বিশ্বাস করেন, ট্রফিটা আমরাই জিতে গেছি!

ফাইনাল জিতবো, এই দুরাশা আমি স্বপ্নেও করছি না। সাকিব আর তামিম তো দেশে এসেই পড়েছেন, মাশরাফির কনিষ্ঠা ডিসলোকেটেড আর মুশফিকের পাজরে ব্যথা, পঞ্চপান্ডবে একমাত্র সুস্থ থাকা মানুষ মাহমুদুল্লাহ। মুস্তাফিজের পিঠে ব্যথা আছে কিছুটা, গরমে ব্যাটিং করতে গেলে কিছুক্ষণ পরেই ক্র্যাম্পের সমস্যা দেখা দিচ্ছে সবার।

আমি আশা করছি না জিতবো, কারণ এই এশিয়া কাপ আমি অনেক আগেই জিতে গেছি। তামিমের এক বল কিংবা মুশির ১৪৪, ওইখানে। মুস্তাফিজ যখন ডু অর ডাই সিচুয়েশনে ওভারে ৮ রান ডিফেন্ড করে ফেলেন, সেখানে। মুশফিক যখন জান হাতে নিয়ে ৯৯ করেন, করে সেঞ্চুরিটা মিস করেন, কষ্ট হচ্ছিলো, তবুও সেখানে। মাশরাফি সুপারম্যান হয়ে উড়াল দেন, আমি বলি, ওই যে এশিয়া কাপটা মাশরাফির হাতে। মিরাজ সৌম্যরা ফিল্ডিং এ চেপে ধরেন, আমি বলি, ট্রফিটা ফাদে ফেসে গেছে।

আপনি এসবকে এক গাদা ফাইনাল হারা অন্ধ সমর্থকের ডিলিউশন বলে ভাবতে পারেন। অবশ্যই পারেন, কিন্তু, আপনাদের কয়জন বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, সাকিব তামিম না থাকলেও আমরা ফাইনালে উঠবো এটা বিশ্বাস করতেন? আমি নিজেই তো করতাম না। জীবন মরণ লড়াইয়ের একদিন আগে জানা গেলো সাকিব নেই, এর চেয়ে বড় ধাক্কা আমাদের জন্য কী হতে পারে? সাথে তামিমের বিদায়ের কথা বাদই দিলাম।

তাই যখন আমি দেখি, আমার এই ভাঙাচোরা দল দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার পরে ‘মরো নইলে মারো’ অ্যাটিটিউড নিয়ে নামে, আমি ওখানে জিতে যাই, ওই কথা বলে মাশরাফি জিতে যান। লিটন ক্যাচ মিস করলে হতাশ হয়ে তাকে গালি দেই, দারুণ দুটো স্ট্যাম্পিং করে লিটন আমাকে জবাব দেন।রমিজ রাজা আর আমির সোহেলের তথাকথিত ‘স্ট্রংগার ও বিগার টিম’ এর সাথে আরামসে জয় নিয়ে মাশরাফি বাহিনী যখন চুপচাপ হেটে মাঠ ছাড়ে, আমি তখন পাগলের মত উল্লাস করি না। কারণ, আমাকে ওরা অনেক আগেই জিতিয়েছে।

ভারতের শুধু টপ অর্ডারই আমাদের সাথে ৩০০ করে ফেলতে পারে, আমাদের টপ অর্ডার হয়ত করবে বড়জোর ২০। ভুবনেশ্বর বুমরাহ জাদেজা চাহাল কুলদীপদের খেলতে গিয়ে দেখা যাবে আমরা হাসফাস করবো, ওরা হয়ত দেখা যাবে আমাদের বোলিং হেসেখেলে উড়িয়ে দিচ্ছে।

আমাদের জিতবার কোন সুযোগ নেই, আমি জানি আমরা আন্দারডগ, আমরা সবসময়ই ছিলাম। একসময় জিম্বাবুয়ের সাথে, এখন ফাইনালে। আমাদের প্রতিপক্ষ খালি ভারত না, কালকে ভারত সমর্থন পাবে শ্রীলংকা, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানেরও! যেই দলের টেস্ট খেলার বয়স মাত্র নাগরিকত্ব পেলো, সেই দেশের কী প্রবল ক্ষমতা দেখুন! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এক সারিতে নামিয়ে এনেছে, থাকুন, আপনাদের একসাথে উল্লাস করতে দেখতে ভালোই লাগবে, হাজার হোক, রতনে রতনে চেনে!

আপনি আমি একসাথে আশা করতেই পারি, কালকে লিটন সেঞ্চুরি মেরে দেবেন, সৌম্য প্রলয়ংকরী রূপ ধারণ করবেন। মুস্তাফিজ মিরাজের বল দেখতেও পারবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা, টপাটপ উইকেট পড়বে। আশা করতেই পারেন। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, স্বপ্নভঙ্গের চেয়ে বড় কষ্ট নেই। কালকে যখন লিটন সৌম্য রান পাবেন না, আপনি আমি তখন হতাশায় মুখ লুকোবো।

মুস্তাফিজ মিরাজরা উইকেট না পেলে আমাদের চোখ ছলছল করে উঠবে, কিন্তু তাতে উইকেট আসবে না, না আসবে ট্রফি। তাই আমি আশা করবো না, বরং আমি প্রস্তুত হারবার জন্যই। নিয়তি বারবার আমাদের বিপক্ষে থেকেছে, ভাগ্যদেবী কোন কারণে আমাদের পছন্দ করেন না।

কিন্তু, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না বিশ্বাস করেন, কারণ ট্রফিটা আমি জিতে গেছি, কালকে মাশরাফির বদলে ট্রফিটা রোহিত শর্মা তুলবেন, আমার তাতে খুব বেশি কষ্ট হবে না, কারণ তামিমের ওই শট থেকে কালকের মাশরাফির ক্যাচ, এখানে আমি এই ট্রফিটা জিতে গেছি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।