আগুন পাখির ডানায় ভর

বলা হয়, ফরম্যাট যত ছোট হবে ক্রিকেটে নবীন দলগুলোর সম্ভাবনা ততই জোরদার হবে। টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে যাওয়া আফগানিস্তানকে এখন আর ছোট দল বলা যায় না। আর জিম্বাবুয়ে কিংবা বাংলাদেশের মত দলকে যারা ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে বলে-কয়ে হারায় তাদের আর যাই হোক খর্বশক্তির দল বলা যায় না।

যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন একটু একটু করে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমাকে তাঁরা নিজেরাই ভাঙছে। এই প্রচেষ্টায় নতুন এক দৃষ্টান্তের দেখা মিললো দেহরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে আফগানরা।

তবে, জয় ছাপিয়ে নিজেদের আধিপত্ত স্থাপনের পথে অসংখ্য মাইলফলক ছুঁয়েছেন যুদ্ধবিগ্রহে বড় হওয়া দেশটির ক্রিকেটাররা। তাই, কোনটা রেখে কোনটার কথা বলবো!

এক ম্যাচের যত মাইলফলক

  • টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ: ২৭৮/৩ (আফগানিস্তান)
  • টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি: ২৩৬ (হজরতউল্লাহ জাজাই ও উসমান গনি)
  • এক টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো দলের সর্বোচ্চ ছক্কা: ২২ টি (আফগানিস্তান)
  • এক টি-টোয়েন্টি যে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কা: ১৬ (হজরতউল্লাহ জাজাই – আফগানিস্তান)
  • টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস: ১৬২* (হজরতউল্লাহ জাজাই, আফগানিস্তান)
  • টি-টোয়েন্টির এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রান: ৪৭২ (আফগানিস্তান – ২৭৮ ও আয়ারল্যান্ড – ১৯৪)

এটুকুতেই বুঝে যাওয়ার কথা যে, এটা ছিল রানবন্যার এক ম্যাচ। আক্ষরিক অর্থেই এদিন আফগান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যেন ভর করেছিল দানবীয় এক আগুন পাখি।

আফগান ইনিংসের আগাগোড়া জুড়েই ছিল একটা নাম – হজরতউল্লাহ জাজাই। আফগান প্রিমিয়ার লিগে (এপিএল) এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকিয়ে সুনাম কুড়ানো এই ওপেনার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) খেলে গেছেন। দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু করলেও টুর্নামেন্টের বড় একটা অংশ জুড়ে ছিলেন নিষ্প্রভ। ফলে, বেঞ্চে বসেই বড় একটা সময় পাড় করতে হয় তাঁকে।

যদিও, জাতীয় দলের হয়ে নিজের সুনামটা অক্ষুন্ন রাখলেন তিনি। ৬২ বলে ১৬ টি ছক্কা ও ১১ টি চার – তিনি এখন এই উপমহাদেশের নতুন হিটম্যান। ১৬২ রানের এই ইনিংসটি টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ইনিংস বলে বিবেচিত হবে।

জাজাইয়ের সাথে উসমান গনির ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকানোর প্রয়োজন পড়েনি আফগানদের। স্কোরকার্ডে পাহাড়সমান রান জমা হওয়ার পর বাকিটা সময় ছিল স্রেফ অপেক্ষার। যদিও, ৫০ বলে ৯১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে স্বাগতিকদের বুকে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক পল স্টার্লিং। তবে, সেটা দীর্ঘায়িত হয়নি। ফলাফল, আফগানরা আরেকটি স্মরণীয় জয় পেয়ে যায়। আর তাঁদের স্মরণীয় জয়টি টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেরই অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ বলে বিবেচিত হবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।