বিয়ের দু’বছর হল, এখনো আমি ভার্জিন

ফেসবুকে একটা চুমুর ছবি খুব ভাইরাল হয়েছে দেখলাম। অনেকে পক্ষে-বিপক্ষে বলছেন। ভালবাসা, ঘুষ খাওয়া, সমাজ-সংস্কৃতি, ন্যায়-অন্যায় অনেক কিছু আসছে। রোম্যান্স-ভালবাসার সংজ্ঞা আওড়াচ্ছেন অনেকে। আমি না হয়, আমার গল্পটা বলি।

আমি সাধারণের চেয়ে একটু বেশিই সাধারণ একটা মেয়ে ছিলাম। বাবা-মার একমাত্র মেয়ে। আদর-আয়োজনের কমতি ছিল না বাপের বাড়িতে। তবে, একটু বেশিই দেখেশুনে রাখতেন আমাকে। এত কিছুর মাঝে থেকে কখনোই কোনো রোম্যান্টিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।

২০১৬ সালে আমার বিয়ে হয়, বাবা-মার পছন্দে। এটা ছিল বেশ জাকজমক পূর্ণ ছবির মত একটা বিয়ে। সবাই ভেবেছিল, আমাদের দু’জনের জন্মই হয়েছে দু’জনার জন্য। বাকিদের আর কি বলবো, আমিও তো তাই ভেবেছিলাম।

কিন্তু, আমি ভুল ছিলাম। আমাদের মধ্যে কোনোরকম সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। বিয়ের দু’বছর হল, একবারও আমরা চুমু খাইনি, এখনো আমি ভার্জিন।

বিয়ের এক মাসের মাথায় আমি বিষয়টা বাবা-মা’র সাথে শেয়ার করেছিলাম। তাঁরা আমাকে বিশ্বাসই করলেন না! তাঁদের আমি দোষ দেবো না। বাবা-মা হিসেবে বিষয়টা তাঁদের জন্য খুবই স্পর্শকাতর, বিব্রতকর এবং ভুতুড়ে। আর পরিবারটা যদি আমার মত কনজারভেটিভ হয় তাহলে তো আর কথাই নেই।

তাই দিন এগোতে থাকে এভাবেই। এই নিয়ে আলাপ হয়, পরিবার দু’টো মিলিত হয়। একে অন্যকে দোষারোপ করে। ভেতরে ভেতরে জীবনটা আমার জন্য দুর্বিসহ হয়ে উঠছিল।

 

 

আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হল, সবাই আমাকেই দুষলো। সবাই ওই পুরুষ মানুষটার কথাই বিশ্বাস করলো যখন সে বললো, ‘ও খুবই নিষ্ঠুর। ওর কাছে যেতেও আমার ভয় হয়!’

বিয়ের আগে আমার গোটা ২৬ বছরের জীবনে আমি কখনোই খুব এক্সট্রোভার্ট মানুষ ছিলাম না। তবে, কেউ আমাকে এর আগে কখনো ‘নিষ্ঠুর’ বলেনি। তারপরও আমি বিয়ের পর সকল অভিযোগ মুখ বুজে শুনেছি। আমার পরিবার আমাকে বারবার চেষ্টা করে যেতে বলে।

চার পাঁচবার খুব নোংরা লড়াইয়ের পরও আমি সংসার টিকিয়ে রাখার দুরুহ চেষ্টাটা করে যাই। নিজের জন্য না, অন্তত নিজের বাবা-মার মুখের দিকে তাকিয়ে। আমি জানতাম, এই ইস্যুটা তাঁদের জন্য খুবই ‘জরুরী’। যদিও, একটা পর্যায়ে এসে বুঝি আমাকে দিয়ে আর হচ্ছে না।

এমনকি আজো আমাকে শুনতে হয় যে, আরেকটু বেশি চেষ্টা আমার করা উচিৎ ছিল। কিংবা কেউ বলে যে, হয়তো তাঁর আরো সময়ের দরকার ছিল। তবে, আমি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম যে, তাঁর শারীরিক বা মানসিক কোনো চাওয়াপাওয়া নেই। মানুন আর নাই মানুন, এসবের ওপরই তো পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে। যদিও সে বলতো, ‘এটা কোনো সমস্যা নয়, ধীরে ধীরে সব হবে!’ সিরিয়াসলি! বিয়ের দেড়-দুই বছরের পরও আমাকে শুনতে হয় ‘ধীরে ধীরে সব হবে!’

আমি পুরোপুরি ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। শরীর ভেঙে পড়লো। এখনই আমার হাই ব্লাড প্রেশার আছে। মাঝে মধ্যে অ্যাঙজাইটি অ্যাটাক হয়। আমি নিজের ভাবনাতেই ডুবে থাকতাম। কান্নাকাটি করেই আমার বড় একটা সময় কাটতো। মাঝে মধ্যে নেশাগ্রস্থ হয়ে যেতে ইচ্ছা হত। অন্তত তাতে তো সব ভুলে থাকা যাবে।

এখন আমি আর নিজের ওজন নিয়ে ভাবতাম না। ইচ্ছামত যা মন চায় খেয়ে ফেলতাম। আমার ওজন ১০ কেজি বেড়ে যায়। জীবনের মায়াই সম্ভবত হারিয়ে ফেলেছিলাম। অন্য আর ১০ জনের মত আমার বাবা মাও জানতে চাইতেন ‘এরপর কি’, ‘এভাবে থাকলে সমাজ কি বলবে?’, ‘একটু তো শরীরের যত্ন নাও!’

তবে, ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছি। এখন মনে হয়, তাঁকে ছাড়াই আমি অনেক ভাল থাকতে পারছি। বিষয়টা এমন ছিল যে, ওই বদ্ধ জীবন থেকে বের হতে আমি সব কিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের উপমহাদেশীয় সমাজ যতই আধুনিকতার কথা বলুক না কেন তাঁরা আসলে ঐতিহাসিক ভাবেই কনজারভেটিভ। একজন ডিভোর্সি নারীকে তাঁরা সহজে মেনে নিতে পারেননা। বরং, আমরা তাঁদের গসিপের খোড়াক!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।