মসি দিয়ে মারো টান, রাজা হবে খান খান

খুব সামান্য এক ঘটনা থেকে সবকিছুর শুরু। ডেমোক্রেটিক পার্টি’র অফিসে পাঁচ চোর ঢুকেছিলো। সেটা নিয়ে রিপোর্ট করতে গেলো নতুন সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড। সে অবাক হয়ে আবিষ্কার করলো, এই পাঁচ চোরের সিআইএ-এর সাথে যোগসূত্র আছে।

আর সেই সুতোর শেষ মাথা হোয়াইট হাউজে গিয়ে মিশেছে। সহকর্মী কার্ল বার্নস্টিনকে নিয়ে রহস্যর জট খুলতে নামলো বব, যা একসময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

ওয়াটারগেট স্ক্যান্ডাল নিয়ে নির্মিত এই মুভিটি পরিচালনা করেছেন অ্যালান পাকুলা। সত্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত ছবিগুলো এমনিতেই ভিন্ন ফ্লেভার নিয়ে আসে। আর এই সিনেমা পাকুলা এমন ডকুমেন্টারিশ ভঙ্গিতে নির্মাণ করেছেন যে, দর্শক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকদের কার্যক্রম দেখে ‘দ্য অবজার্ভার’ হয়ে। বেশিরভাগ সময় ক্যামেরা কিছুটা দূরে থেকে প্যান করে নয়তো ট্র্যাক করে।

ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম যে ডিটেকটিভ ওয়ার্কের সহোদর, সেটাও যেন এই সিনেমার আবহ বক্তব্য। এমন দুনিয়া কাঁপানো ঘটনা নিয়ে, এত স্বল্প সময় পরেই নিষ্পৃহ দৃষ্টিভঙ্গি (ইমোশনাল ডিটাচমেন্ট) থেকে ছবি নির্মাণ করাও কিন্তু একটু দুরুহ বিষয়। খুব কম ছবিই এমনটা পেরেছে। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে গ্রীনগ্রাসের অস্কার নমিনেটেড ইউনাইটেড ৯৩-এর কথা।

প্রধান দুই চরিত্রে ছিলেন রবার্ট রেডফোর্ড আর ডাস্টিন হফম্যান। রেডফোর্ড এই মুভির প্রযোজক হওয়া সত্ত্বেও কখনো স্পটলাইট কেড়ে নেবার চেষ্টা করেননি। এবং আমাকে অবাক করে দিয়ে হফম্যানের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। আর ডাস্টিন হফম্যান – দ্য গ্রেটেস্ট অফ দেম অল। সদ্য স্নাতক কিংবা মাতৃহীন সন্তানের বাবা থেকে অলস এক পান্ডার দীক্ষাগুরু, যে কোন চরিত্রে এই ভদ্রলোকের মতো কনভিন্সিং অভিনেতা আমি খুব কম দেখেছি, খুবই কম।

চারটি অস্কারজয়ী ‘অল দ্য প্রেসিডেন্ট’স মেন’-এর আই.এম.ডি.বি রেটিং ৮। আমার ম্যান ফর অল সিজনস রজার ইবার্ট একে চারের মাঝে সাড়ে তিন দিয়েছেন। আমার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচে রিলেভেন্ট দুটো মুভির একটা হলো ‘অল দ্য প্রেসিডেন্ট’স মেন’।

মূলত রবার্ট মুলারের (উচ্চারণভেদে মালার) চলমান ইনভেস্টিগেশনের কথা ভেবেই এই মুভিটা আবার দেখতে বসা। টের পেলাম দর্শক হিসেবে আমার বেশ অবনতি ঘটেছে। এখনকার সিনেমার স্পুনফিডিং ন্যারেটিভ আমার বোধশক্তিকে শ্লথ করে ফেলেছে। দর্শক হিসেবে সে আমারই সীমাবদ্ধতা। ওয়াটারগেট স্ক্যান্ডাল প্রমাণ হবার আগে, পত্রিকার এসব রিপোর্টকে নিক্সন প্রশাসন আর তার সমর্থকরা মিডিয়ার মিথ্যাচার আর একচোখা মনোভাব (সরল ভাষায় ‘ফেইক নিউজ’) বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।

কি মনে হয়, পঞ্চাশ বছরে পৃথিবী আর তার মানুষেরা খুব বেশি পাল্টেছে কি?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।