ৩১ রান দরকার, ক্রিজে আছেন হাল না ছেড়ে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচে দলকে জয়ের সুবাস দেখানো নিকোলাস পুরান, ব্যাক্তিগত রান তাঁর ১১৮। খেলার সিচুয়েশন কিংবা মোমেন্টাম, অথবা ফলাফল নির্ধারক যেটাই বলুন, এটাই ছিলো সেই ওভার। ধারাভাষ্যকাররা ক্ষণ গুনছেন লাসিথ মালিঙ্গা নামটি নিয়ে, কিংবা অন্য কেউ।

ক্যাপটা আম্পায়ারের হাতে তুলে দিলেন মায়াবী চেহারার এক ভদ্রলোক, অনেক ঝড়ঝাপটায় পার হওয়া গত কয়েকটা বছরের ছাপ চোখেমুখে। কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনে পরবর্তী শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের মহীরুহ হবার কথা ছিলো যার। কিন্তু হতে গিয়েও হতে পারেন নি।

তিনি হলেন প্রচণ্ড প্রতিভাধর এবং বিরল প্রজাতির পেস বোলিং অলরাউন্ডার, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। স্ট্রাইক প্রান্তে সিনেমার ক্লাইম্যাক্স বুঝতে না পারা নিকোলাস পুরানের মনে হয়তো স্বস্তির হাসি, এই গুরুত্বপূর্ণ ওভারে মালিঙ্গার মুখোমুখি হতে হবেনা ভেবে!

এবার আরেকটু পেছনে যাই।

সর্বশেষ বল হাতে নিয়ে রান আপ নিয়েছিলেন ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। ইনজুরি তাঁকে দূরে রেখেছিলো বোলিং থেকে। হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরি বরাবরই তাঁর পথের বাঁধা।

বিশ্বকাপের মঞ্চের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওভারটি করার আগ-মুহুর্তে তাই তার আড়ষ্ট ভাব আপনার চোখ এড়ায়নি, অনেকটা কি করবো বুঝে না উঠতে পারার অভিব্যাক্তি। একেবারে সাধারণ একটা রানআপ, আম্পায়ারকে পাশ কাটিয়ে হালকা লাফ, এতটাই স্মুথ আপনার মনে পড়ে যাবে ছোটবেলায় বেল না বাজিয়ে পাশ দিয়ে কোনো সাইকেল চলে গেলে যেমন লাগতো সেরকম, আম্পায়ারেরও হয়তো অমনই লেগেছিলো।

তবে, পুরানের কেমন লেগেছিলো না বুঝলেও বোঝা যায় পুরান এই অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়েছিলো। ওই স্মুথ ডেলিভারিটা যখন ওয়াইড লাইনের একটু ভেতরে পড়ে ব্যাটকে চুমো দিয়ে কুশল পেরেরার গ্লাভসে বন্দী হলো, ক্ষণিকের জন্য অভিজ্ঞতার কাছে হেরে গেলো তারুণ্য, বের বলো ১৮ মাসের লম্বা দীর্ঘশ্বাস, অনেকগুলো সমালোচনা আর মাথাভর্তি চাপের জবাব। আর ম্যাচের ফল নির্ধারণ!

অনেক সময় চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ট্রফি জেতা লাগেনা, মানুষের মন জয় করা মানুষটাই তো আসল চ্যাম্পিয়ন। চান্দিকা হাতুরুসিংহের মাস্টার অ্যারোগ্যান্সি, কিংবা লঙ্কান ক্রিকেটের মাথাচাড়া দেয়া রাজনীতি তাঁকে ছিটকে দিয়েছিলো অন্ধকারে। মানুষটা লাজুক মুখচোরা দেখেই হয়ত প্রতিবাদ করেছিলেন সামান্যই। তবে যে অমিত প্রতিভা নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত স্কুল ক্রিকেট থেকে উঠে এসেছিলেন সেটাই তাকে বাঁচিয়ে দিলো আরেকবার, ঠিক ১৮ মাস পরেও, জিতিয়ে দিলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে।

জয়টা হয়তো শ্রীলঙ্কাকে সেমিফাইনালে ওঠাবে না। কিন্তু, অন্তত তারা যে ফুরিয়ে যায়নি – সেই বার্তাটা পাওয়া গেল।

ধন্যবাদ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস! ধন্যবাদ, অনেক ঝড়ের পরও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটার মত লঙ্কান ক্রিকেটকে এখনো দিয়ে যাওয়ার জন্য!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।
মাহবুব এলাহী

মাহবুব এলাহী

ভালবাসি ক্রিকেট। ভালবাসি বাংলাদেশ।