একজন সর্বকালের সেরা ও আমাদের সৌভাগ্য

সাকিব আল হাসানকে ঠিক বোঝা যায় না। আমরা যারা কাজের স্বার্থেই তাঁর কিছুটা কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাই – তাঁরা বুঝি না যে সর্বকালের সেরা একজন রোজ আমাদের চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেখানে মাঠের বাইরের বা দেশের বাইরের লোকদের পক্ষে তাঁকে বোঝা আরো শক্ত!

বিশ্বকাপের আগেও তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা ছিল। বিশ্বকাপের আগের ক্যাম্পে ছিলেন না, তাঁর আগে নিউজিল্যান্ড সফরেও ছিলেন না ইনজুরির জন্য, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলতে যান, সেখান থেকে ফেরার পর আমার বিশ্বকাপের আগে টিম ফটোসেশন মিস করলেন। সমালোচনা-বিতর্ক চললো পুরোদমে। এসবের মাঝে কেউ যেন খেয়ালই করলো না যে আইপিএলে ম্যাচ খুব একটা না পেলেও নিজেকে পুরোদস্তর পাল্টে ফেলে তবেই ফিরেছেন সাকিব।

তারই প্রমাণ তো এবার বিশ্বকাপের প্রতিটা ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গতকালকের ম্যাচের আগে শেষ তিন ম্যাচে তিনি করেছেন যথাক্রমে ১২১ (প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড), ৬৪ (প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড) ও ৭৫ (প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা)। এখানেই শেষ নয়, বল হাতে তিনি নিয়েছেন তিনটি উইকেট।

খুনে মেজাজটা অব্যাহত থাকলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও। প্রথমে বল হাতে পেলেন দুই উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে একটার পর একটা রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। চতুর্থ ও দ্রুততম অলরাউন্ডার হিসেবে ৬ হাজার রান ও ২৫০-এর বেশী উইকেটের মালিক হলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ছয় হাজার রান করলেন এবং আরো একবার এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের মালিক হলেন।

দূরন্ত এই সাকিবের হাত ধরে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অসাধারণ এক জয়। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আশা ভেলাটা আরো একবার ভাসিয়ে রাখলেন সাকিব। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কতদূর যাবে, এর পুরোটাই যে নির্ভর করছে সাকিবের ওপর।

সাকিবের বরাবরই একটা আক্ষেপ ছিল – তিনি ম্যাচটা শেষ করে ফিরতে পারেন না ব্যাট হাতে। এবার সেই আক্ষেপটা থাকলো না। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ৯৯ বলে তিনি ১২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৬ টি ছক্কার এই ইনিংসের সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল তিনি কখনোই আস্কিং রানরেটটাকে ছয়ের ওপরে উঠতে দেননি। এর জন্যই, ম্যাচে জয়টাকে এতটা সহজ বলে মনে হয়েছে। সাকিব নিজেও ১০০-এর ওপর স্ট্রাইক রেট নিয়ে পুরোটা সময় ব্যাট করেছেন। এই চাপের মুখে এত ঠাণ্ডা মেজাজে ব্যাট করার ব্যাপারটা সাকিব ছাড়া আর কেই বা পারেন!

অস্ট্রেলিয়ান ধারাভাষ্যকার মার্ক নিকোলাস দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের সময় বলেছিলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ জানলে অবাক হবে যে সাকিব ওয়ানডেতে এক নম্বর অলরাউন্ডার।’ তবে, এখন থেকে আর মার্ক নিকোলাসরা ভুলবেন না। সাকিব সত্যিকার অর্থেই যে বিশ্বের সেরা, সর্বকালের সেরাদের একজন – সেই ব্যাপারটা এখন সুযোগ পেলেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন সাকিব।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।