অক্ষয়-টুইঙ্কল: স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হওয়া প্রেম

অক্ষয় কুমার বলিউডে নিজের ক্যারিয়ারের গোড়ায় ছিলে পুরোদস্তর অ্যাকশন নির্ভর নায়িকা। অথচ, বাস্তবে তার মতন নারীমোহন ও রোম্যান্টিক কাউকে খুঁজে পাওয়াটাই ছিল মুশকিল।

অ্যাকশনের গণ্ডী ভেঙেচুড়ে অক্ষয় সিনেমায় এখন যেমন কমেডি করেন, অ্যাকশন করেন, আবার সামাজিক ইস্যু নিয়েও কাজ করেন। ‘খিলাড়ি’ খ্যাত এই অভিনেতার চেয়ে সব্যসাচী অভিনেতা এখন বলিউডে আর নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে টুইঙ্কল খান্না বলিউডের পাট মেলা বছল আগেই চুকিয়ে ফেলেছে। তিনি এখন বিখ্যাত ব্লগার, ডিজাইনার, লেখক ও প্রযোজক। তিনি হলেন অক্ষয়ের সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্যের মূল পাওয়ার হাউজ।

খুব দারুণ ভাবে এই দম্পতি নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের মধ্যে একটা ভারসাম্য ধরে রাখেন। আর এটাই তাদের করেছে অনন্য। সব জুটিই তাই অক্ষয়-টুইঙ্কল হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

বলিউডের সিনেমায় প্রায়ই একটা কথা বলা হয়। কিছু কিছু জুটি নাকি রীতিমত স্বর্গে বানানো হয়। অক্ষয় আর টুইঙ্কল হলেন তেমনই একটি জুটি।

অক্ষয়ের জীবনটা এর আগে ছন্নছাড়াই ছিল বলা যায়। শিল্পা শেঠি, রাভিনা ট্যান্ডন-সহ অনেকের সাথেই তাঁর ‘ওপেন-সিক্রেট’ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কোনোটাই পূর্ণতা পায়নি।

তাঁদের সম্পর্কের শুরুটাও খুব সিনেম্যটিক। ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের জন্য মুম্বাইয়ে জ্যায়েঠ শেঠের সাথে ফটোশ্যুট ছিল অক্ষয় আর টুইঙ্কলের। সেখানেই ইন্টারন্যাশনাল খিলাড়ি প্রেম পড়ে যান টুইঙ্কলের। একদম প্রথম দেখায় প্রেম। সেই প্রথমদিনের ছবিটা নাকি আজো নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন অক্ষয়।

অক্ষয় বরাবরই নন, তিনি টুইঙ্কলের বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং তার ব্যক্তিত্বটাকে ভালবাসেন। একদম প্রথম পরিচয়ের দিনেও এই কথাটাও সত্য। দু’জনের বিয়ের গল্পটাও অদ্ভুত। ২০০০ সালের কথা। টুইঙ্কল খান্নার হাতে বড় একটা ছবি ছিল। আমির খানের বিপরীতে ‘মেলা’। তিনি অক্ষয়কে বলে রেখেছিলেন ‘মেলা’ ফ্লপ হলেই বিয়ে করবেন।

নিয়তির কি খেলা!

অনেক হাইপ তুলেও মেলা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। আর তাতেই অক্ষয়-টুইঙ্কলের বিয়েটাও হয়ে গেল। দিনটা ছিল ২০০১ সালের সাত জানুয়ারি। মজার ব্যাপার হল বিয়েতে হাজির ছিলেন মাত্র ৫০ বছর। সারাজীবনের প্লে-বয় ইমেজ ভেঙে অক্ষয় এভাবে হুট করে বিয়ের পিঁড়িতে বসে যাবেন, সেটা ওই সময়ে ভাবাই যেত না।

সেই অভাবনীয় ব্যাপারটাই অবশেষে ঘটলো। বাকিটা তো ইতিহাস!

এই দম্পতিকে প্রায়ই বলিউডের ‘পাওয়ার কাপল’ বলা হয়। একদিকে যেমন এখানে টুইঙ্কলের মস্তিষ্ক আছে, আরেকদিকে আছে অক্ষয়ের পরিশ্রম। এই দুইয়ের মিশ্রনে তাঁরা হয়েছেন অনবদ্য। আজকের যুগেও তাদের বাড়ির অন্দরমহলের খবর গণমাধ্যমে খুব সামান্যই আসে।

তাদের জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে মুখরোচক কোনো খবর হয় না। আর হলেও, দু’জন এমন ভাবে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন  যে খোদ গণমাধ্যমই পালিয়ে বাঁচে।

এই সম্পর্কের রহস্যটা কি? অক্ষয়ের ভাষায়, ‘টিনা (টুইঙ্কল) আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সকালে ঘুম থেকে উঠে পাশে পাবার জন্য সেরা মানুষটি হলেন আমার স্ত্রী। আমি যখন পড়ে যাই তখন ও আমাকে টেনে তুলে, আমি যখন আকাশে উড়ি তখন আমাকে মাটিতে নামায়। আমি কষ্টে থাকলে ও হাসে, বেকার বসে থাকলে গজগজ করে। টিনা আমার জন্য সবকিছু। ও আমার জন্য আমার জীবনের বাস্তবতা।’

সত্যিই, আক্ষরিক অর্থেই এটা স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হওয়া প্রেম!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।