আফিফ ঝলকে পাপ মোচন!

তিনি ভয়ডরহীন ব্যাটিং করেন। রানিং বিটিউন দ্য উইকেট দারুণ। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট চালান। তাই, তো ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেও ব্যাট তুললেন না। উদযাপনটা জমা রেখেছিলেন ম্যাচের শেষের জন্য। শেষ অবধি অবশ্য তিনি ছিলেন না, কিন্তু, তাঁর ২৬ বলে ৫২ রানের ইনিংসে ভর করেই জয় নিশ্চিত হয়। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেই ম্যাচ সেরা হয়ে যান তিনি।

আফিফ আহমেদ ধ্রুব আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছিলেন ধ্রুবতারার মত। খেলেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অভিষেকেই রাজশাহী কিংসের হয়ে পেয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। বিপিএলের ইতিহাসে অভিষেকেই সেটা তখন ছিল সেরা বোলিং ফিগার।

তখন থেকেই তিনি দেশের ক্রিকেটের আগামী দিনের সম্ভাবনা। অনেক দিন ধরেই তিনি পাইপলাইনে আছেন। যুব দল, এমার্জিং দল বা ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন।ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) থেকেও ডাক এসেছিল। জাতীয় দলের ডাকও পেয়েছিলেন আগেই। ২০১৮ সালে সেবার লঙ্কানদের বিপক্ষে অভিষেকটা অবশ্য রাঙাতে পারেননি। সেই আক্ষেপটা ঘুচলো এবার। বোলিংয়ে সুযোগ না মিললেও ব্যাটিংয়ে নিজের শতভাগ উজার করেই দিলেন।

আফিফ এখন জয়ের নায়ক। এই জয় এমন এক জয় যাতে হয়তো আগের সব পাপই যেন মুছে গেল। পাপ খুঁজতে খুব দূরে যেতে হবে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেই আছে বিস্তর পাপের রসদ।

জিম্বাবুয়ে ৬৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়েছিল। সেখান থেকে ১৮ ওভারে ১৪৪ অবধি গেল। আর কোনো উইকেটই হারালো না। রায়ান বার্লের মত অখ্যাত এক ব্যাটসম্যান ৩২ বলে ৫৭ রান করলেন। এর চেয়েও বড় ব্যাপার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের এক ওভারেই তিনি নিলেন ৩০ রান।

চার ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না পেলেও ৪৯ রান হজম করলেন সাকিব। চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে আউট হয়েছিলেন, এবারও তাঁর মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার কোনো ব্যাপার লক্ষ্য করা গেল না। ব্যাটিংয়ে করলেন তিন বলে এক রান। সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম কিংবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও ইনিংসগুলো বড় করতে পারেননি।

মাত্র ৬০ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তখন শোকের মাতম। তখন দৃশ্যপটে এলেন আফিফ। সাথে যোগ হলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৮২ রান তাঁরা যোগ করলেন, মাত্র সাত ওভার চার বলে। তাতে, দুই বল বাকি থাকতে নিশ্চিত হল জয়। জয় আসলেও, লজ্জাগুলো কিন্তু মুছে যায়নি। একটা ম্যাচ, একটা ইনিংস দিয়ে যেন সকল জবাবদিহিতা শেষ না হয়ে যায়!

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।