যত দিন শরীর দেয়, জান দিয়ে অভিনয় করো: অমিতাভ বচ্চন

বিগ বি কিংবা বলিউড শাহেনশাহ – তাঁর অসংখ্য নাম। যৌবনে যখন নায়ক ছিলেন তখন ছিলেন সময়ের সেরা। আজ যখন এই সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও হাঁটুর বয়সী নায়কদের সাথে পাল্লা দিয়ে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন, তখন তিনি নি:সন্দেহে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সর্বকালের সেরাদের একজন। তিনি হলেন অমিতাভ বচ্চন, তিনি হলেন অনুপ্রেরণা, একাগ্রতা ও পরিশ্রমের অপর নাম। আজ থাকছে কিংবদন্তিতুল্য এই অভিনেতার বিশেষ একটি সাক্ষাৎকার।

‘পিকু’, ‘শামিতাভ’, ‘ওয়াজির’ কিংবা ‘পিঙ্ক’ – সবগুলো চরিত্রই তো ভিন্নধর্মী। কোনটা করা সব থেকে কষ্টকর ছিল?

– প্রতিটা চরিত্রই সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিনেতা হিসেবে আমাকে এ কথা বলতে হবেই। এদের ফুটিয়ে তুলতে সমান পরিশ্রমই করতে হয়েছে। আজ, এই বয়সে এসে আমি যে রকম বিভিন্ন এবং বিচিত্র চরিত্রের অফার পাচ্ছি, কম বয়সে, ক্যারিয়ার শুরু করার সময়ে তা কোনো হিরোও পাবেন না। একটাই চরিত্র মজুত সেখানে — ভিলেনের সঙ্গে লড়ো আর শেষ পর্যন্ত নায়িকাকে বাঁচাও। কিন্তু এই বয়সে বিভিন্ন বর্ণের চরিত্ররা আসবে — কখনও হুইলচেয়ারবন্দি বৃদ্ধ, কখনও ১৩ বছরের বাচ্চা, ‘শামিতাভ’ এর উন্মাদ লোকটি। এমনই সব।

এই বয়সেও এত কাজ করে চলেছেন। পরিচালকরা বলেন, আজো আপনি প্রতিটা দৃশ্যের ব্যাপারে একদম প্রথম ছবির মত যত্নশীল।

– আমার এত কিছু মনে হয় না। আমার মনে হয়, আমি যদি কোনও দায়িত্ব নিয়ে থাকি, তা হলে সেই দায়িত্বের মর্যাদা দেওয়াটাও আমার কাজ। যখন যে দায়িত্ব নেই, তা পালনে আমি জান দিতে রাজি থাকি। এমন অনেকেই করে থাকে। এর মধ্যে কোনো আলাদা বিশালত্ব নেই।

শরীর আপত্তি করে না?

বয়স কোনো ব্যাপার না। আমার কথা হল, দায়িত্ব যখন নিয়েছ, নিজেকে উজাড় করে দাও। প্রযোজকদের কী চাহিদা, মন দিয়ে শোনো। পরিচালকরা কী বলছে, সেই নির্দেশটা নাও। যত দিন শরীর দেয়, জান দিয়ে অভিনয় করো।

ইন্ডাস্ট্রিতে তো আপনাকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখা হয়…

– আরে, তেমন কিছু নয়। আমি হলাম নিতান্ত একজন সাধারণ মানুষ, যে নিজের জন্য কিছু না কিছু কাজ ক্রমাগত খুঁজে চলেছে।

এত দারুণ একটা ক্যারিয়ার, শেষটাও কি ছক্কা দিয়েই করবেন?

– আমি এসব নিয়ে ভাবিই না। যত দিন শরীর দেবে, তত দিন কাজ করে যাব। অবসরের কথা মাথাতেই আসেনি। আসলে আমার মতো অভিনেতাদের বা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন খুব ছোট।  যতক্ষণ আমাদের শরীর দেয়, তত দিনই আমরা। বডি যখন সঙ্কেত দিতে শুরু করবে, আর না, শেষ। তখন সব ছেড়ে দেব। অভিনয় করতে আমি দারুণ ভালবাসি তাই আজও মন দিয়ে কাজটা করে যাচ্ছি। আমি এখনও কাজ পাচ্ছি, লোকে টুকটাক আসছে। তা হলে বন্ধ করে দেব কেন?

আপনি তো উত্তম কুমারের সাথেও কাজ করেছেন?

– হ্যা করেছি, ‘দেশপ্রেমী’ সিনেমায়। সর্বভারতীয় একটা আমেজ ছিল ওই সিনেমায়। উত্তমদাকে ছবিতে নেওয়া হয়েছিল বোধ হয় উনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে বলে। খারাপ লাগে তার পর আর তাঁর সঙ্গে অভিনয়ের কোনও সুযোগ পেলাম না।

এত গুলো বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে ফেলার পরও নিজের ভেতরে ভাল কাজ করার ক্ষুধাটাকে কি করে বাঁচিয়ে রেখেছেন?

– আমার কাজের আলাদা কোনো দর্শন নেই। সেটা অনেক সাদামাটা। আমি নিজেকে, তোমার পরিচালক যা চাইছে সেটা যদি দেওয়ার সামর্থ্য থাকে, তা হলে সেটা করে দেখাও। তাকে খুশি করো। যদি পরিচালক বলের, ধানখেতের ওপর নাচতে হবে, তা হলে সেটা করার চেষ্টা করো। না পারলে তৈরি থেকো সিনেমা থেকে বাদ হয়ে যাওয়ার জন্য। আমার জীবনে সেটা ঘটেছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।