আল-আমিনরা নেক্সট লেভেলে যেতে পারছে না কেন?

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে গতকাল সেঞ্চুরি করেছেন আল আমিন। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ৯৮ বলে ১১১। ৮ চার, ৪ ছক্কা। আমার যতটা ভালো লেগেছে, তার চেয়ে বেশি জেগেছে আক্ষেপ। এই ছেলের এখন জাতীয় দলে বা আশেপাশেই থাকার কথা!

দারুণ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান, ব্যাটিং দারুণ স্টাইলিশও। যখন নিজের সেরা ছন্দে থাকে, জাতীয় দলের কয়েকজন ব্যাটসম্যানকে বাদ দিলে স্পিনের বিপক্ষে দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের ছোট্ট তালিকা করলেও রাখব তাকে। স্পিনে তাঁর কবজি, তাঁর ফুটওয়ার্ক, আলতো ব্যাটে খেলা, এসব দারুণ।

২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০১৬ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৬৭২ রান করেছিলেন। অফ স্পিনে ১৬ উইকেট। আমার আক্ষেপের কারণ, যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার ডেভেলপমেন্ট ততটা ভালো হয়নি। চেয়েছিলাম আরও ভালো করুক। প্রতি মৌসুমেই অমন দাপুটে পারফরম্যান্স থাকুক। আলোচনার জন্ম দিক। কিন্তু ততটা ধারাবাহিক হতে পারেননি।

এইচপিতে নিয়মিতই ছিল। ‘এ’ দলে খেলেছে। টুকটাক ভালো পারফরম্যান্স ছিল। ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৪০ বলে ৬৭ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিল, যে দলের বোলিং আক্রমণ ছিল আাসলে ওদের জাতীয় দলেরই। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলের দুয়ারে কড়া নাড়তে পারেননি।

২০১৬ লিগে ওর খেলায় মুগ্ধ হয়ে একটি ইন্টারভিউ করেছিলা,। কথা শুনে আরও ভালো লেগেছিল। বলেছিল যে চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার হতে চায়। কিন্তু এখনও সেটির প্রতিফলন পড়েনি ডেভেলপমেন্টে।

সময় শেষ হয়ে যায়নি। বয়স কেবলই ২৫। অনেক কিছু দেখানোর সুযোগ সামনে আছে। কিন্তু যেটা বললাম, ডেভেলপমেন্ট দেখতে চাই আরও।

অনেক আশা ছিল, এমন অনেকের ডেভেলপমেন্ট নিয়েই খানিকটা হতাশা আছে আমার। কাল আল আমিনের সেঞ্চুরির ম্যাচে ৩৬ রান করা জাকির হাসান, ৮৫ রান করা সাইফ হাসানও আছেন এই তালিকায়।

জাকিরও দারুণ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান, মোটামুটি ভালো কিপার, অসাধারণ ফিল্ডার। প্রতিভার ঝলক মাঝেমধ্যেই দেখায়, সেটিকে ধারাবাহিকতার আলোতে রূপ দিতে পারছে না। সাইফকে নিয়ে বেশি আশা ছিল টেম্পারামেন্টের কারণে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের মূল ঘাটতি যেখানে, সেই টেম্পারামেন্টই ছিল সাইফের সবচেয়ে বড় সম্পদ। ভেবেছিলাম, টেস্ট দলের ভবিষ্যত ওপেনার।

ভাবনা বদলায়নি। তবে ওদের ডেভেলপমেন্টের গতিটায় মন ভরছে না। বলছি না যে জাতীয় দলে এখনই খেলতে হবে। কিন্তু অনবরত কড়া নেড়ে তো যেতে হবে! উন্নতির ছাপ আরও রাখতে হবে, প্রচুর রান করতে হবে, যেখানেই সুযোগ হোক, ইনিংস খেলতে হবে নিয়মিত।

সেই ক্ষুধা ও তাড়না দেখতে চাই। ওদের মতো প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানরা নিজেকে পরের পর্যায়ে নিতে না পারলে যতটা ক্ষতি ওদের, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি দেশের ক্রিকেটের।

– ফেসবুক পেজ থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।