বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর কষ্ট বুকে চেপেছিলেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক

মাঠে তাঁর ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে সবাইকে। তাঁর হাসির সারল্য ও প্রগাঢ় ক্রিকেট মস্তিষ্ক করেছে অভিভূত। তবে, অনেকেরই হয়তো জানা নেই অপরাজিত ৪৩ রান করে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেয়া অধিনায়ক আকবর আলী তার বোনের মৃত্যুতে কাতর ছিলেন।

অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপের সুচি নিয়ে আকবর যখন ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটাচ্ছিলেন তখন জমজ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন তার একমাত্র বোন। তবে ঘটনাটি গোপন রাখা হলেও ভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনে যান আকবর।

ঘটনাটি জানতে পেরে বাংলাদেশ অধিনায়ক তার এক ভাইকে ফোন করে জানতে চান কেন তাকে এই মর্মান্তিক দু:সংবাদটি জানানো হয়নি। এর সঠিক কোন জবাব তারা দিতে পারেননি। পরে তিনি তার বাবা মোহাম্মদ মোস্তফাকে ফোন করে একই প্রশ্ন করেন। তিনি নিজের আবেগকে দমন করে ছেলেকে বলেন ক্রিকেটের প্রতি মনোযোগ দিতে।

এ যন্ত্রনাকে সঙ্গী করেই বাংলাদেশ দলকে গুরুত্বপুর্ন সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের বৈতরনী পার করে দিয়েছেন আকবর। বোন হারানোর মানষিক যন্ত্রনাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। ওই যন্ত্রনা এতটুকু সময়ের জন্যও তাকে টলাতে পারেনি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পথ থেকে।

শিরোপা জয়ের পর আনন্দ ও বেদনার মিশ্র একটি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে আকবরের জন্মস্থান রংপুরে। আকবরের বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের একদিন আগে আমরা আমাদের একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি। চার ছেলের বিপরীতে সেই ছিল আমাদের একমাত্র মেয়ে। আকবর সবার ছোট হওয়ায় বোনের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিল। তার মৃত্যু সংবাদ আমরা আকবরকে দিতে চাইনি। কিন্তু কারো কাছ থেকে সে ওই খবর পেয়ে যায়। পাকিস্তান ম্যাচের পর সে তার এক ভাইয়ের কাছে জানতে চায় কেন তাকে খবরটি দেয়া হয়নি। আমি তখন তার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।’

আকবর মাঠে অনেক সরব হলেও ব্যক্তিগত জীবনে বেশ চাপা স্বভাবের। নিজের কষ্টটা তিনি বুঝতে দেননি সতীর্থদের। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের মাঝপথেই দেশে ফেরা মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের দুইদিন আগে আপু মারা গেছে। কিন্তু আকবরের পরিবার তখনও তাকে বিষয়টি জানায়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বাসা থেকে ফোন আসে। আমরা সবাই অনেক কান্নাকাটি করেছিলাম। তখন শোকাবহ একটা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল। আমাদের সবার মন খুব খারাপ ছিল। উনি আমাদের বলেছিলেন, এগুলো নিয়ে না ভাবতে, বিশ্বকাপ জেতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই।’

বিশ্বকাপ জয় দিয়েই যেন শোক ভুলতে পেরেছেন আকবর। তিনি এখন স্বপ্নপূরণের আনন্দে বূঁদ হয়ে আছেন। বললেন, ‘স্বপ্ন আমাদের সত্যি হলো। এটা আমাদের গত দুই বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। কোচিং স্টাফদের আমি ধন্যবাদ দেওয়াটা যথেষ্ট মনে করি না, তারা মাঠ ও মাঠের বাইরে আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। বোলাররা আমাদের কাজটা সহজ করে দিয়েছে। যেটা করেছে, সেটা আসলে হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের খুব ভালো একটা অভিজ্ঞতা হলো, তবে এটা তো কেবল শুরু। আশা করছি, এই শুরুর সাফল্যটা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।