জিমে গিয়ে না বুঝে ওজন ওঠানোর কোন মানে হয়না

রাতে আপনার শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিশ্রামে থাকে একমাত্র আপনার পাকস্থলী ছাড়া। সেই পাকস্থলীতে আপনি যদি ইচ্ছেমত খাবার ভরে ঘুমাতে চলে যান, তাহলে বাকিসব অঙ্গ বিশ্রামে থাকলেও পাকস্থলী বেচারার অবস্থা খারাপ হয়ে যায় সারারাত ধরে এতসব খাবার হজম করতে করতে। আবার সকালে উঠেই আপনি সকালের নাস্তা খান!

একে তো সারারাত আপনার পাকস্থলী কাজ করল, এর উপরে আপনি সকালে উঠেই তাকে আবার কাজ দিয়ে দিলেন- তাহলে আপনিই বলেন এরপরেও আপনি কীভাবে সুস্থ থাকার আশা করেন? কারণ সবকিছু তো এই পেটের উপরেই নির্ভর করছে! পেটে অশান্তি দেখা দিলে আপনার সারা শরীরেও অশান্তি দেখা দিবে।

খাবার পরিপাক করতে আমাদের পাকস্থলির ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাগে। এই কারণে আমি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে ৭ টার ভেতরে ডিনার করে ফেলি। হাস্যকর লাগতে পারে অনেকের কাছে কিন্তু এটা সত্য। এরপরে নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার ভেতরে আমি বিছানায়। আর ততক্ষণে আমার ডিনার অলরেডি হজম হয়ে গিয়েছে।

সিক্স প্যাক বা এইট প্যাক অ্যাবস নিয়ে আমি কখনও মাথা ঘামাই নি। আপনি কখনোই রাতারাতি অ্যাবস বানাতে পারবেন না। কয়েক মাসেও না। এটা অসম্ভব। কেউ বানিয়ে থাকলে তাকে শরীরের ভেতরে অনেক কিছু নিয়ে এরপরেই এটা বানাতে হয়েছে তানাহলে এটা কিছুতেই সম্ভব না। আর আমি স্টেরয়েড, পাউডার, প্রোটিন বার, প্রোটিন শেক খেয়ে এই ধরনের শরীর বানাতে পারব না, দুঃখিত।

আমাকে যদি ক্যারেক্টারের প্রয়োজনে সত্যিকারে এইট প্যাক অ্যাবস বানাতে হয়, তাহলে আমাকে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে তিন বছর শুধু রাতে আর দিনে জিম করতে হবে, তাহলেই হয়ত এইট প্যাক অ্যাবস সম্ভব, এছাড়া না। প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমি শরীর চর্চা করছি, এতদিনে আমার জাস্ট নরমাল একটা সিক্স প্যাক আছে। কারণ আমি আর্টিফিশিয়াল কোন কিছু করি না। আমি কোন ধূমপান করি না, মদ খাই না।

যারা ব্যায়াম করেন আবার সিগারেট ও খান, তাদের দেখলে আমি খুবই আহত হই। এতে ব্যায়াম করার সুফলটা তারা পান না। এমনিতেই আপনি ধূমপান করে আপনার ফুসফুসটাকে ঝাঁজরা করে দিচ্ছেন, এরপরে উপরে ব্যায়ামের সময় সেই ফুসফুসে আরও প্রেসার পড়ছে – কীভাবে পারেন নিজের উপরে এত অত্যাচার করতে?

যারা আপনাকে বলে তিন মাসে বা ৬ মাসে বা এক বছরে এত প্যাক অ্যাবস বানিয়ে দিবেন, তারা আসলে মিথ্যা বলেন। আপনার টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য ধান্দা এটা জাস্ট। বিশ্বাস করুন এভাবে হয়না, যেটা হয় সেটা টিকে না, উল্টো আপনার পরবর্তী জীবনে এমনকি আপনার সেক্স লাইফেও সেটা ভয়াবহ ভোগান্তি ডেকে আনে।

জিমে গিয়ে না বুঝে ওজন ওঠানোর কোন মানে হয়না। ওজন উঠাতে হলে নিজের শরীরের ওজন উঠান! গাছে চড়েন, সাঁতার কাটেন, বাস্কেটবল খেলেন- সেটা হচ্ছে নিজের ওজন নিয়ে কাজ করা। শর্টকাটে কিচ্ছু হয়না, পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। আপনার শরীর সৃষ্টিকর্তার তৈরি অমূল্য সম্পদ- একে স্টেরয়েড দিয়ে ধ্বংস করবেন না প্লিজ। আর কিছু করতে না পারলে হাঁটুন, প্রচুর হাঁটুন। এটা চমৎকার একটা ব্যায়াম।

মিষ্টি আমার খুবই পছন্দের যদিও খুব একটা খাই না। যেদিন প্রচণ্ড ইচ্ছে হয় মিষ্টি খাওয়ার সেদিন আমি এক ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করি যেটা কিছুটা মিষ্টি, সেটা দিয়ে দাঁত মেজে ঘুমাতে যাই আর নিজেকে বলি – এইতো মিষ্টি খাওয়া হয়ে গেছে আজকে!

__________

কথাগুলো বলেছেন বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।