আলিয়া ভাট: হাইওয়ে টু স্টারডম

২০১২ সালে পুরোদস্তুর অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন মহেশ ভাট কন্যা আলিয়া ভাট। ক্যারিয়ারের সাত বছর পার করার পর ২০১৯ সালে এসে তিনি বলিউডের অন্যতম সেরা জনপ্রিয়, দক্ষ এবং বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া একজন অভিনেত্রী। বলিউডের প্রায় সব প্রথম সারির পরিচালক প্রযোজকদের মতে আলিয়া আগামী দিনের বলিউডের সবচেয়ে বড় তারকা অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন। এত অল্প সময়ে এত গ্রহণযোগ্যতা আগে কে কবে পেয়েছেন!

শুধুমাত্র সৌন্দর্য্য বা পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডের জোরে নয় আলিয়া তার অভিনয় দক্ষতা এবং ভিন্নধর্মী সিনেমা, শক্তিশালী চরিত্র নির্বাচন দিয়ে নিজেকে দিন দিন নিয়ে যাচ্ছেন এক অন্যন্য উচ্চতায়। শুরুটা নিজেদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বলিউডের সুপ্রতিষ্ঠিত ভাট ফিল্মসের মাধ্যমে নয়।

করন জোহর এবং শাহরুখ খানের প্রযোজনায় ‘স্টুডেন্ট অব দ্যা ইয়ার’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন আলিয়া। প্রথম সিনেমা সুপারহিট। সাথে নিজের সৌন্দর্য্য এবং অভিনয় দক্ষতার ঝলক, এবং নৃত্য পারদর্শীতা দিয়ে নজর কাড়েন তিনি। ফলাফল সেই বছর সেরা নবাগতার সকল পুরস্কার তার ঝুলিতে আসে।

দ্বিতীয় সিনেমা বলিউডের অন্যতম সেরা পরিচালক ইমতিয়াজ আলীর ‘হাইওয়ে’। প্রথম সিনেমায় ধনীর আদুরে দুলালী, ডিজাইনার ড্রেস, রোমান্টিক নায়িকার ইমেজ থেকে বেরিয়ে ‘হাইওয়ে’ সিনেমায় পুরোপুরি এক অন্য চরিত্রে দেখা দেন তিনি। মেকাপ ছাড়াই এক স্টকহোম সিনড্রোমে আক্রান্ত একটি কিশোরীর চরিত্রে ভাটের অভিনয় চলচ্চিত্র সমালোচকদের নিকট ইতিবাচক মন্তব্য লাভ করে। তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরস্কার জিতে নেন।

বলিউডের সমালোচক এবং সাধারন দর্শকেরা নড়েচড়ে বসেন এবার। অভিনেত্রী হিসেবে আলিয়া যে পরিপক্ক এবং তিনি রাজত্ব করতে এসেছেন বলিউডে তা প্রমান করেন এই সিনেমার মধ্য দিয়েই। এরপরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাবার। ‘টু স্টেটস’, ‘বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া’, ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’, ‘কাপুর এন্ড সন্স’ আলিয়া বক্স অফিসে নির্ভরযোগ্য দক্ষ তারকা অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমান করেন।

মাঝে ‘শানদার’ সিনেমায় অভিনয় করে সমালোচিত হলেও তারপরেই ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ সিনেমায় এই যুগের এক স্বাধীনচেতা নারী যে নিজের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে জীবন-যাপন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা একজন মানুষ এবং ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমায় এক আদিবাসী ভারতীয় কিশোরী অভিনয় করে বলিউডের এই প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার এবং জনপ্রিয়তা সবই লাভ করেন তিনি।

২০১৮ সালে মেঘনা গুলজারের ‘রাজি’ সিনেমায় ‘স্যাহমাত’ নামের এক গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে ভারতীয় একজন এজেন্ট হিসেবে পাকিস্তানি এক সেনা অফিসারকে বিয়ে করে পাকিস্তানে চলে যাওয়া এবং সেখান থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভারতে পাঠানো এক গুপ্তচর হিসেবে তিনি এককথায় স্তব্ধ করে দিয়েছেন আলিয়া। নারী কেন্দ্রিক এই সিনেমা বক্স অফিসে ১০০ কোটির ক্লাবে জায়গা করে নেয়। একা নিজের কাধে ভর করেই এই সিনেমা টেনে নিয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালে কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া জয়া আখতারের ‘গাল্লি বয়’ সিনেমায় রনভীর সিংহের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর লুক, ড্রেস আপ, চরিত্রের সাথে মিশে যাওয়া এবং ডায়লগ ডেলিভারি তাকে এনে দিয়েছে প্রশংসা এবং খ্যাতি। এই সিনেমাও ইতিমধ্যে ১০০ কোটির ক্লাবে এন্ট্রি পেয়ে গেছে। এই সিনেমা নিয়ে আলিয়ার চারটি সিনেমা ১০০ কোটির ক্লাবে জায়গা কতে নিলো। ‘টু স্টেটস’, ‘বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া’, ‘রাজি’, এবং ‘গাল্লি বয়’।

স্বাভাবিক ভাবেই আলিয়া বক্স অফিসের এই সময়ের সবচেয়ে সফল নায়িকা তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সম্প্রতি রিলিজ দেয়া হয়েছে ধর্মা প্রোডাকশনের বিগ বাজেটের মাল্টিস্টারার ‘কলঙ্ক’ সিনেমার টিজার। মাধুরী, সঞ্জয়, বরুণ, সোনাক্ষী, আদিত্য এর মতো তারকাদের মাঝে টিজারে নিজের অস্তিত্ব বেশ ভালোভাবেই দেখিয়েছেন আলিয়া।

সামনে আসছে অয়ন মূখ্যার্জির পরিচালনায় ফ্যান্টাসি-সুপার হিরো সিনেমা ‘ব্রক্ষ্মাস্ত্র’। এছাড়াও ‘তাখত’, ‘সড়ক-২’ অরুনিমা সিনহার বায়োপিক সহ একাধিক সিনেমা  নিয়ে এখন ব্যস্ত আলিয়া ভাট।

তবে এরই মধ্যে আজ আলিয়া ভক্তদের জন্য আরেকটি সুখবর এসেছে। ভারতের দক্ষিণের ‘বাহুবলী’খ্যাত নির্মাতা এস. এস. রাজামৌলির নতুন সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। সিনেমাটির প্রাথমিক শিরোনাম ‘ট্রিপল আর’। এতে আলিয়ার বিপরীতে অভিনয় করবেন দক্ষিণের অভিনেতা রামচরণ ও জুনিয়র এনটিআর। এ ছাড়া একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে অজয় দেবগণকে। ৩০০ কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমার শ্যুটিং খুব শ্রীঘই শুরু করবেন আলিয়া।

‘ট্রিপল আর’ মুভিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে সিনেমায় আলিয়া ও অজয় দেবগণ থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে পোস্ট করা কয়েছে। তাদের দুটো ছবি পোস্ট করে জানানো হয়েছে, এই সিনেমার জন্য আলিয়া ও অজয় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ছবিটি পোস্ট করে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আলিয়াকে তার আসন্ন জন্মদিনের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানায় ট্রিপল আর টিম।

সব মিলিয়ে বলা যায় ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন ভাট কন্যা। আলিয়া ভাট ১৯৯৩ সালের ১৫ মার্চ ভারতের মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জনপ্রিয়  চলচ্চিত্রকার মহেশ ভাট এবং মা অভিনেত্রী সোনি রাজদান। বোন পূজা ভাট,  চাচাতো ভাই পরিচালক মোহিত সুরী, আরেক ভাই জনপ্রিয় নায়ক ইমরান হাশমী। তবে পরিবারের কারো কাছ থেকেই ক্যারিয়ার জীবনে কোনো সাপোর্ট তিনি নেননি। অভিনেত্রী হবার শখ ছিল ছোটবেলা থেকেই।

তাই নিজেকে তৈরী করেছেন সেভাবেই। নাচ শিখেছেন, আবৃত্তি এবং বই পড়া তার অন্যতম শখ। তবে পাকাপোক্ত ভাবে বলিউডের অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এখনো চেস্টা বা এক্সপেরিমেন্ট করতে কোনো ক্লান্তি বা বিরতি নেই তার। কিছুদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আলিয়া বলেন, ‘বলিউড এখন আমার ধ্যান-জ্ঞান।  অনেকেই বলেন আমি ভালো অভিনয় করতে পারি, কিন্তু আমার মনে হয় আমার শেখার এখনো অনেক কিছুই বাকি। আমি প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু শিখছি। ভবিষ্যতে আমি যেন বলতে পারি, আমি আমি একজন ভার্সেটাইল অভিনেত্রী সেই প্রচেস্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত”।

খ্যাতি এবং সফলতার শিখরে থেকেও এই ২৬ বছর বয়সী অভিনেত্রী এতটাই সহজ এবং স্বাভাবিক ভাবে নিজেকে ব্যক্ত করেন সবসময়। তার বুদ্ধিমত্তা, অভিনয় প্রতিভা, সৌন্দর্য্য এবং ব্যক্তিত্ব তাকে নিয়ে যাবে আরো উচ্চতায় এমনটাই আশা তার ভক্তদের। জন্মদিনে শুভকামনা রইলো বলিউডের এই সময়ের সেরা দক্ষ অভিনেত্রীর জন্য।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।