একজন অমিতাভ ও একজন ‘কোটিপতি’ ববিতা তাড়ে

অমিতাভ কথাটার অর্থ হলো অমিত আভা যার। বুদ্ধদেবের অনেকগুলো নামের একটা হলো অমিতাভ।

ইদানীং টিভি দেখাই হয়না, বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের টিভি অনুষ্ঠান দেখা প্রায় শুন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে। তবে এই লোকটার ভরাট গলা, অদ্ভুত সুন্দর হিন্দি প্রোনান্সিয়েশন, অসম্ভব চমৎকার ইংরেজি, অবর্ণনীয় আকর্ষণীয় পারসোনালিটি, আমাকে মন্ত্র মুগ্ধের মত আকৃষ্ট করে, আমি চ্যানেল বদলাতে পারিনা।

ভদ্রলোক প্রায় দেউলিয়াই হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু উনি ফিরবেন এটা উপরওয়ালা লিখেই রেখেছিলেন, আর এমন একটা পারসোনাল তো আর ডুবে যাওয়ার কথা না।

কৌন বানেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়েছিল তিন জুলাই, ২০০০ সালে। তিন জুলাই মূলত আমার জন্মদিন। ২০০০ সালে আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।

আমি পুরুষ হয়েও লোকটার প্রেমে পড়লাম। এই রকম পারসোনালিটির কারোর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জাগ্রত না হয়ে উপায় আছে?

জ্বি, আপনারা ঠিকই ধরেছেন, আমি মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের কথাই বলছিলাম। ভদ্রলোকের রয়েছে অ্যাংকরিং করার এক অদ্ভুত শক্তি, যে কোন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার এক আলৌকিক ক্ষমতা।

এখানে একটা কথা না বললেই নয় যে, অমিতাভ বচ্চন সাহেব ফিল্ম ফেয়ারের হিসেবে বিংশ শতাব্দীর, বা সহস্রাব্দীর সেরা অভিনেতার (বেষ্ট অ্যাক্টর অফ দ্যা মিলেনিয়াম) পুরষ্কার পেয়েছেন। গতপরশু দেখছিলাম অনুষ্ঠানটা, কাল রাতে আবারও। মহারাষ্ট্রের অমরাবতী এলাকা থেকে এসেছেন ববিতা তাড়ে। এক সরকারি স্কুলে বাচ্চাদের জন্য খিচুড়ি রান্না করেন তিনি। পড়াশোনা যৎসামান্যই। মাসিক আয় মাত্র দেড় হাজার রুপি।

‘বিগ বি’ জিজ্ঞাসা করলেন, কোটি পতি হলে কি করবেন?  তেজোদীপ্ত উত্তর -‘নিজের জন্য একটা মোবাইল ফোন কিনবো’। আহ! কি সরল চিন্তা ভাবনা!

বলা হল, ‘কোটিপতি হলে কি চাকরিটা ছেড়ে দেবেন?’ বললেন, ‘না স্যার, এটা আমার ভালোবাসার কাজ, কাজটা আমার প্রাণের কাজ, কিভাবে ছাড়ি?’

১২ কি ১৩ নাম্বার প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘চাঁদে প্রথম কোন দেশ ম্যান মেইড অবজেক্ট পাঠিয়েছে?’ উত্তরের মধ্যে রয়েছে – ইউএসএ, ফ্রান্স, ইউএসএসআর ও জার্মানি।

আমিও জানতাম সোভিয়েতরাই প্রথম চাঁদে ম্যান মেইড অবজেক্ট পাঠিয়েছে। এটা কোল্ড ওয়ারের সময়। তবে মনে একবার সন্দেহ হলো, আমেরিকা নয়তো? তখনও দুটো লাইফ লাইন বেঁচে আছে। উনি অকপটে বললেন, স্যার উত্তর ‘সি’ – রুচ, উনি রুচ বলতে রুশ বা রাশিয়াকে মিন করেছেন।

অমিতাভ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোত্থেকে এতকিছু জানলেন?’ উনি বললেন, ‘আমি স্যার অন্যদের মত হিন্দি সিরিয়াল দেখিনা, খবর দেখি।’

এই নারী এক কোটি টাকা জিতলেন, এর চেয়েও বড় কথা উনি জিতলেন কয়েক কোটি মানুষের মন। এর মধ্যে আমিও একজন। আমার চোখ পানি সংবরণ করতে পারলো না। জয়তু ববিতা তাড়ে, জয়তু নারী শক্তি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।