আন্ধাধুন: বছরের সেরা থ্রিলার

বলিউডে এমন সিনেমা দেখে একটু অবাক হয়েছি! মাথায় নাড়া দিচ্ছে আর কতো খান এবার থেকে শুরু আয়ুষ্মানদের কাল। এক কথায় বললে বলা যায় –  এমন দুর্দান্ত থ্রিলার এর আগে বলিউডে হয়নি। মেকিংও দারুণ। পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। কখনো যা দেখাতে চেয়েছেন, পরিস্কার দেখাতে পেরেছেন। আবার কখনো এক ধরণের অস্পষ্টটা রেখে দিয়েছেন, পরিচালকের না বলা ভাষা নিজের মত করে করে বুঝে নেওয়ার মাঝে একটা মজা আছে।

বলিউডের কোনো পরিচালক এই প্রথম অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন সিনেমাটি আরেকটি সিনেমার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। শ্রীরাম রাঘবন তাই আরো একবার প্রশংসার দাবী রাখেন। মূলত ফরাসি একটি শর্ট ফিল্ম ‘L’Accordeur’ বা ‘পিয়ানো শিক্ষক’ থেকে নেওয়া হয়েছে এই সিনেমার প্লট। পরিচালক গল্পের থিম ঠিক রেখে নিজে টুকটাক কিছু জুরে দিয়েছেন যেটা বেশ মানানসই বটে। অনেকের আবার ফরাসি শর্টফিল্ম থেকে ‘আন্ধাধুন’ই  বেশি ভালো লেগেছে, লাগলেও অবাক হবার কিছু নেই। ২০১৮ সালের অন্যতম সেরা সিনেমা বলে কথা।

এ মুভির গল্পকে আপনি চাইলেই প্রচুর অস্থিরচিত্তের গল্প হিসেবে সাজাতে পারেন। আবার চাইলেই এটাকে ধোঁকাবাজির গল্প হিসেবেও নিতে পারেন! আমি এটাকে হালকা রহস্যময় গল্প হিসেব করেই দেখতে বসেছিলাম। সাথে টুকটাক হাস্যরস পাবো আশাও করি নাই। বলা যায় পরিচালকের দম আছে বেশ! কিছু কিছু জায়গায় তো আমার বেশ বেগ পেতে হয়েছে (অন্তত বলিউড মুভি হিসেবে)। রহস্যের মাঝে যে মানসিক এক ক্ষত কিংবা শরীরের ক্ষত দেখনো যায় এ ব্যাপারটা আসলেই দারুণ ছিলো।

  • কাহিনী বিশ্লেষণ

পুনে শহরে আকাশের (আয়ুষ্মান খুরানা) বসবাস। সে একজন প্রতিভাবান পিয়ানো বাদক। প্রতিভাবান হিসেবেই তাকে গল্পে দেখা হয়েছে কেননা সে অন্ধ এবং দারুণ পিয়ানো বাজায়, ঘটনাচক্রে সোফির (রাধিকা) সাথে আকাশের দেখা হয়ে যায় আস্তে আস্তে তাদের ভালো বন্ধুত্ব হতে থাকে।

গল্পের আরেক চরিত্র প্রোমদ সিনহা (অনিল ধাওয়ান) এক সময়ের পর্দা কাপানো নায়ক। যদিও তিনি এখন আর আলোচনাতে নেই। বিয়ে করেছেন তাঁর থেকে বেশ কম বয়সী এক মেয়েকে, তিনি স্ত্রীজে ভালোবাসলেও মেয়েটি নিজের মতো করে নিজের মনে স্বপ্ন একে যাচ্ছেন যেখানে রয়েছে অন্য কেউ!

এই স্বপ্নের মাঝে না চাইতেই পেঁচিয়ে পরেন পিয়ানো বাদক আকাশ! কি ছিলো ধাওয়ান পত্নী সিমির (ট্যাবু) মনে! সিমির কোন জালে মনের অজান্তেই পেঁচিয়ে গিয়েছিলেন বাদক আকাশ! এ নিয়েই মূলত গল্প এগুবে। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলে পূর্ণ মজাটাই পাবেন।

আমি বলবো এই সিনেমা উপভোগ্য হবার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চিত্রনাট্য। পরিচালক নিজের মুন্সিয়ানা জাহির করেছেন তখনই, যখন ধুন্ধুমার থ্রিলের মাঝেই ফিঁক করে হাসিয়ে দিয়েছেন।

এছাড়া আরো গুরুতুল্য দিক ছিলো ফিল্মের গান গুলো। কেননা পিয়ানো নির্ভর ছিলো মুভিটি তাই বেশ সংশয়ে ছিলাম গান কেমন না কেমন হয় কিন্তু সংশয় ছাপিয়ে গান গুলো ছিলো বেশ শ্রুতিমধুর ছিলো। এবং গানের টাইমিং গুলো ছিলো আরো দারুণ।

সিনেমার টুইস্টগুলোর সাথে কোনো বলিউডি ঘরানাকে মেলানো যাবে না। সিনেমাটা আপনি মুগ্ধতা নিয়ে শেষ করতে বাধ্য। সিনেমাটি ২০১৮ তো বটেই, ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা থ্রিলারও বটে।

  • অভিনয় বিশ্লেষণ

সকলের অভিনয় ছিলো মানসম্মত তবুও আলাদা করে বলার মতো তিনজনকেই সামনে নিয়ে আসা যায়।

  • সোফি (রাধিকা আপতে)

রাধিকা আপতে যে এই সময়ের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এতো অল্প স্ক্রিন টাইম (অনেকটা স্পেশাল অ্যাপেয়ারেন্সের মত) পেয়েও নিজেকে যেভাবে তুলে ধরেছেন এথেকেই বোঝা যায় চাইলে স্বল্প সময়েও নিজেকে জাহির করা যায়।

  • সিমি (টাবু)

তিনি একবারে অলরাউন্ডার! তামিল, মালায়াম, মারাঠি, তেলেগু সব জায়গায় এর বিস্তার! সেই ৮০ সালে শুরু করেছিলো ২০১৮ সালে এসেও এমন অভিনয়। বাপরে। এখন না আমার খুব আফসোস হচ্ছে নিজের দেশের অভিনেত্রীদের কথা চিন্তা করে, কতো অল্পতেই কতো ভালো অভিনেত্রী অভিনয় ছেড়ে দেন! এই ফিল্মে টাবু যেভাবে নিজের গ্ল্যামারাস এবং রহস্যাবৃতি ঢঙে তুলে ধরেছেন সেটা সত্যিই মাইন্ডব্লোয়িং।

  • আকাশ (আয়ুষ্মান খুড়ানা)

এই সিনেমার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র ছিলো ‘আকাশ’-এর। যেভাবে নিজেকে একবার অন্ধ এবং একবার স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরেছেন  তাতে বলা যায়, আয়ুষ্মান খুড়ানা হলেন বলিউডের আগামীদিনের নাম্বার ওয়ান। যত দিন যাচ্ছে, আয়ুষ্মান নিজেকে একজন সব্যসাচী অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করে চলেছেন।

এক নজরে

  • পরিচালক: শ্রীরাম রাঘবন
  • কাহিনী: শ্রীরাম রাঘবন, অরিজিৎ বিশ্বাস
  • অভিনয়ে: আয়ুষ্মান খুড়ানা,টাবু,রাধিকা আপতেসহ আরো অনেকে।
  • ধরণ: কমেডি,ক্রাইম,থ্রিলার
  • মুক্তির সময়: ৫ অক্টোবর, ২০১৮
  • আইএমডিবি রেটিং: ৯/১০
  • ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০
  • বাজেট: ৩২ কোটি রুপি
  • বক্স অফিস: ১১১ কোটি রুপি

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।