বুড়োদের কাঁধেই বলিউডের ভার

সে ‍যুগ অনেক আগেই গত হয়েছে, যে যুগে সিনেমার সাফল্য নির্ভর করতে তারকাদের ওপর। এখন সময় কনটেন্টের, কনটেন্টই এখন কিং। আর গল্পগুলোও এখন কেবল তারুণ্য, প্রেম, প্রতিশোধ, ধনী-দরিদ্রের বিভেদ  – এসব ক্লিশে বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভরশীল নয়।

স্ক্রিপ্ট রাইটাররা এই সময় এমন সব গল্প উপহার দিচ্ছেন, যাতে কেবল মূল অভিনেতা ও সহ-অভিনয়শিল্পীরাই নন, প্রবীনরাও নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। আর বলাই বাহুল্য, খুব কম সময়ই ‘সিনিয়র সিটিজেন’রা হতাশ করছেন নির্মাতা বা দর্শকদের।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন পুরনো অভিনেতাকে নতুন করে আবিস্কার করা গেছে। অনেকদিন ধরে তারা ইন্ড্রাস্ট্রিতে আছেন। তবে, আজকের দিনে তাঁরা কেবল আর নিজেদের ফরমায়েশি চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছেন না, চরিত্রগুলোতে যোগ করছেন নতুন মসলা।

তাঁদের ওপর ভরসার ‍মূল জায়গাটা অভিজ্ঞতা হলেও, এখন তাদের প্রতি নির্ভরতা বাড়ার কারণ হল তারা সব জনরার ছবির যেকোনো ধরণের চরিত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন। সব ঘরানার নির্মাতাদের সাথে কাজ করছেন। নির্মাতারাও এই সুবিধাটা যেমন নিচ্ছেন, তেমনি তাদের পরিচালনায় চরিত্রগুলো হয়ে উঠছে কালজয়ী। নির্মাতারা স্ক্রিপ্টের ভেতরে চলে যাচ্ছেন, প্রযোজকরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

এই তালিকায় সবার আগে আসবে এখন সুরেখা সিক্রির নাম। তিনি ‘বাধাই হো’ ছবির মূল আকর্ষণ ছিলেন। এমন পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রবীন এই অভিনেত্রীকে দর্শকরা যেন নতুন ভাবে খুঁজে পেয়েছেন। পুরোটাই তিনি করতে পেরেছেন অভিজ্ঞতার সুবাদে। কারণ, শুধু ‍ফিল্ম নয় টেলিভিশন ও থিয়েটারের পরিচিত মুখ তিনি।

ছবিতে আরো দুই সিনিয়র অভিনেতা নিনা গুপ্তা ও গজরাজ রাও-এর রসায়ন প্রশংসিত হয়েছে। মূলত ছবিটির গল্পই আবর্তিত হয়েছে এই দু’জনকে ঘিরে। লম্বা সময় ধরে পর্দায় এমন পাওয়ারফুল কোনো জুটিকে দেখা যায়নি। এই জুটি আগামীতে আসছেন ‘গোয়ালিওর’ নিয়ে।

নিনা গুপ্তা ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ ও ‘মুলক’-সহ অনেকগুলো ছবিই করেছেন এই সময়। সামনেই তাঁকে ‘পাঙ্গা’ ও ‘সুরিয়াভানশি’-তে দেখা যাবে। নিনার মতে এটা ভারতীয় ছবির স্বর্ণালী যুগ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি গেল দুই ভাল ভারতীয় সিনেমায় বড় কিছু পরিবর্তন এসেছেন। নতুন ধরণের গলআ, ভিন্ন ধরণের বিষয় নিয়ে কাজ হচ্ছে। ছোট পরিসরে, মাঝারী পরিসরেও অনেক ছবি হচ্ছে। এই ছবিগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে, লেখকদের অর্থায়ন পেতে সুবিধা হচ্ছে। নানারকম বাজেটের ছবি হচ্ছে। ডিজিটাল প্লাটফরম এসেছে। এখন আমার মত মানুষও বেছে ছবি করতে পারে। এটা আক্ষরিক অর্থেই ভারতীয় ছবির স্বর্ণযুগ।’

সীমা পাহওয়া ও মনোজ পাহওয়া

বলিউডে সীমা পাহওয়া ও মনোজ পাহওয়া হলেন বাস্তবের জুটি। দু’জনই চরিত্রাভিনেতা হিসেবে বেশ প্রভাবশারী এখন। সীমা একালে ‘দাম লাগাকে হেইশা’, ‘বেরেলি কি বারফি’, ‘শুভ মাঙ্গাল সাবধান’ ইত্যাদি ছবিতে ভিন্নধর্মী সব মায়ের চরিত্র করেছেন। অন্যদিকে মনোজ ‘মুলক’ ও ‘আর্টিকেল ১৫’ করেছেন, সুনামও কুড়িয়েছেন।

নির্মাতারা এখন আর কেবল শোভা বর্ধণের জন্য নয়, সিনিয়র সিটিজেনদের চরিত্রগুলোকে গল্পের প্রয়োজনেই বেশি স্পেস দিচ্ছেন। বয়স্ক জুটিদের প্রেম দিয়েও ছবি হচ্ছে। তেমনই একটা ছবি হল ‘আঙরেজি মেয় ক্যাহতে হ্যায়’। ছবিতে যশবন্ত বাত্রা কখনোই স্ত্রীর প্রতি নিজের ভালবাসা প্রকাশ করেন না। একদিন নিজেকে পাল্টে ফেলেন, পুরোদস্তর রোম্যান্টিক বনে যান।

ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র মানে যশবন্ত বাত্রার ভূমিকায় থাকা সঞ্জয় মিশ্র বলেন, ‘আমরা হলাম আলু। এটাকে মটরশুটির সাথে ভাল লাগবে, বাধাকপির সাথে ভাল লাগবে, ভাতের সাথে ভাল লাগবে, মাংসর সাথে ভাল লাগবে। হিরোরাদের বাজার ভাল, কিন্তু আমরা হলাম আলু। আমরা আমরা সব কিছুরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।