আফ্রিদি ও অবসর: একটি ভালবাসার গল্প

নিন্দুকেরা বলেন, আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান নাকি বয়স চুরি করেছেন। অথচ, আমরা ছোট বেলা থেকে বড় হতে হতে সব সময়ই শহীদ খান আফ্রিদিকে ‘তরুণ বলে শুনে এসেছি। তিনি ‍দু’ধরণের শিল্পে ‘মাস্টার’। প্রথমটা ডাক মারা, দ্বিতীয়টা অবসর নেওয়া। এই যেমন সদ্যই তিনি ষষ্ঠবারের মত অবসর নিলেন।

বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, আইপিএল, বিপিএল, পিএসএল, টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট এবং আইস ক্রিকেটেও ডাক মেরেছেন এই আফ্রিদি। এমনকি নিজের জন্মদিনেও তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে গিয়ে ডাক মেরেছেন। তাই তার ভক্তকুল ভালোবেসে তাকে বিশ্ব ডাক সম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি মানেন।

ডাক মারাকে তো তিনি অলরেডি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেনই! তাই তার ডাকের কীর্তি নিয়ে আর আলোচনা না করে তার আরো একটি গুণ নিয়ে আলোচনা করি! হ্যাঁ আমরা ডাক সম্রাটের অবসর নাটকের কথায়-ই বলতেছি। আফ্রিদি প্রথম অবসর নাটক শুরু করেছিলেন ২০০৬ সালে। সে বছর ১২ই এপ্রিল টেস্ট থেকে অবসব নেয়ার ঘোষণা। কিন্তু আফ্রিদি তার এই সিদ্ধান্তে দুই সপ্তাহের জন্যও অটল থাকতে পারেননি।

তাই সেই বছরেরই ২৭ এপ্রিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান জানান যে, আফ্রিদি অবসর নিচ্ছেন না! তবে সে অবসর ভেঙ্গে ফিরে আসলেও টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারেন তার প্রথম অবসর ঘোষণার প্রায় তিন বছর পর, ২০১০ সালে। ডাক্রিদি কয়েকটি ম্যাচ খেলার পর সে বছর আবারও টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।

এরপর ২০১১ সালের মে মাসে সে আবারও একই ঘটনা ঘটান। সেবছর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাবার পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাকে ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। এতে হতাশ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন এই ডাক লিজেন্ড। কিন্তু না! তার এই দ্বিতীয় অবসরও বেশি দিন থাকেনি। এই অবসর মাত্র পাঁচ মাস টিকেছিল। পাঁচ মাস পর সে আবারও ওয়ানডে ক্রিকেট চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন এবং ফিরে আসেন।

তারপর যেনো অবসর আর আফ্রিদি সমার্থক শব্দ হয়ে যায়! কেননা ২০১২ সালের শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যর্থ হয়ে তৃতীয় বারের মতো অবসর নেন আফ্রিদি। কারণ হিসেবে জানালেন, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে নতুনদের সুযোগ দিতেই তার এই সিদ্ধান্ত। যেন নতুনরা দলে জায়গা করে নিতে পারেন। তবে কিছুদিন পর জানা গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, শুধু ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি!

তৃতীয় বারের মতো অবসর ভেঙ্গে ফিরে এসে জানিয়ে দিলেন যে, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ।এর পর আর খেলবেন না। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তিনি জানিয়ে দেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরও খেলা চালিয়ে যাবেন।

এতোদিনে অবসরকে হাস্যরসে রুপান্তরিত করা এই ‘ডাক লিজেন্ড’ ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো ঘোষণা দেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর থাকছেন না। তবে বিভিন্ন দেশের ফ্রাঞ্চাইজি লিগে খেলবেন নিয়মিত।

আর শেষটা গতকাল রাত্রে! সর্বশেষ, ২০১৮ সালের ৩১ মে, বিশ্ব একাদশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচের পর আবারো অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ডাকের একচ্ছত্র অধিপতি শাহেবজাদা আফ্রিদি। তবে দুষ্টু লোক গুলো তার এই ঘোষণাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না! কেননা তারা নাকি শিওর আফ্রিদি আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসবেন। আফ্রিদির মতো ক্রিকেটাররা নাকি ডাক মারার জন্য বারবার ফিরে আসেন স্বরূপে।

তবে যে যাহাই বলুক, আমরা আশা করি এটাই তাঁর শেষ অবসরের ঘোষণা হবে না। আবারো অবসর ভেঙে ফিরে আসবেন তিনি। কারণ অবসর ভাঙাকে আরো একধাপ উপরে নিয়ে যেতে আফ্রিদির মতো একজন নিখুঁত শিল্পীকে আমাদের বারবার প্রয়োজন। ফিরতে তাঁকে হবেই।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।