‘সর্বজয়া’ পৌষালী

মানুষ জন্মগতভাবেই মেধাবী। কোন মানুষই মেধাহীন জন্ম গ্রহণ করে না। সময়ের সাথে সাথে একজন মানুষের মেধার বিকাশ ঘটে। আসলে মেধাটাকে একেকজন একেকভাবে কাজে লাগায়। ক্লাশে কেউবা হয় অকৃতকর্য, কেউবা প্রথম হয়। তবে মানুষ ইচ্ছাশক্তি বলে সব কিছুই অর্জন করতে পারে।

যে কারণেই কেউ হয় প্রকৌশলী, কেউবা শিক্ষক, বিজ্ঞানী। সংগীত শিল্পী, চিত্র শিল্পি আবার কেউবা থাকে একই সঙ্গে অনেক গুনে গুনান্বীত। অর্থাৎ একই অঙ্গে অনেক রূপ বা বহু গুনের অধিকারী। তারা সমাজ, দেশকে দিতে পারেন অনেক কিছুই। জয় করতে পারেন সব কিছু। যাকে বলে ‘সর্বজয়া’। সেই সর্বজয়াদেরই একজন চট্টগ্রামের মেয়ে পৌষালী ভট্টাচার্য । পৌষালী একাধারে কণ্ঠশিল্পী, মেধাবী শিক্ষার্থী, নগরবিদ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিজয়ী। পড়ছেন বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শেষ বর্ষে।

পৌষালীর জন্ম চট্টগ্রামে হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকাতে। ছোটবেলা থেকেই মেধাবীর পৌষালী পড়াশোনা করেছেন ঢাকার এইচ এফ কিন্ডারগার্টেন এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এসএসসি এবং এইচএসসিতে সব বিষয়ে পেয়েছেন জিপিএ-৫। পড়াশোনার পাশাপাশি সেই ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতির চর্চা করছেন। শিশু বয়স থেকেই ভালবেসে সংগীতকে আকড়ে ধরেছেন। হয়েছেন সংগীত শিল্পি। পেয়েছেন অনেক পুরস্কার। তবে সংগীত চর্চা করলেও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন ঠিকমত। ভর্তি হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে(বুয়েট)। যে কারণেই তিনি আজ সমাজ দেশকে নিয়ে ভাবতে পারেন।

পৌষালী জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত তিনি ওস্তাদ করিম শাহাবুদ্দিনের কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তামিল নিচ্ছেন। যখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, সেই সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’তে উচ্চাঙ্গসংগীতে অর্জন করে নেন তৃতীয় স্থান। এ ছাড়া ছোটবেলায় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন অনেকবার।

বুয়েটে ভর্তির পর থেকে জড়িত আছেন বুয়েটের সাংস্কৃতিক সংগঠন মূর্ছনার সঙ্গে। কিছুদিন আগে মূর্ছনার শিল্পীদের নিয়ে প্রকাশিত অ্যালবাম অভিপ্রিয় এবং মূর্ছনাতে কণ্ঠ দিয়েছেন ‘এবং তুমি’ শিরোনামের একটি মৌলিক গানে।

অর্জিত পুরস্কারের ডালিটাও বেশ বড় পৌষালীর। তৃতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় ইউএন-হ্যাবিট্যাট আয়োজিত ‘আরবান রিভাইটালাইজেশন অব ম্যাস-হাউসিং’-এ আরও পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে গঠিত তাঁর দল ‘শাইনিং স্টারস’ বিশ্বপর্যায়ে শীর্ষ তিনে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ও বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করে নেয়। এখানেই শেষ নয়। সদ্য শেষ হওয়া হওয়া বিখ্যাত ফরাসি কোম্পানি ‘ডেফি বুগেস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র ‘ডিজাইন দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব টুমরো’ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল ‘গ্রিন ফিউশনিস্ট’ অর্জন করে ‘ক্যুপ ডি ক্যুর’ অ্যাওয়ার্ড। ২০০৯ সালে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন’ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলো নিয়ে ভারতে আয়োজিত উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরবও আছে তাঁর।

এ তো গেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কথা। দেশীয় অঙ্গনে ছোট-বড় সাফল্য তাঁর নিত্যসঙ্গী। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত ‘পরিবেশ সপ্তাহ ২০১৫’তে ‘আইডিয়া কনটেস্ট’-এ প্রথম স্থান অধিকার করে নেয় তাঁর দল। এছাড়া গত বছর ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রসিডিংস অব কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ শীর্ষক সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস এমিশনের ওপর প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একটি সমন্বিত গবেষণা পত্রও।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে পৌষালী বলেন, ‘আমি একজন নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবেই নিজেকে দেখতে চাই। আমাদের দেশের এই সীমিত সম্পদকে কীভাবে আরও সঠিকভাবে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা যায়, সেই চেষ্টা করব।’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।