তাঁর আঙুলের ইশারায় নাচে বক্স অফিস

বলিউডের ‘খিলাড়ি’ একজনই, তিনি অক্ষয় কুমার। প্রায় ২৮ বছর আগে ১৯৯১ সালে ‘সুগন্ধ’ সিনেমা দিয়ে রূপালী পর্দায় অভিষেক হয় তার। শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা অক্ষয় কুমারের ঝুলিতে রয়েছে ৩২ টি ক্লিন হিট।

শুরুটা নায়ক হিসেবে করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্ষয় নিজেকে বদলে ফেলেছেন পুরোদমে। আর এই বদলে ফেলাটাই তাঁর ট্রাম্পকার্ড। অক্ষয় নিজেকে ‘পরীক্ষা’য় ফেলছেন বারবার, চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন। তিনি বিভিন্ন ধারার সিনেমা হাতে নিচ্ছেন, এবং সফলও হচ্ছেন। সিনেমাগুলোতে তিনি এখন আর ঠিক নায়ক নন, আসলে গল্পগুলোই নায়ক। আর তাতে পূর্ণতা আনছে অক্ষয়ের স্টারডম। এসবের মধ্য দিয়ে নিজেকে তিনি নিয়ে যাচ্ছেন অন্যরকম উচ্চতায়।

অক্ষয় কুমারের স্টার পাওয়ার টের পাওয়া গিয়েছিল ২০০৭ থেকে ২০১০ সময়কালে। এসময় তার বেশ কিছু ছবি প্রথম দিনেই বক্স অফিস মাতিয়ে দেয়। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সিং ইজ কিং’ ছিল রেকর্ড ওপেনার। ‘কামবাখত ইশক’, ‘ফির হেরা ফেরি’ এ দুটো মুভিও প্রথমদিনেই রেকর্ড পরিমাণ দর্শক টেনেছিল।

বর্তমানে ফিরে আসা যাক। অক্ষয় কুমার ২০১৫ সালের পর কোন ফ্লপ মুভি উপহার দেননি। প্রায় তিন বছর। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে রিলিজ হয় ‘সিং ইজ ব্লিং’। সেই শুরু, আজ অবধি টানা হিট নায়ক হয়ে আছেন নতুন অক্ষয় কুমার। যিনি নায়কের চেয়েও এসব ছবিতে চরিত্রাভিনেতাই বেশি।

‘সিং ইজ ব্লিং’ সিনেমার পর অক্ষয় টানা হিট ছবি দিয়ে গেছেন। ‘এয়ারলিফট’, ‘হাউজফুল ৩’, ‘রুস্তম’, ‘জলি এলএলবি ২’ এবং ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ ছিল পরপর হিট ছবি। এরপর মধ্যমমানের হিট ছবি হালের ‘প্যাডম্যান’। ছবিটি তেমন হিট না হলেও কোন পরিবেশক টাকা হারায়নি, টাকা উঠে এসেছে ছবিটির। অক্ষয়ের ছবিগুলো ব্লকবাস্টার হিট না হলেও এমন হিট হয়েছে যাতে তার উপর আস্থা রাখা যায় চোখ বুঁজে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বর্তমান সময়ের অক্ষয়ই সবচেয়ে সফল অক্ষয় কুমার।

অক্ষয়ের হাতে এরপর বেশকিছু বড় বাজেটের ছবি আসে। সেগুলো হল – গোল্ড, রোবট সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তি ‘২.০’, ‘কেসারি’ ও ‘মিশন মঙ্গল’। এই চারটি ছবিও ব্যবসায়িকভাবে সফল। শুধু সফলই নয়, প্রতিটা ছবিই পৌঁছৈ গেছে শতকোটির ক্লাবের। আর এর মধ্য দিয়ে সবার অগোচরেই অনন্য এক রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন আক্কি। অক্ষয় কুমার হলেন সে সকল বিরল অভিনেতার একজন যারা পরপর দশটি হিট ছবি উপহার দিয়েছেন।

অক্ষয়ের শেষ ১০ টি ছবির বক্স অফিস হিসাব-নিকাশ

  • এয়ারলিফট – ১২৯ কোটি রুপি
  • হাউজফুল ৩ – ১০৭.৭ কোটি রুপি
  • রুস্তম – ১২৭.৪৯ কোটি রুপি
  • জলি এলএলবি ২ – ১১৭ কোটি রুপি
  • টয়লেট: এক প্রেম কথা – ১৩৩.৬ কোটি রুপি
  • প্যাডম্যান – ৭৮.৯৫ কোটি রুপি
  • গোল্ড – ১০২ কোটি রুপি
  • ২.০ – ১৮৬ কোটি রুপি
  • কেসারি – ১৫২ কোটি রুপি
  • মিশন মঙ্গল – ১৮৩ কোটি রুপি

হিসাব তো দেখা হলো, এবার নিজেই বিচার করুন অক্ষয় কুমার কোন পর্যায়ের সিনেমার নায়ক। খানদের সাম্রাজ্যে বিচরণ করা গুটিকয়েক সফল অভিনেতার একজন এই অক্ষয় কুমার। রেকর্ডের জন্য শুধু নয়, সুস্থধারার ছবির জন্য হলেও অক্ষয়ের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বাকি ছবিগুলো সফল হওয়া দরকার। সে সফলতা হবে তার পরিশ্রমের পারিশ্রমিক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।